কুমিল্লায় বিগত বছরে ১৭৬ টি হত্যাকান্ড

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু,কুমিল্লা :

কুমিল্লায় আইন শৃঙ্খলার অবনতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অবনতির তালিকায় দীর্ঘ হচ্ছে হত্যাকান্ড। প্রতি বছরই বাড়ছে হত্যার সংখ্যা। কিছু আলোচিত হয়ে উঠে, কিছু হত্যাকান্ডের ঘটনা মাটি চাপা পড়ে যায়। এসব হত্যাকান্ডের পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা চোঁখে পড়লেও সময়ের সাথে সাথে সবই বিবর্ণ হয়ে পড়ে। নিহতের পরিবার মামলার জন্য থানায় গেলে কখনো অপেক্ষা করতে হয় উপরের নির্দেশের, কখনোবা পুলিশের বলা কথা লিখতে হয় মামলার বিবরনে। প্রকৃত হত্যাকারী আড়াল করতে অনেকের নাম বাদ দিতে কৌশলে চাপ প্রয়োগ করে থানা পুলিশ। আবার কখনো পুলিশের পক্ষ থেকে সমঝোতা প্রস্তাব দেয়া হয়। আড়াল থেকে যায় হত্যাকারী সেই সব অপরাধীরা। এভাবে প্রতিনিয়ত জেলাজুড়ে অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ছে হত্যাকান্ড। বিগত ২০১০ সালে জেলায় সর্বমোট হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় ১৭৬ টি। জেলার ১৬ টি উপজেলার সর্বাধিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় জেলা সদরের আদর্শ উপজেলায় ৩৪ টি। বিগত বছরের নভেম্বরে সর্বাধিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় ২৪ টি। পুলিশের পক্ষ থেকে যদিও বলা হয় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক কিন্তু সংঘটিত অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি প্রমান করেছে। তবে হত্যাকান্ডের অধিকাংশই সংঘটিত হয় গুপ্ত হত্যা।

বিগত ২০১০ সালের জানুয়ারীতে ১১ টি, ফেব্র“য়ারী ১০টি, মার্চ ১১টি, এপ্রিলে ২২ টি, মে মাসে ১৩ টি, জুনে ২২ টি, জুলাই ১২ টি, আগষ্টে ১৪ টি, সেপ্টেম্বরে ১৫ টি, অক্টোবরে ১৩ টি, নভেম্বরে ২৪ টি এবং ডিসেম্বরে ৯ টি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।

বছরের প্রথম হত্যা কান্ডটি ঘটে ৪ জানুয়ারী এবং সর্বশেষ হত্যাকান্ড টি ঘটে ২৬ ডিসেম্বর। বিগত বছরের ৩ জানুয়ারী দেবিদ্বারের জয়পুর গ্রামে একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হয় আলাউদ্দিন (১০) নামের এক স্কুল ছাত্রের লাশ। ৪ জানুয়ারী শহরের ষ্টেশন রোড এলাকার বাগিচাঁগাও গ্রামে আবুল হাসেমের পুত্র ছাত্রলীগ কর্মী এলিনকে সন্ত্রাসীরা গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ২২ জানুয়ারী নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের প্রবাসী ইউনুস মিয়ার শিশুপুত্র (৬) তানভিরের লাশ বাড়ি সংলগ্ন একটি ডোবা থেকে উদ্ধার হয়। ২৮ জানুয়ারী চট্রগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি কভার্ডভ্যান ছিনতাই করে সশস্ত্র দূবৃত্তরা হেলপারকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। ৭ ফ্রেব্র“য়ারী লাকসাম উপজেলার পশ্চিমগাঁও ছালেপুর রাস্তার পার্শ্বে ধান ক্ষেতে সাইদুল হক (৬০) নামের এক বৃদ্ধের হাত-পা বাধা লাশ পাওয়া যায়। সন্ত্রাসীরা তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। ১৫ ফেব্র“য়ারী বুড়িচং উপজেলার বাড়াইল গ্রামে দুবাই প্রবাসী সন্তোষসূত্র ধরের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী দিপালী (৩০) কে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা হত্যা করে লাশ রান্নাঘরে ঝুলিয়ে রাখে। ২৮ ফেব্র“য়ারী ব্রাক্ষণপাড়ার কান্দুঘর গ্রামে থেকে অজ্ঞাত (৫০) ব্যক্তির লাশ উদ্ধার হয়। ৪ মার্চ দেবিদ্বারের পৌর এলাকাধীণ উত্তরভিংলা বাড়ি এলাকার রজ্জব আলী মাষ্টারের বাড়ি থেকে আনোয়ারা বেগম (৪০) নামের এক বিধবা মহিলার লাশ উদ্ধার হয়। তাকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল। ১২ মার্চ হোমনা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মোসলেম উদ্দিন সরকার (৩০) কে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তার চিৎপুর নামক গ্রামে উপজেলা সদর থেকে ফেরার পথে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করে। ১৭ মার্চ হোমনার শ্রীমদ্দি এলাকার একটি ফসলী জমি থেকে অজ্ঞাত নামা (৩৫)মহিলার মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার হয়। ধর্ষনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ১৮ই মার্চ শহরের টমছমব্রিজ এলাকার শীষমামার মাজার সংলগ্ন এলাকায় ক্যাডারদের অতর্কিত ছুরিকাঘাতে খুন হয় সুমন নামের এক যুবক। ৫ এপ্রিল লাকসামের কান্দিরপাড় ইউনিয়নের আমুদা ফসলের মাঠে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা শ্বাসরোধে অজ্ঞাত (২৫) যুবককে হত্যা করে পালিয়ে যায়। ২৫ এপ্রিল দেবিদ্বারের ছুবিল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর পুত্র মোঃ ফরিদ (৫০) কে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বাড়ির পাশে খালে ফেলে পালিয়ে যায়। ২৬ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা রেলওয়ে ষ্টেশনে যাত্রাবিরতীকালে তুর্ণানিশিতা আন্তঃনগর ট্রেনের একটি বগির ছাদ থেকে অজ্ঞাত যুবকের মৃত দেহ উদ্ধার হয়।

৩ মে মুরাদনগরের ধামঘর ইউনিয়নের নহলগ্রামের অন্ধবৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন ওরফে ঝাড়–মিয়ার (৭৫) লাশ বাড়ি সংলগ্ন একটি গাছ থেকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার কর্ াহয়। উল্লেখ্য, অন্ধঝাড়–মিয়া কারা সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারতেন না। ২০ মে সদর দক্ষিণ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে আমেনা বেগম (৫০) নামের এক মহিলাকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা গলাকেটে হত্যা করে বাড়ির সামনে খড়েরস্তুপের নিচে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। ৬ জুন শহরতলীর চানপুর এলাকায় গোমতী নদী থেকে সোহাগ (২০) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। তার শরীরের মাথা ও ঘাড়ে বেশ ক’টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ২১ জুন সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজারখোলা এলাকা থেকে লুৎফুন্নাহার (৬০) নামের এক মহিলার গলাকাটা লাশ উদ্ধার হয়। ২৫ জুন তিতাস উপজেলার কালাচানবিলে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত (২০) এক যুবতীর গলিত লাশ উদ্ধার হয়। পরে লাশের ছবি দেখে নিহতের মা তাকে শনাক্ত করে। ওই অজ্ঞাত যুবতীটি ছিল মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের ছয়ফুল্লাকান্দি গ্রামের নাদিয়াতুল রেহান মর্জিনা। নিহতের প্রেমিক বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন শেষে বন্ধুদের সহায়তায় হত্যা করে। ৬ জুলাই দেবিদ্বারের বড়কামতা গ্রামের শিবমন্দিরের পুকুরে ভাসমান অবস্থায় বিকৃত অজ্ঞাত (২৫) যুবকের লাশ। ১৬ জুলাই সদর উপজেলার তেলকুপি বাজার এলাকায় অজ্ঞাত নামা (২৫) এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার হয়। ১৭ জুলাই সদর উপজেলার পাচথুবী ইউনিয়নের সামারচর গ্রামে রেজিয়া বেগম (৫৫) নামের এক মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয় শয়ন কক্ষ থেকে। ২৭ জুলাই মুরাদনগরের মেটাংঘর গ্রামে যৌতুকের জন্য প্রান দেয় গৃহবধু শারমিন (২২)। ২৯ জুলাই দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ বাজারে খুন হয় দোকান কর্মচারী আবু ইউসুফ (২৫)। অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করে লাশ ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়কের উত্তর-পূর্ব পার্শ্বের পানিতে ভাসিয়ে দেয়। ২৫ আগষ্ট সদর উপজেলার বালুতুপা থেকে উদ্ধার হয় অজ্ঞাত (৩৫) মহিলার লাশ। ৩১ আগষ্ট শহরের ধর্মসাগরের দক্ষিণ পূর্ব কোণ থেকে উদ্ধার হয় অজ্ঞাত (২২) যুবকের লাশ। ১০ সেপ্টেম্বর শহরের কেন্দ্রস্থল টাউনহলের পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার পেরুল গ্রামে ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে প্রান হারায় অজিত বরন রায়। ১১ সেপ্টেম্বর মেঘনার বরকান্দা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে খুন হয় হুমায়ন নামের এক যুবক। ২৪ সেপ্টেম্বর হোমনার কাশিমপুর এলাকার একটি কবরস্থান থেকে হীমাংশু সূত্রধর (২৬) নামের এক হিন্দু যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর শহরের রেইসকোর্স এলাকায় জামায়াত নেতার প্রতিষ্ঠিত মালিকানাধীন সেবা হসপিটালে ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় প্রান হারায় ব্রাক্ষণপাড়া বেড়াখাল গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক সাইদুল ইসলাম। ২ অক্টোবর দেবিদ্বারের রাজামেহের ইউনিয়নের গাংটিপাড়ায় ছেলের লাঠির আঘাতে প্রান হারায় মা জাহানারা বেগম। ঘাতক ছেলের নাম মোশারফ হোসেন, সে স্থানীয় যুবদলের প্রভাবশালী নেতা। ৫ অক্টোবর হোমনা পুলিশ হোমনা দুলালপুর সড়কের পাশে বাগমারা গ্রামের বিল থেকে হাত-পা বাধা গলায় ফাঁস লাগানো উলঙ্গাবস্থায় সাইদুর রহমান (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে। ২২ অক্টোবর মুরাদনগরের বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের বেনিখোলা গ্রামের রাস্তার পাশে অজ্ঞাত মহিলার লাশ উদ্ধার হয়। ২৫ অক্টোবর বরুড়ার চিতড্ডা ইউনিয়নের ভাংগুয়া গ্রাম সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজার দায়ের কুপে খুন হয় চাচা জয়নাল আবেদীন (৩০)। ৩১ অক্টোবর শহরের সদর হাসপাতালে রোডের মনোহরপুর এলাকায় গৃহকর্মী জেসমিন (১৪) নামের এক কিশোরীর লাশ ইশ্বরপাঠশালা স্কুলের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়।

৫ নভেম্বর সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের পাকামোড়া থেকে অজ্ঞাত (৩০) যুবকের লাশ উদ্ধার হয়। লাশের মুখ, দু হাতের কব্জি ঝলসানো এবং হাটু ও মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ৬ নভেম্বর লাকমাসের পশ্চিমপাড়া সাহাপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হয় হয় ছাত্রলীগ কর্মী জাকির হোসেন। ৭ নভেম্বর বরুড়ার ছোটতুলাগাও গ্রামের আব্দুল মমিন (৬৫) খুন হয়। জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যায় মমিন ড্রাইভার উপজেলার পরানপুর বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে একই উপজেলার বাকই ইউনিয়নের আশুরা গ্রামে পৌছলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা পিছন থেকে তাকে ছুরিকাঘার করে পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ১২ নভেম্বর চান্দিনার নুড়িতলা এলাকায় পূর্ব শত্র“তার জের ধরে দু’;পক্ষের সংঘর্ষের সময় লাঠির আঘাতে প্রান হারায় আবেদা খাতুন(৭০) নামের এক বৃদ্ধা। ২০ নভেম্বর তিতাসের বাতাকান্দি থেকে মাছিমপুরগামী একটি সিএনজি অটোরিক্সার ভাড়া কমদেয়া নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে যাত্রীর চুরিকাঘাতে খুন হয় সিএনজি চালক আব্দুল করিম। ২০ নভেম্বর মুরাদনগরের নহল চৌমূহীন একটি ধার ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ২০ নভেম্বর দাউদকান্দির গৌরীপুরে দুস্কৃতিকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রান হারায় তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের নজির আহমেদের ছেলে কোরবান আলী (৩০)। ২৪ নভেম্বর লাকসাম উত্তরদা ইউনিয়নের রামারবাগ গ্রামের একটি ডোবা থেকে হারিছ উদ্দিন (৩) নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। ৪ ডিসেম্বর মুরাদনগরে ডাকাতি করে পালানোর সময় ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকায় ডাকাতদের বহনকরা মাইক্রোবাসটি উল্টে যায়। এসময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে ডাকাতদল গুলি ছোড়ে। এতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করে আটক করে গনপিটুনী দিয়ে হত্যা করে। ১৩ ডিসেম্বর নাঙ্গলকোর্ট বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের কানকিট হাট সড়কের বানিয়াপাড়া নামকস্থানে ফেনির সদর উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের আহছান উল্লাহর ছেলে সিএনজি চালক আব্দুর রহিমকে (৩২) অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা হত্যা করে হাত-পা বেধে পালিয়ে যায়। ২৬ ডিসেম্বর নাঙ্গলকোট পৌরসভার খান্নাপাড়া মাজার সংলগ্ন স্থান থেকে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাম হাতেরতালুতে ক্ষত বিক্ষত চিহ্ন ছিল।




Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply