ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

এম আহসান হাবীব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রশাসন এখন ছাত্রলীগের হাতে এক প্রকার জিম্মি। শিক্ষক লাঞ্ছনা, শিক্ষার্থী নির্যাতন, বিপরীত গ্র“পের সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষ, ক্যাম্পাস ও হলে আধিপত্য বিস্তারসহ একের পর এক নানা অঘটন ঘটিয়ে চলেছে ছাত্রলীগের একাংশ। প্রশাসন এসব অপকর্মের বিরূদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা বিচারের উদ্যোগ নিলেই নানা ইস্যুতে ক্যাম্পাস অচল করে দিচ্ছে তারা। কোন একটি অঘটনকে ধামাচাপা দিতে অন্য কোন ইস্যুতে আন্দোলনের নামে প্রশাসনের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করছে ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী এই গ্র“প। রাজনৈতিক মদদে এসব ঘটনা ঘটানোর ফলে তাদেরকে নিয়ন্ত্রনে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি শিক্ষকের বাসায় হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী ইলিয়াসের বিচার ঠেকাতেও তারা একই কৌশল অবলম্বন করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ ইলিয়াসকে বহিষ্কারের জের ধরে গতকাল রোববার নামমাত্র ১৬ দফা দাবিতে ৫টি বিভাগের ৬টি ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনালসহ সকল বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ করে ক্যাম্পাস অচল করে দেয় তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৪ জানুয়ারি পরীক্ষায় অবৈধভাবে অধিক নম্বর দিতে অস্বীকার করায় লোকপ্রসাশন বিভাগের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগ স্থানীয় গ্র“পের কর্মী ইলিয়াস হোসেন সবুজ একই বিভাগের শিক্ষক মশিউর রহমানের বাসায় হামলা চালায়। ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকবৃন্দ ভিসির নিকট এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে। এটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পরদিন ২৫ জানুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ১৬ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামে ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্র“প। দুই দিন অচল থাকে ক্যাম্পাস। পরবর্তীতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের ভিত্তিতে ভিসি সকল দাবি মেনে নেন এবং পর্যায়ক্রমে দাবিসমূহ বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করলে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় তারা। এদিকে শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৩ ফেব্র“য়ারি এক জরুরী সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকের বাসায় হামলাকারী ছাত্রলীগ কর্মী ইলিয়াস হোসেন সবুজকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ৬ ফেব্র“য়ারি রোববার আবারো ক্যাম্পাস অচল করে রাখে ছাত্রলীগের ওই গ্র“পটি। বন্ধ হয়ে যায় ৩টি বিভাগের সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষাসহ সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হুঁশিয়ারীতে ওইদিন আন্দোলন প্রত্যাহার করে ছাত্রলীগ। কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায় গতকাল পুরনো দাবিতে ফের ক্যাম্পাস অচল করে দেয় সংশ্লিষ্ট গ্র“প । ফলে বন্ধ হয়ে যায় ৫টি বিভাগের ৬টি ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিভাগের মিডটার্ম পরীক্ষা ও ক্লাস। মূলত ইলিয়াসের বহিষ্কারাদেশ ঠেকাতেই মীমাংসিত ইস্যুতে আবারো আন্দোলনে নেমেছে ছাত্রলীগ, এমনটাই মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানান, নিজেদের কর্মীর বহিস্কার ঠেকাতেই যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে ছাত্রলীগের স্থানীয় গ্র“পের এই আন্দোলন তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, বর্তমান ভিসির নেতৃত্বে যখন ক্যাম্পাস ভালভাবে চলছিল, তখনই ক্যম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে তুচ্ছ ইস্যুতে নির্দিষ্ট গ্র“প আন্দোলনে নেমেছে। এভাবে ইস্যুবিহীন আন্দোলনের নামে ক্যম্পাস অচল করে দেয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

সংঘটিত আন্দোলনকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দাবি করে ছাত্রলীগ নেতা আলআমিন অর্নব বলেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি বাস্তবায়ন না করায় আমরা পুনরায় আন্দোলন করেছি। বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান বলে আমাদের আশ্বস্ত করায় আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে ভিসি ড.আমির হোসেন খান জানান, পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি। আন্দোলনের কারনে সংশ্লিষ্ট ছাত্রের বহিষ্কারাদেশ প্রভাবিত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত যা পরিবর্তনের এখতিয়ার কারো নেই।




Check Also

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি :– বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী ...

Leave a Reply