ইউনিপেটুইউ মাল্টিলেভেল মার্কেটিং ব্যবসার নামে প্রতারনা :গ্রাহকগন সাবধান

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী,কুমিল্লা থেকে :

বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরে কিছুদিন নীরবে ব্যাবসা করলেও এখন আবার তুরজোড়ে বিভিন্ন হোটেল, সাইবারক্যাফ, মোবাইল দোকানসহ যে কোন স্থানে ফোটপাতের মত পশরা সাজিয়ে সারা দেশে এ প্রতারণার ব্যাবসা করছেন একটি চক্র। আর এ জালে আটকা পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তারা ছুটছেন সোনার হরিণের পিছু। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ কেনার জন্য বিনিয়োগ করছেন কোটি কোট টাকা। ১০ মাসের দ্বিগুণ মুনাফা ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগে মাসে আয় ৪৮ হাজার টাকা। ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগে গ্রুপ ব্যবসায় মাসে আয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে অন্য কথা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ইউনিপে টুইউ এবং ইউনিপে টুইউ লিমিটেড নামে দুই কোম্পানির স্বর্ণ কেনার প্রমাণ মেলেনি কোন। দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে তারা পেশ করেছেন প্রতিবেদন, হিসাব করেছেন ক্লোজড। মামলা চলছে আদালতে। এ লাখ গ্রাহক ইউনিপে টুইউ বাংলাদেশ লিমিটেডের এক লাখ সদস্য রয়েছে বাংলাদেশে। সর্বনিম্ন একজন সদস্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন স্বর্ণ কেনার জন্য। কেউ কেউ অর্ধকোটি টাকাও বিনিয়োগ করেছেন। এভাবে তারা কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ইউনিপে টুইউ’র সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাজারে। তবে স্বর্ণ কিনে তা দেশে আনা হচ্ছে না। ওই স্বর্ণ দেশে আনা হবে না বিদেশে বুলিয়ন মার্কেটে ভল্টে থাকবে। কেবল একজন সদস্যকে দেয়া হবে একটি কাগজের বন্ড। ওই বন্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোন সুযোগ নেই। মানুষ সরল বিশ্বাসে তা নিয়ে বসে আছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, স্বর্ণ কেনার জন্য যারা বিনিয়োগ করেছেন তারা জানেন না- তাদের টাকা দিয়ে কোন স্বর্ণ কেনা হয়নি।

জয়েন্ট স্টক স্বর্ণ কেনাবেচা ও ব্যাংকিংয়ের অনুমতি দিতে পারে না বাংলাদেশ ব্যাংক-এর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বলেন, ইউনিপে টুইউ বাংলাদেশ লিমিটেড যেভাবে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে তা তারা নিতে পারে না। কারণ তারা জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে একটি কোম্পানি লাইসেন্স করেছে। ওই কোম্পানির নাম দিয়ে তারা স্বর্ণ ব্যবসা করছে। জয়েন্ট স্টক কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ কেনার বা ব্যাংকিং করার অনুমোদন দিতে পারে না।

সারা দেশে ১০০ জয়েন্ট

সারা দেশে ২শ’ জনের বেশি এজেন্ট নিযুক্ত করেছে এ কোম্পানি। এজেন্ট হওয়ার জন্য নিয়ম হচ্ছে- প্রথমে তাদের কোম্পানির সদস্য হতে হবে ৮ হাজার ৪শ’ টাকা দিয়ে। এরপর তার একটি এজেন্ট নম্বর হবে। পাসওয়ার্ড দেয়া হবে। এরপর ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে অনলাইনে ডলার কিনতে হবে। ওই ডলার জমা হবে এজেন্টের অনলাইনের অ্যাকউন্টে। সেখান থেকে তিনি ওই ডলার অন্যদের দিতে পারবেন কোম্পানির সদস্য হওয়ার জন্য। বিনিময়ে তিনি কমিশন পাবেন ১ দশমিক ৫০ ভাগ করে। এক লাখ টাকার পরিমাণ ডলারে তিনি ১ হাজার ৫শ’ টাকা কমিশন পাবেন। তার মাধ্যমে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এভাবে যত জন হবেন তিনি তত কমিশন পাবেন। এজেন্টদের আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মাধ্যমে যুক্ত করা হয় বলে ইউনিপে টুইউ’র বাংলাদেশের সূত্র জানায়।

একটি ওয়েবসাইটে সব ব্যবসা ইন্টারনেটে

ওয়েবসাইট দিয়ে এ ব্যবসা চলছে। এই ওয়েবসাইটে ঢুকে তাদের এজেন্টরা ডলার বিনিময় করছেন। একজন থেকে আরেক জনের কাছে ডলার যাচ্ছে। এজন্য নেটে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ পাসওয়ার্ড ও অ্যাকাউন্ট নম্বর। এই ডলার বিনিময়ের বিষয়টি নেটে হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্য কোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের ধরতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, এটা এক ধরনের হুন্ডি ব্যবসা। টাকা হুন্ডি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ধরাটা যত সহজ ডলার হুন্ডি ধরা কঠিন। সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবে ইউনিপে টুইউ’র যে টাকা জমা হয় তার বিপরীতে ওই চক্র আন্তর্জাতিক চক্রের কাছ থেকে ডলার নিয়ে নিচ্ছে। এর জন্য তারা কাজে লাগাচ্ছে ব্যাংকের গ্যারান্টি এবং ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হওয়ার সার্টিফিকেট। বাংলদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, এই কোম্পানি এখন যেভাবে ব্যবসা করছে তাতে আশঙ্কা জাগে- এক সময় এই কোম্পানি পালাতে পারে এ দেশ ছেড়ে। কারণ,তারা টাকার বিপরীতে ডলার নিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কারণে টাকা বিদেশে পাঠাতে না পারায় তারা এখন এই নতুন কৌশলে কাজ করছে।

যাত্রা শুরু

গত বছর অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে ইউনিপে টুইউ-এর কর্মকাণ্ড শুরু হয়। প্রায় এক বছর ধরে গোপনে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে আসছে তারা। এজন্য টার্গেট করেছে বিভিন্ন ব্যাংকের মার্কেটিং বিভাগের কিছু এক্সিকিউটিভকে। তারা কমিশনের বিনিময়ে ইউনিপে টুইউ-এর হয়ে কাজ করছেন। এ কারণে সহজে বিশ্বাস করে টাকা বিনিয়োগ করছেন অনেকে। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরের সদস্য রয়েছে তাদের। পাশা-পাশি রয়েছে এজেন্ট ও মাঠকর্মী। মাঠকর্মীরা গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য নানা লোভ দেখায়। এজন্য তাদের ঢাকার পাঁচতারা হোটেলে একদিন থাকা, খাওয়া কিংবা ডিনার অথবা লাঞ্চ, কক্সবাজারের যাওয়া-আসার ট্রিপসহ নানা লোভনীয় অফার দিচ্ছে। এছাড়াও মেম্বার হলে মালয়োশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে অফার দেয়া হয়। বলা হয়, সেখানে গিয়ে ইউনিপে টুইউ’র অফিস ও কাজও দেখে আসা যাবে। এছাড়াও চাইনিজ রেস্টুরেন্টে তারা নিয়মিত বসছে। এক একজন মাঠকর্মী বা এক্সিকিউটিভ দিনে গ্রাহক করার জন্য আগ্রহীদের সঙ্গে ৮-১০টি অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেন। এর মধ্যে এক একজন গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে তিনজনকে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হন। কেউ কেউ এর বেশিও করেন। ওই কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদুর রহমান, মাঝে মাঝে মোহাম্মদ শহিদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান বলা হয়। ব্যবস্থাপনার পরিচালক মুনতাসির হোসেন।

ব্যাংক হিসাব ক্লোজড, ৩০ কোটি টাকা জব্দ

অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের কারণে তাদের প্রত্যেকেরই ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়াও ইউনিপে টুইড ও ইউনিপে টুইউ বাংলাদেশ লিমিটেডেরও সব হিসাব জব্দ করা হয়েছিল। এর পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি টাকা। এটি মে মাসের ঘটনা। এছাড়াও যে সব হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে সেগুলো থেকে টাকা তোলার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে ইউনিপে টুইউ আইনি আশ্রয় নেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকও আইনিভাবে মোকাবিলা করে। সেখানে কোর্ট তাদের মাসে তিন কোটি টাকা তোলার অনুমতি দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। কোর্ট আপিল গ্রহণ করেছে। শুনানী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ইউনিপে টুইউ ও ইউনিপে টুইউ বাংলাদেশ লিমিটেডের কার্যক্রম স্বচ্ছ নয়। তারা সন্দেহজনক লেনদেন করে। এরপর আমরা অনুসন্ধান শুরু করে তাদের বিরুদ্ধে বিস্তারিত তথ্য পাই। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। তারা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ কেনা ও স্বর্ণ শেয়ার কেনার কথা যে বলছে এটা তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে কোন টাকা আমরা বিদেশে যেতে দিচ্ছি না। তবে এর আড়ালে তারা হুন্ডি ব্যবসা করছে বলে আমরা মনে করছি।


যেভাবে চলছে কার্যক্রম

ইউনিপের টুইউ নিজেদের মালয়োশিয়াভিত্তিক একটি কোম্পানি বলে দাবি করে। বলা হয়, এমএলএম (মাল্পি লেভেল মার্কেটিং) পদ্ধতিতে তারা ব্যবসা করছে। ওয়েবসাইটে নিজেদের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক গোষ্ঠী হিসাবে উল্লেখ করেছে। ভারত, ফিলিপাইন, সংযুুক্ত আরব আমিরাতে তাদের অফিস রয়েছে বলে দাবি করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। গ্রাহকদের প্রস্তাব দিচ্ছে, যে কোন পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করলে ১০ মাসে এর দ্বিগুণ ফেরত দেবে। তাও মাসে মাসে। তবে সর্বনিু ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তাহলে মাসে ২১ হাজার টাকা মূল টাকা ও ২১ হাজার টাকা লাভের টাকা মোট ৪২ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হবে। এখন চলছে বিশেষ অফার, তাতে কেবল ২ লাখ ১ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেই একজন গ্রাহক মাসে মাসে পাবেন ৪৮ হাজার টকা। সদস্য ফি লাগবে ৮ হাজার ৪শ’ টাকা। ওটি আবার মালয়োশিয়ায় যাওয়ার জন্য ১২০ ডলার হিসেবে ইন্টারনেটের অ্যাকাউন্টে জমা হবে। ইউনিপে টুইউ হাতিরপুলে মোতালেব প্লাজায় ‘লেভেল ৬-এ রুম নং ৫-সি, ৮/২ পরীবাগ, হাতিরপুল, শাহবাগ’- এ ঠিকানায় অফিস খুলে বসেছে। সেখানে তাদের দু’টি রুম রয়েছে। একটি রুমে সাইনবোর্ড রয়েছে। সেখানে কেউ বসেননা। ম্যানেজমেন্টের সবার জন্য রুম রয়েছে। ফুল ফার্নিশ করা। তবে তারা কেউ নেই। তারা এক রকম পলাতক। কারণ, তাদের আজ পর্যন্ত কোন কাস্টমার দেখার সুযোগ পায়নি। নেই তাদের কোন ছবি। নেটেও তাদের কোন ছবি পাওয়া যায় না। ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে। ওখানে সব রুমই ফাঁকা। রিসিপশনে কেবল একজন আছেন। ওই রুমের পাশেই রয়েছে আরও একটি রুম। সেখানে কোন সাইনবোর্ড নেই। সেখানে একজন মহিলা রিসিপশনিস্ট আছেন। তিনি সবার ফোন রিসিভ করেন এবং সব সমস্যার সমাধান দেন। ওখানে রুমের ভেতরে বসেন কয়েকজন। তবে সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ। কেবল তাদের মনোনীত ব্যক্তিরা যেতে পারবেন। পিন কোড দিয়ে দরজা আটকানো থাকে। সাধারণ মানুষদের কেউ সদস্য হতে গেলে তাদের তেমন কোন তথ্য দেয়া হয় না। বলা হয়, আপনি যার মাধ্যমে এখানে এসেছেন তার সঙ্গেই কথা বলুন। অন্য কেউ কথা বললে না- এটাই এখানে নিয়ম। আর দু’জন আইনজীবীর নাম বলা হয় তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য।

চেয়ারম্যান এমডি পরিচালক আসেন না

সেখানকার একজন জানান, তাদের এমডি, চেয়ারম্যান, পরিচালক অফিসে আসেন না। ইন্টারনেটে সব দেখেন। সেখানেই তারা সব নিয়ন্ত্রণ করেন। টেলিফোন করেন। তাদের সঙ্গে দেখা করা যাবে না। তারা কখনও অফিসে এলেও পাঁচ মিনিটের বেশি থাকেন না। তারা সব সময় ভিআইপিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তবে কেউ দেখা করতে চাইলে বলা হয় তারা বিদেশে আছেন।

সদস্য করলেই পাবেন ২১ হাজার টাকা

ওই কোম্পনির কোন সদস্য অন্য একজনকে সদস্য করলে তিনি পাবেন ২১ হাজার টাকা। যেদিন সদস্য করবেন এর পরদিনই তাকে টাকা দেয়া হবে। এছাড়াও কেউ ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে গ্র“প করে ব্যবসা করতে পারেন। এই জন্য তিনি মাসে পাবেন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এত লাভের কারণে সেখানে ছুটছে মানুষ। কয়েকজন এজেন্ট বলেছেন তারা সদস্য করার জন্য ডলার বিক্রি করে যে লাভ পাচ্ছেন তাতেই অনেক। এক সদস্য বলেন, তিনি ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন মাসে ভাল টাকা আয় করছেন। ভাবছেন ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেবেন।


হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

ইউনিপে টুইউ বাংলাদেশের একটি সূত্র জানায়, মানুষ বুঝে গেছে এত দ্রুত কোন ব্যবসায় এত টাকা পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য অনেকে শেয়ার ভাঙিয়েও এই ব্যবসায় খাটাচ্ছেন। টার্গেট দশ মাসে টাকা দ্বিগুণ করার বিরাট সুযোগ। অল্প সময়ে তারা অভাবনীয় সাড়া পেয়েছেন। তাদের এখন মার্কেটে এক হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে।

এর আগেও কোম্পানির এমডি হায় হায় কোম্পানি করেছিলেন

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ইউনিপে টুইউ বাংলাদেশ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনতাসীর হোসেন এর আগেও নিউওয়ে নামের একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন। এর আগের তিনি নিজেই ব্যবসা খুলে বসেন। জিজিএন নামে একটি কোম্পানি তিনি খুলেছিলেন। ওই সময়ে তার কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময়ে সরকার জিজিএন-এর কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়। পরে তিনি আবার নিউওয়ে কোম্পানি করেন। এখন আবার খুলেছেন ইউনিপে টুইউ কোম্পানি বাংলাদেশ নাম দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, এখনকার কোম্পানির টাকা জমা দেয়া ও স্বর্ণ কেনার একটি কাগজ ছাড়া কোন কিছুই কাগজে হয় না। সব তাদের ওয়েবসাইটে হচ্ছে। তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গেলে বা বন্ধ করে দিলে মাথায় বাজ পড়বে এক লাখ বাংলাদেশীর। তখন এদের কাউকে আর খুঁজে পাবেন না তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, তারা যে কোন সময়ে তাদের কোম্পানির সার্ভার বন্ধ করে দিতে পারে।




Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply