চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ ৬ পুলিশসহ আহত ৫৬

লিটন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার থেকে ২৬.০২.২০১১ ॥

চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে ৬ পুলিশ সদস্যসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষের শুরু হয় শনিবার দুপুর দেড়টায়। খবর পেয়ে দুই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার নবীনগরের সীমান্তবর্তী বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি বাড্ডা আছমাতুন্নেছা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। পূর্বনির্ধারিত ওই অনুষ্ঠান চলাকালে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুপুর দেড়টায় দরিকান্দি ও বাড্ডা গ্রামের কতিপয় যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। মূহুর্তের মধ্যেই এ সংঘর্ষ বিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে পাশের জীবনগঞ্জ বাজারে। এতে দুই গ্রামের চার হাজারের বেশী স্থানীয় জনগন দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। থেমে থেমে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এতে কমপক্ষে দরিকান্দির ১৯ জন,বাড্ডার ৩১ জনসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে বাঞ্ছারামপুরের জীবনগঞ্জ বাজারের কমপক্ষে ১৫টি দোকানে ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার পুলিশ এবং নবীনগরের সলিমগঞ্জ নৌ-ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। উভয় থানার পুলিশ দীর্ঘ সময় আপ্রানচেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় সংঘর্ষের মধ্যে পরে বাঞ্ছারামপুর থানার এসআই আনোয়ারুল ইসলাম,এএসআই কৃঞ্চ কুমার দাস, কনস্টেবল সুমন বড়–য়া, আলমগীর হোসেন , শাহাদাৎ হোসেন ও সলিমগঞ্জ নৌ-ফাঁড়ির পুলিশ ইনচার্জ মো.আসাদুজ্জামান আহত হন।

বাঞ্ছারামপুর থানা-পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় বাঞ্ছারামপুর থানার ৫পুর্লিশ সদস্য আহত হন বলে জানান তিনি। নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারাও ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজে আহত হন।

জীবনগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নয়ন মিয়া বলেন, দুই গ্রামের লোকজন উত্তেজিত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিন্তু প্রথম দফায় সংঘর্ষেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

দরিকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন শুধুমাত্র বাড্ডা গ্রামের লোকজনের কারণে।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply