ধর্মীয় ভাবগামম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালিত

সাকলাইন যোবায়ের :

ধর্মীয় ভাবগামম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশের ন্যায় বুধবার কুমিল্লায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে কুমিল্লার বিভিন্ন দরবার শরীফ, মাজার শরীফ, পাড়া-মহল্লা, মসজিদ-মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচী পালন করে। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উৎযাপন কমিটির উদ্যোগে কুমিল্লা টাউনহলে মিলাদ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা দারোগা বাড়ী মাজার শরীফে ভক্ত ও আশেকানদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কুমিল্লা শহরতলির শাহপুর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা গাউছে জামান হযরত মাওলানা শাহ্ সূফি সাইয়্যেদ আবদুস্ সোবহান আল ক্বাদেরী (রাঃ) এবং হযরত শাহ্ নূরুদ্দীন আল ক্বাদেরী (বন্দী শাহ্ বাবা) (রাঃ) মাজারে ভক্তরা জেয়ারত করতে আসে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষ্যে শহরের মসজিদ গুলোতে মুসল্লিরা নফল নামাজ ও এবাদত বন্দিগিতে ব্যাস্ত থাকেন এবং মসজিদ গুলোতে আলোক সজ্জা করা হয়।

এদিকে নবীজীর জন্ম দিবস পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষ্যে আরেফে রাব্বানী শাহ্ আবদুস্ সোবহান রিসার্চ সোসাইটি কুমিল্লায় তিন দিন ব্যাপি ব্যাপক কর্মসূচী পালন করে। কর্মসূচীর মধ্যে ছিল নবীজীর প্রেমে উদ্বেলিত একটি বিশাল বর্ণাঢ্য জসনে-জুলুসের র‌্যালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা টাউনহলে সমবেত হয়। রাত ব্যাপি রিসার্চ সোসাইটির কুমিল্লাস্থ প্রধান কার্যালয়ে কোরআন তেলাওয়াত, খতমে ক্বাদেরী, নবীজীর বৈচিত্রময় বর্ণাঢ্য জীবনের উপর আলোচনা, মিলাদ-মাহফিল, জিকির-আসকার, দরুদ শরীফ পাঠ, কাসিদা পরিবেশন, সালাতুস সালাম এবং বাদ ফজর মাহফিলের আখেরী মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন রিসার্চ সোসাইটির পরিচালক মোহতারাম হযরত রুহুল আমিন সাবের সোবহানী আল-ক্বাদেরী। সোসাইটির উদ্যোগে সদস্যদের ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধির নিমিত্তে দু’টি গ্রুপে বিভক্ত করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার সিনিয়র গ্রুপে ১ম স্থান অধিকার করে গোলাম সিরাজুম মুনিরা মামনুন, ২য় স্থান অধিকার করে গোলাম যোবায়ের, ৩য় স্থান অধিকার করে কানিজ ফাতেমা জাকিয়া এবং জুনিয়র গ্রুপে ১ম স্থান অধিকার করে সুফিয়া মুকাররম নিশাত, ২য় স্থান অধিকার করে সাবিনা আক্তার, ৩য় স্থান অধিকার করে রাইসুল ইসলাম বাপ্পি। দিনটি ছিল সরকারী ছুটির দিন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষ্যে জেলখানা ও হাসপাতাল গুলোতে ভাল খাবার পরিবেশন করা হয়। কুমিল্লা প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে কলেমা শরীফ খচিত পতাকা দিয়ে সাজানো হয় ও দিবসটিকে কেন্দ্র করে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া গুলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচার করে এবং প্রিন্ট মিডিয়া গুলো বিশেষ ক্রোড় পত্র প্রকাশ করে।




Check Also

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...

Leave a Reply