স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পর মা ফিরে পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কবর

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোল্লাপাথর শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থলে ছেলে আবুল কাশেম শিকদারের কবরের পাশে আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে কবরের দিকে তাকিয়ে আছেন বৃদ্ধ মা আবেদা খাতুন (ইনসেটে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম শিকদার)
স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর বৃদ্ধ মা আবেদা খাতুন ফিরে পেয়েছেন তার সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেমের কবর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিতাস উপজেলার কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মরহুম মনিরুল হক শিকদারের দ্বিতীয় পুত্র, তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকারের মামা আবুল কাশেম শিকদার তৎকালীন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এস.সি’র ছাত্র ছিলেন। একঝাঁক নরপশু যখন বাঙ্গালীদের অস্তিত্ব বিলীন ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে নীল নকশা আঁকছিল তখন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীদের ডাকে আবুল কাশেম শিকদার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য ভারতে প্রশিক্ষণের উদ্দ্যোশে চলে যায়। তারপর থেকে তাঁকে আর খোঁজে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর বাংলাদেশের একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোল্লাপাথর সমাধিস্থলের স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করলে হোমনা, কুমিল্লার আবুল কাসেমের নাম জনসম্মুখে চলে আসে। স্বচিত্র প্রতিবেদনের সূত্র ধরে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয় সমাধিস্থলের কর্তৃপক্ষদের সাথে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় কোল্লাপাথর সমাধিস্থলের বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকার ১৭ নম্বর ব্যক্তিটি হোমনার আবুল কাসেম নয় তিনি সাবেক দাউদকান্দি ও বর্তমান তিতাস উপজেলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এম.এস.সি’র ছাত্র আবুল কাসেম শিকদার। বৃদ্ধ মা আবেদা খাতুন যে সন্তানকে হারিয়ে দীর্ঘ চল্লিশ বছর কাটিয়েছেন তাঁর কবরের সন্ধান পেয়ে ছেলে হারানোর ব্যাথাটা নতুন করে অনুভুব করছেন বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, আমার ছেলে দেশের জন্য যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়েছে এটাই আমার সবচেয়ে বড় গর্ব। সম্প্রতি তিনি তার আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে কোল্লাপাথর সমাধিস্থল ঘুরে আসেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুম মনিরুল হক শিকদার ও আবেদা খাতুনের ৬ ছেলে ও ৪ মেয়ের মধ্যে রয়েছেন মরহুম প্রিন্সিপাল এ.কে.এম শহিদুল্লাহ, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম শিকদার, মোসাঃ নাজমা বেগম, মোসাঃ ছাবিদা বেগম, কামাল হোসেন শিকদার, কামরুল হোসেন শিকদার, মোসাঃ খালেদা হক, নাছির আলম শিকদার, মোসাঃ আছমা আক্তার ও সাজ্জাত হোসেন শিকদার।





Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply