বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের মধ্যে ফের সংঘর্ষে :ওসিসহ আহত ১০৮:কোটি টাকার মালামাল লুট

লিটন চৌধুরী,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৭.০২.১১:

জীবনগঞ্জ বাজার থেকে বাড্ডার লোকজন এভাবেই চাল লুট কওে নিয়ে যাচ্ছে
ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রোববার দ্বিতীয় দিনের মত আবারো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও শর্টগানের ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করেছে। রোববারের সংঘর্ষে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রূপক কুমার সাহা সহ ৯জন পুলিশ সদস্য এবং দুই গ্রামের কমপক্ষে ১০৮ জন আহত হয়েছেন।এর মধ্যে বাড্ডা গ্রামের ৭৪ জন,দরিকান্দি গ্রামের ২৫ জন। সংঘর্ষে নবীনগরের বাড্ডা গ্রামের লোকজন ছড়্রা গুলি ছুড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় বাঞ্ছারামপুরের জীবনগঞ্জ বাজারে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ৫০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। লুটপাট হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল।

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ জানিয়েছেন,-‘উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে দাঙ্গা পুলিশ পাঠানো হয়েছে।প্রয়োজনে র‌্যাব ও আর্মড পুলিশ পাঠানো হবে’।

জানা গেছে,বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি গ্রাম ও নবীনগর উপজেলার বাড্ডা গ্রামের লোকজনের মধ্যে স্থানীয় জীবনগঞ্জ বাজারে শনিবার সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শনিবার সংঘর্ষে ৬পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৫৬ জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববারও ওসি সহ ৯ পুলিশ সদস্য আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবারের সংঘর্ষের পর দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আগামী শুক্রবার এ নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল সকাল ১০টার দিকে জীবনগঞ্জ বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক বাড্ডা গ্রামের নয়ন মিয়া, ইদ্রিস মিয়া, ধন মিয়া,সাঈদ মিয়া,মোশাররফ মাস্টারসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে বাড্ডা গ্রামের লোকজন অতর্কিতভাবে জীবনগঞ্জ বাজারে হামলা চালায়। কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই সশস্ত্র লোকজন জীবনগঞ্জ বাজারে দরিকান্দির লোকজনের দোকানপাটে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এক পর্যায়ে দরিকান্দির লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাড্ডা গ্রামের লোকজন কিছুটা পিছু হটে। পরবর্তিতে দুই গ্রামবাসী আবারো সংঘবদ্ধ হয়ে লাটিসোঠা টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় বাড্ডার লোকজন ছড়্রা গুলি ছুড়লে দরিকান্দি গ্রামের অন্তত ১০ জন আহত হয়। তারা হলেন-সেন্টু মিয়া(৪৫),নুরুল ইসলাম(৪০),খুরশিদ মিয়া (৪২),মো.শামীম (২৬),সোহেল মিয়া(২২), আনার হোসনে (২২),পিয়াস মিয়া (১৫),সাদ্দাম(২১),কাজী জুয়েল (৩৫),জলিল মিয়া(৩৫) প্রমূখ।

এদিকে খবর পেয়ে নবীনগর থানার পুলিম প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু দুই পক্ষের সংঘর্ষ ভয়াবহ অবস্থা থামাতে গিয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ অন্তত ৯ পুলিশ সদস্য আহত হন।আহত পুলিশ সদস্য হলেন-নবীনগর থানার ওসি রুপক কুমার সাহা, সলিমগঞ্জ নৌ-ফাঁড়ির পুলিশ ইনচার্জ মো.আসাদুজ্জামান,বাঞ্ছারামপুর থানার এসআই আনোয়ারুল ইসলাম,এসআই কামরুজ্জামান তালুকদার,কৃঞ্চ কুমার দাস, কনস্টেবল সুমন বড়–য়া, আলমগীর হোসেন ,শাহাদাৎ হোসেন,আবদুর রহিম প্রমূখ। এরপর বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর থানার পুলিশ সদস্যরা টিয়ার সেল ও শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তিতে দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে দুই গ্রামবাসীল মধ্যে থম্থমে অবস্থা বিরাজ করছে।

গতকালের সংঘর্ষ সম্পর্কে দরিকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জীবনগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি আবদুল করিম জানান,-‘জীবনগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সেক্রেটারী বাড্ডা গ্রামের নয়ন মিয়ার যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবে, সেখানে সে তা না করে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দিয়েছে। এটা খুবই দু:খজনক’।

অবশ্য নয়ন মিয়া বলেছেন,-‘ পরিস্থিতি তাকে বাধ্য করেছে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে নামতে। তিনি বলেন, বাজারে শুধু বাড্ডা গ্রামের লোকজনই লুটপাট চালায়নি, দরিকান্দির লোকজনও লুটপাট চালিয়েছে’।

জীবনগঞ্জ বাজারের দরিকান্দি বস্ত্রবিতানের মালিক সরাজ মিয়া মেম্বার অভিযোগ করেছেন, তার দোকান থেকে প্রায় সাত লাখ টাকার কাপড় লুট করে নিয়েছে বাড্ডা গ্রামের লোকজন। মান্নান রাইস এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল মান্নান বলেন,-‘তার দোকানে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তার দোকান থেকে সাড়ে আটলাখ টাকার চালের বস্তা ,ক্যাশ টাকা ২লাখ ও দোকানে থাকা অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছে হামলাকারীরার’।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ খান বলেন,-‘বাড্ডা গ্রামের লোকজন খুবই দূর্ধষ,তারা আজকে অহেতুক জীবনগঞ্জ বাজারে দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট,আগুনধরিয়ে বর্বরতার পরিচয় দিয়েছে।পরিস্থিতি বর্তমানে উত্তপ্ত রয়েছে’।

প্রসঙ্গত, শনিবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি-বাড্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী পূর্ব নির্ধারিত ওই অনুষ্ঠান চলাকালে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুপুর দেড়টায় দরিকান্দি ও বাড্ডা গ্রামের যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply