তাহেরা বানুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে বিচার চেয়েছে তার সন্তানরা

লিটন চৌধুরী,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১৭.০২.১১ :
ব্রাহ্মবাড়িয়ার অষ্টগ্রামের তাহেরা বানু (৬৫) কে পুড়িয়ে হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে হত্যার বিচার চেয়েছে তার সন্তানরা। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এই দাবী জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে তাহেরা বানুর পুত্র হাজী আবদুল লতিফ, মাহফুজুর রহমান, কন্যা জোসনা বেগম ও তাদের আইনজীবী ইসমত আরা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে তাহেরা বানুকে পূর্ব শত্র“তার জের ধরে নিজ বসতঘরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ বা অন্য কোন উপায়ে হত্যা করে খাটের উপর লাশ রেখে কেমিক্যাল জাতীয় দাহ্য পদার্থ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। এ ব্যাপারে আদালতে তাহেরা বানুর বড় পুত্র হাজী আবদুল লতিফ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আদালত তদন্তক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় প্রেরণ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১২ই জুন একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশের পুড়ে যাওয়া কয়লা ও পোড়া হাড় উত্তোলন করে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। ঐ রিপোর্টে কেমিক্যাল জাতীয় দাহ্য পদার্থে লাশ পোড়ানো হয়েছে মর্মে কোন মন্তব্য উল্লেখ না করে আলামতে বিষ পাওয়া যায়নি মর্মে রিপোর্ট দিয়েছে। যা সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পরবর্তীতে সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসামীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলাটি নিয়ে নানা রকম টালবাহানা করে। ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহেরা বানুকে ধূমপানে আসক্ত একজন নারী হিসেবে আখ্যায়িত করে আগুনের সূত্রপাত ধূমপান থেকেই হয়েছে বলে উল্লেখ করে গত ১৫ ডিসেম্বর আদালতে মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। পরে মামলার বাদী তাহেরা বানুর বড় পুত্র হাজী আবদুল লতিফ মামলার চূড়ান্ত রিপোর্টের বিরুদ্ধে গত ৪ জানুয়ারি আদালতে নারাজী পিটিশন দেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে মামলার বাদী জানান, তাহরো বানু কখনোই ধূমপান করতেন না। তিনি একজন ফরহেজগার মহিলা ছিলেন। পুলিশ ১৬১ ধারায় বাদীপক্ষের লোকজনের জবানবন্দী না নিয়ে আসামীপক্ষের লোকজনের জবানবন্দী নেয়। আসামীপক্ষ খুনের মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন হুমকী দেয়। শুধু তাই নয়, তাদের ভয়ে বাদী ও তার আত্মীয়রা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মামলার আসামী ছেতু মিয়াকে গোপন স্থানে সরিয়ে রেখে বাদী ও আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা দিয়েছে। এই মামলাও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। আসামীরা তাদের বাড়িঘরে একাধিকবার হামলা করে লুটপাট, ভাংচুর সহ ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে তাহেরা বানুর সন্তানরা তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply