তিতাসে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ নোট বই

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সর্বত্রই সরকারী আদেন উপেক্ষা করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বই বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিস্ফল হতে চলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের মেধার বিকাশ ঘটাতে এবং লেখাপড়ার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করতে সকল স্তরের নোট বা গাইড বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু এক শ্রেণীর লাইব্রেরী ব্যবসায়ী এবং সিন্ডিকেটের কারণে সরকারের সে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি বাজার, গাজীপুর বাস ষ্টেশন, বাতাকান্দি বাজার, মাছিমপুর বাজার, আসমানিয়া বাজারের প্রায় ২০টি লাইব্রেরী রয়েছে। এ সব লাইব্রেরীতে অনেকটা প্রকাশ্যে হাসান বুক ডিপো, পপি লাইব্রেরী, জুপিটার, লেকচার, পাঞ্জেরীসহ বেশ কিছু প্রকাশনীর গাইড বই বিক্রি হচ্ছে যা উপজেলার ৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১টি মাধ্যমিক, ১টি উচ্চ মাধ্যমিক ও ৯টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্রয় করছে। বই ব্যবসায়ীদের মাঝে সিন্ডিকেট গড়ে উঠায় নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্যে বই বিক্রি করা হচ্ছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে বিভিন্ন প্রকাশনী এজেন্ট ও লাইব্রেরীর দোকানের কর্তৃপক্ষের সাথে গোপন চুক্তি রয়েছে। গোপন চুক্তির মাধ্যমে স্কুল শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড বই কেনার নির্দেশ দিচ্ছেন। আর এ কারণেই উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রকাশনীর বই চলছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় কোন কোন শিক্ষকদের দেয়া তালিকা অনুযায়ী গাইড বই কেনা না হলে ছাত্র-ছাত্রীদের ভয়-ভীতি দেখানোসহ নানাভাবে হয়রানি করা হয়। প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকায় এসব নিষিদ্ধ গাইড বই দেদার বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে বাজারে গাইড বই নিষিদ্ধ করা হলেও অভিভাবকরা এদিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেননা। তারা বলছেন স্কুলে পড়াশুনার পরিবেশ সৃষ্টি না হলে ছাত্র-ছাত্রীদের গাইড বই থেকে ফেরানো যাবে না। আইন করে এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে সম্প্রতি এনসিটিবি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কাছে নিষিদ্ধ গাইড বই আটকের ব্যাপারে ডিও লেটার দিলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাই বই বিক্রেতারা অপকৌশলে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন গাইডের নামে নিষিদ্ধ নোট বই।




Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply