মিলন বাসনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুই দিনের মিলন মেলা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ২৭-২-১১ :

সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ভারতের লোকসভার সাবেক এমপি অমিতাভ নন্দী
বার বার আসতে চাই, মিলতে চাই এ দেশের মাঠি আর মানুষের সাথে। ৬০ বছর পর জন্মভূমি মাঠিকে স্পর্শ করে ধন্য হয়েছি। সংরক্ষনের জন্য এক মুঠো মাঠি তুলে নিয়েছি। ভবিষ্যত প্রজন্ম জানবে এ দেশ ছিল আমার জন্মভূমি, আমার পিতা, পিতামহের জন্মস্থান ও কর্মস্থল। কালীকচ্ছের বর্তমান প্রজন্ম আমাদেরকে যে ভাবে স্মরণ করছে তাতে আমি অভিভূত হয়েছি। তাই জন্মভূমি মাঠি ও মানুষের সাথে একত্রিত হয়ে গৌরব বোধ করছি। ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ গ্রামের সন্তান ভারতের লোকসভার একাধিকবার নির্বাচিত সদস্য অমিতাভ নন্দী আবেগাপ্লুত কন্ঠে রোববার এসব কথা বলেন।

‘কালীকচ্ছ সম্মিলনী’ সংগঠনের উদ্যোগে দুই দিনের ‘মিলন মেলা-বন্ধন’ শীর্ষক সম্মেলন রোববার শেষ হয়েছে। স্থানীয় এম এ বাশার আইডিয়াল ইনষ্টিটিউড প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ‘কালীকচ্ছ সম্মিলনী’র বাংলাদেশ অংশের সভাপতি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। ত্রিপুরা বিধান সভার বিধায়ক ওই রাজ্যের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পবিত্র কর বলেন, বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা উল্লাস কর দত্ত ছিলেন কালীকচ্ছ গ্রামের সূর্য সন্তান। তাঁর স্মৃতি বিজড়িত কালীকচ্ছ গ্রামে তাঁর বাড়িটি বাংলাদেশ সরকার অধিগ্রহণ করে সংরক্ষন করলে ভবিষ্যত প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, পশ্চিম বাংলার বিধান নগর পৌর সভার কাউন্সিলর ইলা নন্দী, ডা.পাপিয়া নন্দী, ডা.অশেষ নন্দী, আগরতলার শান্তিব্রত চক্রবর্তী সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম প্রমুখ। সভাপতির বক্তৃতায় জিয়াউল হক মৃধা বলেন, হৃদয় আর মনের আদান-প্রদানের লক্ষ্যেই এ মিলন মেলা। কালীকচ্ছ সম্মিলনী সংগঠনটির উদ্দেশ্য হচ্ছে অতিথিদের সাথে আমাদের বন্ধুত্বের সেতু বন্ধন। এখানে অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই । সম্মেলনে ভারতের শতাধিক অতিথি অংশ নেন। তাঁরা সবাই হেটে হেটে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কালীকচ্ছ গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন।

সম্মেলনে অংশ নেয়া আগরতলার বাসিন্দা সাবিত্রী রাণী রায় (৬৫) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন ‘১৯৬৪ সালে কালীকচ্ছ পাঠশালা থেকে মেট্্িরক পাস করে এ দেশ ছেড়ে ছিলাম। এ দীর্ঘ সময়েও জন্মভূমি কালীকচ্ছ গ্রামটিকে ভুলতে পারিনি। এখন যেতে না চাইলেও বাধ্য হয়ে চলে যেতে হবে। বেঁচে থাকলে বার বার আসতে চেষ্টা করবো। জানা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালীকচ্ছ গ্রামের এককালের অধিবাসীরা যারা বর্তমানে ভারতের পশ্চিম বাংলা, আসাম ও ত্রিপুরায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তারা ‘কালীকচ্ছ সম্মেলনী’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেন। এই সংগঠনের উদ্যোগে ২০০৯ সালে কলকাতায় ও ২০১০ সালে আগরতলায় দু’টি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় সম্মেলন উপজেলার কালীকচ্ছ গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনের সম্মেলন উৎযাপিত হয়েছে।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply