আফ্রিকার ‘মোজাম্বীকে’ জীবন বিপন্ন ৩৫৫ বাঙ্গালীর :পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

কিশোর কুমার, ২৭ ফেব্রুয়ারী :

অর্থ রোজগারের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দেশ দক্ষিন আফ্রিকায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিক ব্যবসা বাণিজ্যসহ শ্রম শক্তিতে নিয়োজিত রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- বাংলাদেশী প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি লোক এর সাথে সম্পৃক্ত। তন্মধ্যে বেশির ভাগ লোক চাঁদপুরের কচুয়া, হাজীগঞ্জসহ ফেনী ও নোয়াখালী এলাকার।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ সরকারের কোন রাষ্ট্রদূত বা কোন দূতাবাস নেই। সরকার আফ্রিকায় কর্মরতদের দেখভাল করলে আরো অধিক সংখ্যক বাঙ্গালীদের কর্মসংস্থানের সুযোগসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ হতো। অথচ ওইদেশে কর্মরতদের দেখাশোনা করার লক্ষ্যে সরকারের তেমন কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি বলে ভূক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। দালালরা বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ট্যুরিষ্ট ভিসা এনে বাংলাদেশ থেকে আফ্রিকায় লোক পাঠায়। এতে দালালদের খপ্পরে পড়া বাংলাদেশীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

এদিকে গত ১২ জানুয়ারি কতিপয় দালাল বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৫৫ জন বাঙ্গালীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্যুরিষ্ট ভিসার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী দেশ মোজাম্বীক দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠায়। অবৈধভাবে মোজাম্বীক সীমান্ত পার হওয়ার সময় পুলিশ তাদেরকে আটক করে। আটককৃত ৩৫৫ জন বাঙ্গালীকে দক্ষিণ আফ্রিকার জেলে কিছুদিন রাখার পর আবার মোজাম্বীক পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সেখানে পুলিশ তাদেরকে একটি পাহাড়ী এলাকার ক্যাম্পে আটক রেখেছে বলে একটি সূত্র দাবী করে। আটককৃতদেরকে অনাহারে রেখে অনেক অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে বলেও ওই সূত্র দাবী করে। ভূক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- দালালরা তাদের আত্মীয় স্বজনদের পাসপোর্টে ট্যুরিষ্ট ভিসার সীল দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠায়। পুলিশের কাছে আটক হওয়ার পর পুলিশ বলে- এই ভিসা জাল।

এদিকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ধামালুয়া গ্রামের অধিবাসী ভূক্তভোগী এরশাদ উদ্দিনের বরাত দিয়ে তার ভাই কচুয়া বাজারের ব্যবসায়ী ও কচুয়া কন্ঠের সম্পাদক হাবিব উল্লাহ জানিয়েছেন- আফ্রিকার সীমান্তবর্তী দেশ মোজাম্বীকের কারাগারে অর্ধাহারে ও অনাহারে অন্তত ৫ বাংলাদেশী মারা গেছে। তার ভাই বোরহানও মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আটককৃত আরেক বাঙ্গালী কান্না ভরা কন্ঠে মুঠো ফোনে বলেন- এখন আমাদের খুবই কঠিন অবস্থা। আর ২/১ টা দিন থাকলে হয়তো না খেয়ে অনেক বাঙ্গালী মারা যেতে পারে। দয়া করে অতি দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ চাই। আফ্রিকায় বাংলাদেশ হাই কমিশনার থাকা সত্ত্বেও ৩৫৫ জন বাঙ্গালীর জীবন বিপন্ন। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপিসহ সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী পরিবার।




Check Also

রিয়াদে জ্যাবের ‘অমর একুশে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রির্পোটার :– “অমর একুশের চেতনায় গন মানুষের মনে জেগে উঠুক উজ্জলতা উৎকৃষ্টতা” শীর্ষক আলোচনা ...

Leave a Reply