কচুয়ায় কলেজ ছাত্রী অপহরণ : অঙ্গীকারের খাঁচায় বন্দী করে বিচারের নামে প্রহসন করা হচ্ছে

কিশোর কুমার, কচুয়া, ২৬ ফেব্রুয়ারি :

চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার মনপুরা-বাতাবাড়ীয়া নূরুল আজাদ কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী তাহমিনা আক্তার (১৭) কে ফিল্মি ষ্টাইলে অপহরন করে নেয়ার ঘটনার সাথে জড়িতরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে। এছাড়া এ ঘটনার প্রায় ১০ দিন অতিবাহিত হলেও এর সুষ্ঠ সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকার লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অপহরন ঘটনার মীমাংসা করে দেবে মর্মে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মজুমদার মানিক ও ইউপি আওয়ামীলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান দায়িত্ব নিলেও অদ্যাবধি পর্যন্ত এর কোন মিমাংসা করে দেয়নি বা মিমাংসা করার কোন উদ্যোগ ও নিচ্ছেনা বলে তাহমিনার বাবা মজিবুর রহমানের অভিযোগ। তিনি বলেন, মেয়ে অপহরনের ঘন্টা পর পাশ্ববর্তী হাজীগঞ্জ উপজেলার পাতানিশ গ্রামের ফখরুল ইসলামের বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়। চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মজুমদার উদ্ধারস্থলে পৌঁছে তার জিম্মায় মেয়েকে নিয়ে আমার হাতে ও ছেলেকে তার অভিভাবকের নিকট তুলে দেয় এবং শিগগিরই ঘটনার মিমাংসা করে দেবে বলে আমাকে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে তাহমিনা স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ করেছেন- অপহরনকারি আবু হানিফ ও তার লোকজনরা বিভিন্নভাবে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। তাহমিনা ঘটনারসাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও এর সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন।

উলেখ্য যে, অপহরনের শিকার তাহমিনা উদ্ধারের পর তার পিতাসহ ঘটনাস্থলে পৌছা পুলিশের সাথে থানায় আসে। থানায় এসে তাহমিনার পিতার কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মজুমদার মানিক ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ সভাপতি মজিবুর রহমান ঘটনার মিমাংসা করে দেয়ার প্রতিশ্র“তির কথা উলেখ করে থানায় লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে। ওই অঙ্গীকার নামায় থানায় মামলায় করবেনা বলেও উলেখ করে।

কচুয়া থানার এসআই মৃনালকান্তি বড়–য়া জানান- ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুদ্দিন মজুমদার মানিক মিমাংসা করে দেবে মর্মে দায়িত্ব নিলেও এর কোন ফল হয়নি। তাছাড়া মেয়ের বাবা মামলা করবেনা মর্মে অঙ্গীকার নামা দিয়েছে।

এদিকে এ ন্যাক্কারজনক অপহরন ঘটনা অঙ্গীকার নামায় বন্ধী হয়ে যাবে এটা এলাকাবাসী মেনে নিতে পারছে না। এলাকাবাসীর মতে- গুটি কতেক লোকের খেয়াল খুশিমত তাহমিনার অপহরনের বিচার অঙ্গীকারের খাঁচায় বন্দী করে বিচারের নামে প্রহসন করা হচ্ছে। ফলে সমাজে তাহমিনা এখন উচ্ছিষ্ট। এরূপ ঘটনা আরো অপরাধ ঘটনাকে উৎসাহ জোগাবে বলে এলাকাবাসী অভিমত প্রকাশ করছে।

প্রসঙ্গত: গত ১৪ ফেব্র“য়ারী কলেজ থেকে বাড়ী ফেরার পথে বাতাবড়ীয়া নূরুল আজাদ কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী তাহমিনা আক্তারকে একই ইউনিয়নের কাদলা গ্রামের সোলাইমান মিয়াজীর পুত্র আবু হানিফের নেতৃত্বে মিলন, নবীর জোর পূর্বক তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনরা ধাওয়া করে হাজীগঞ্জ উপজেলার পাতানিশ গ্রামের ফখরুল আলমের গৃহ থেকে উদ্ধার করে।




Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply