সরাইলে জুয়ার মহোৎসব ॥ রহস্যজনক কারণে পুলিশ নিরব

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া) :
ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জুয়া খেলার মহোৎসব চলছে। মেলা বা ওরসের নাম দিয়ে কতিপয় ব্যক্তি এ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। বাড়ছে চুরি, ছিনতাই ও সড়কে ডাকাতি। পুলিশের উপস্থিতিতে অনেক জায়গায় জুয়া খেলা হলেও রহস্যজনক কারণে তারা নিরব। অনেক জায়গায় পুলিশকে টাকা দিয়ে জুয়া খেলার অনুমতি নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে ওরসের নামে জুয়া খেলার উৎসব শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানায়, দেওড়া পশ্চিম পাড়া মাওলানা আবদুর রহমানের মাজারে বৃহস্পতিবার থেকে ওরস শুরু হয়েছে। তিন দিনের ওই ওরসে তার ভক্তরা আসতে শুরু করেছে। প্রতিদিন রাতেই বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা। মাজার কমিটি ও গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিদের বাঁধা নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এলাকার চি‎িহ্নত কিছু জুয়াড়ী রাত ব্যাপী জুয়ার আসর চালিয়ে যাচ্ছে। উঁচু গলায় তারা বলছে পুলিশকে বলেই জুয়া বসিয়েছি। ওদিকে পুলিশকে জুয়া খেলার খবর দিলেও তারা নানান তালবাহানা করে ঘটনাস্থলে আসছেন না। দেওড়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন বলেন, দেওড়া গ্রামের দিল¬র আলীর পুত্র সুমন মিয়ার নেতৃত্বে ওরসে জুয়া খেলা চলছে। কোন বাধাই মানছে না সে। পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলে তারা অপরাগতা প্রকাশ করেন। ওদিকে একই রাতে নোয়াগাঁও ইউনিয়নে জলিল শাহ মাজারে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা হয়। জুয়া পরিচালনাকারী আবদুল কাদির বলেন, পুলিশ ও মাজার কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে জুয়া খেলার অনুমতি নেয়া হয়েছে। থানায় ফোন করলে কিছুই হবে না। সম্প্রতি উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ গ্রামে বাউল মেলায় পুলিশের উপস্থিতিতে জুয়া খেলা হয়। ওই মেলায় জুয়ার আসর পরিচালনাকারী আবদুল কাদির বলেন, মেলায় কর্তব্যরত পুলিশকে ৯ হাজার টাকা দিয়ে জুয়া খেলার অনুমতি নিয়েছি। এছাড়াও উপজেলা সদরের আশপাশে নিত্যদিন জুয়ার খেলা চলছে। থানা থেকে মাত্র ৩শ’ গজ দূরে সাহাপাড়ায় চলছে জুয়ার আসর। কালীকচ্ছ নাথপাড়া শশ্মানঘাট এলাকায় স্থানীয় পেশাদার জুয়াড়ী সোহাগ মিয়ার নেতৃত্বে চলছে জুয়ার আসর। এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের সোর্স নামধারী রমজান, সন্তোষ, ফারুকসহ ক’জন লোকের মদদে এ জুয়ার আসর চলছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাষ চন্দ্র সাহা দেওড়া গ্রামে জুয়া খেলা প্রসঙ্গে বলেন, থানায় ও ফাঁড়িতে পুলিশ কম। তারপরও দেখছি কি করা যায়।




Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply