নাঙ্গলকোটে দুই পীরের দ্বন্ধের অবসান॥ মুরিদানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নাঙ্গলকোট থেকে ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :
সম্প্রতি মৌকারা দরবারের পীর নেছারউদ্দিনের অসামাজিক কার্যকলাপ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় তিলিপ দরবারের পীর রুহুল আমিন সাহেবের সাথে দ্বন্ধ দেখা দেয়। এক পীর অন্য পীরের বিরুদ্ধে বিশেদাগার করতে থাকে। পীর নেছারের সমর্থকগণ প্রচার করতে থাকে মাওঃ রুহুল আমিন কে থানা জমিয়তে হিযবুল্লাহর সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়ার কারনে মাওঃ রুহুল আমিন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কুমিল্লার মাওঃ কাদেরকে বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে বুক করে পীর নেছারের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়। মাওঃ রুহুল আমিনের সমর্থকেরা প্রচার করতে থাকে পীর নেছারকে মাওঃ কাদের তার স্ত্রীর সাথে অসামাজিক কাজে হাতে নাথে ধরে এতে পীর রুহুল আমিনের কোন দোষ নাই। এমনকি এও বলতে থাকে পীর নেছার সম্পূর্ণ কৌশলে মৌকারার মরহুম পীর সাহেব থেকে জোর করে খেলাফত লিখিয়ে নেয়। মুলত পীর নেছার পীরের উপযুক্ত নয়। পরবর্তীতে মৌকারা মাসিক মাহফিলে পীর রুহুল আমিনকে দোষী করে বিভিন্ন রকম বক্তব্য প্রদান করা হয় যাহা অনেকের জানা আছে। বক্তব্যের পর রুহুল আমিনের সমর্থকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে পীর নেছারের অপকর্মের সংবাদ পত্রের কপি বিভিন্ন জায়গায় বিলি করতে থাকে। এর পর পীর নেছার বানোয়াট প্রতিবাদ দিয়ে সমর্থকদের মাধ্যমে বিলি করতে থাকে। দীর্ঘদিন দুই পীর একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম কথা বলতে থাকে । এবং একে অপরের সাথে কথা পর্যন্ত বলেন না। এজন্য তারা পরস্পর পরস্পরকে দোষারূপ করে এবং তাদের মুরিদরা স্ব-স্ব পীরের পক্ষে অবস্থান নেন।

এই সমস্ত কর্মের কারনে দুই পীরের দাওয়াতের ব্যাপক ধসনামে। তাই ধস মোকাবেলার জন্য বিবেদ ভুলে স্বার্থের জন্য

হঠাৎ গত ১০ই ফেব্র“য়ারী ২০১১ রোজ বুধবার দুই পীর আবার পুরোনো বন্ধুত্ব স্থাপন করে। একে অপরের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অপপ্রচার করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এবং ১২ই ফেব্র“য়ারী ২০১১ রোজ শুক্রবার কুমিল্লা এক জরুরী মিটিং করে। দুই পীরের বন্ধুত্ব পুনো স্থাপনের পর দুই পক্ষের মুরিদেরা বিভিন্ন রকম মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। উনারা কিছু দিন এক সাথে চলেন আবার আলাদা হয়ে যায়। উনাদের বাড়ীই ঠিক নাই মানুষকে কি হেদায়েত করবে। দুই পীরেই নিজ ভাইদের সাথে বিন্দু মাত্র মিল নেই কারনটা কি? যারা নিজের বাড়ী সামলাতে পারেন না, তারা সমাজ কিভাবে সামলাবে? তারা কি করে হাদিয়ে কইম হতে পারে এমন প্রশ্ন সর্বমহলের। এবং তাদের থেকে মানুষ কি শিক্ষা নেবে।

শেষ পর্যন্ত দুই পীর মিলে ছারছীনা পীর সাহেবকে কি সমালোচনার পাত্র করে তুলতে চায়? অথচ তাদের কারনেই সারসীনার পীর সাহেব খুব অস্বস্তি প্রকাশ করেন এবং কুমিল্লা জেলার সকল সফর (দাওয়াত) গ্রহণে অসম্মতি প্রকাশ করেন। এজন্য তিনি বিগত ৭-৮ মাস ধরে অত্র জেলায় আগমনে বিরত থাকেন। সারসীনার পীর সাহেবের এমন মনোভাব কে অনেকেই মোবারক বাদ জানান। কিন্তু বর্তমানে নাঙ্গলকোটের দুই পীরের ঐক্যতানে সকলের মনে সন্দেহের উদ্রেক সৃষ্টি হয়েছে, সারসীনার পীর সাহেব কেবলা কি ঐ দুই পীরের কৌশলের ফাঁদে বন্ধী হতে যাচ্ছেন? ছারছীনার পীর সাহেব এই দুই পীরের ফাঁদে নিজেকে জড়িয়ে ফেলবেন নাকি ফাঁদ উপেক্ষা করে চলবেন সেটিই এখন দেখার বিষয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ভক্ত মুরিদান প্রতিবেদকের নিকট মন্তব্য করলেন “ তিলিপ মৌকরা ভাই ভাই-শুধু মাত্র টাকা চাই।”

সর্বশেষ জন মন্তব্যে জানা গেছে অন্যান্য বছরের ন্যায় ফেব্রুয়ারী মাসে কুমিল্লা জেলার কয়েকটি প্রোগ্রাম এবং মৌকারা দরবারের ফিকষ্ট তারিখে ১-২ মাস মাহফিল হচ্ছে না। এটাই যে সারসীনা পীর সাহেবের সঠিক অনুভুতি এবং কঠোর পদক্ষেপ, তা সকলেই বলে বেড়াচ্ছেন।

ইতিমধ্যে মৌকারা পীর ও তার পুত্রের নানা অপকর্ম এবং নাঙ্গলকোটের দুই পীরের কাঁদা ছোঁড়া ছুড়ি এবং বর্তমানে স্বার্থপর দুই পীরের কোলাকুলিতেই উভয় পীরের মুরিদানদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উভয় পীরের মুরিদানরা তাদের পীর এবং তাদের অপকর্মের সহযোগীদের কঠোর সমালোচনা করছেন। বর্তমানে তা নাঙ্গলকোট তক অবধী উপজেলা হয়ে গেছে।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply