সরাইলে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের কান্ড

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এন্তার অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ধনাঢ্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মাদ্রাসার উন্নয়ন, এতিম ছাত্রদের কিতাব, পোশাক ও খাবারের কথা বলে শিশু ছাত্রদের ব্যবহার করে উত্তোলিত নগদ টাকা, ধান, চালসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ মাদ্রাসায় না দিয়ে কৌশলে দীর্ঘদিন যাবৎ নিজেই আত্মসাৎ করে চলেছেন। মসজিদ মাদ্রাসার নাম ভাঙ্গিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া রশিদের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে তিনি হয়েছেন বিত্তশালী। ওই মাদ্রাসার শিক্ষক চলছেন শানশওকতে। তার সকল অনিয়মের অভিযোগে কালীকচ্ছ আল-আরাফাত হাফেজিয়া ও নুরানীয়া মাদ্রাসা কমিটি গত ৭ ফেব্রুয়ারী দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষককে বহিস্কার করেছেন। এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার কালীকচ্ছ আল-আরাফাত হাফেজিয়া ও নুরানীয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক কালীকচ্ছ গ্রামের কেরামত আলীর পুত্র হাফেজ ইদ্রিছ মোহাম্মদ খান দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১০/১২ বছর বয়সের বাচ্চা সংগ্রহ করেন। নিজের তৈরী কম্পোজ করা কাগজ লেমিনেটিং করে বাচ্চাদের গলায় ঝুলিয়ে দেন। ওই বাচ্চাদেরকে দিয়ে তিনি টাকা উত্তোলন করছেন। প্রকৃত পক্ষে এলাকার মসজিদ মাদ্রাসার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এলাকার লোকজন তার অভিনব প্রতারণার কৌশল জেনে গেছেন। সমগ্র উপজেলায় তার অপকর্মকে কেন্দ্র করে চলছে গুঞ্জন। ফুলে ফেপেঁ উঠছেন লোকজন। মসজিদ মাদ্রাসায় কোন টাকা জমা দিলেও নিজের ঘর জলসিয়ে নিয়েছেন আলিশান মার্কা ফার্নিসার দিয়ে। কালীকচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা মো. আলীজান বলেন, ইদ্রিছ ইসলাম বিক্রি করছে। ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাচ্চাদের মাধ্যমে কৌশলে টাকা কামিয়ে যাচ্ছেন। এখানে কোন পাঠাগারের অস্তিত্ব নেই। অথচ এগার বছর যাবৎ ইসলামী পাঠাগারের নাম ভাঙ্গিয়ে ইদ্রিছ ভুয়া রশিদের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হাজী মো. হোসেন আলী বলেন, হাফেজ ইদ্রিছ মাদ্রাসার ছাত্রদের লেখাপড়া শিখানোর পরিবর্তে এলাকায় ঘুরে সাহায্য (অর্থ) তোলার শিক্ষা দিতেছিলেন। কোমলমতি ছোট ছোট শিশুদের বিভিন্ন গ্রামে পাঠিয়ে মাদ্রাসার উন্নয়ন, এতিম ছাত্রদের কিতাব, খাবার ও পোশাক কেনার কথা বলে অর্থ সংগ্রহ করে নিজের স্বার্থ হাছিল করেছেন। হাফেজ ইদ্রিছের ব্যক্তিগতভাবে গড়া শুহাদা ইসলামী পাঠাগারের নামে শিশুদের ব্যবহার করে আনা চাঁদার হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার এসব অপকর্ম প্রমাণিত হলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের উপস্থিতিতে দুর্নীতিবাজ ইদ্রিছকে মাদ্রসা থেকে বহিস্কার করা হয়। মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার মাধ্যমে শিশু ছাত্রদের দিয়ে চাঁদা আদায় করায় প্রতারক হাফেজ ইদ্রিছের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। ওদিকে হাফেজ ইদ্রিছ কালীকচ্ছ ইউনিয়নের অন্যান্য মাদ্রাসার নাম ভাঙ্গিয়েও চাঁদা আদায় করে নিজের স্বার্থ হাছিল করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালীকচ্ছ মদিনাতুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার নামে হাজার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন। ওই মাদ্রসার প্রধান শিক্ষক মাওঃ এরশাদুল ইসলাম বলেন, প্রতারক হাফেজ ইদ্রিছ দীর্ঘ দিন ধরে মহিলা মাদ্রসার নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়াও একই এলাকার আরও ২/৩ টি মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করে চাঁদা তুলেছেন হাফেজ ইদ্রিছ। এলাকার আলেম সমাজ ঠক- প্রতারক, চাঁদাবাজ ইদ্রিছের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। কালীকচ্ছ ইউনিয়ন আলেম সমাজ প্রতারক ইদ্রিছের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের কাছে দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে হাফেজ ইদ্রিছ মোহাম্মদ খান বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে একটি যড়যন্ত্র। আমি যা কিছু করেছি মাদ্রসার উন্নয়ন ও ছাত্রদের জন্য। ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সবকিছুর অবগত আছেন। ওনার সাথে বিষয়টি আমি কিছুদিন পূর্বে মিমাংসা করেছি। তারপরও কেন আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তা আমার বোধগম্য নয়।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply