বাঞ্ছারামপুরে ওসির হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেল পপি

লিটন চৌধুরী,ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১১.০২.১১ :

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে অবশেষে ঠেকানো গেছে একটি বাল্য বিবাহ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার সলিমাবাদ গ্রামে এ বাল্য বিবাহের ঘটনা ঘটার পূর্ব মুহুর্তে ওসি দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করে বিয়েটি ঠেকাতে সক্ষম হন।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সলিমাবাদ গ্রামের প্রবাসী আলম মিয়ার কিশোরী কন্যা পপি আক্তার (১২) এর সাথে একই গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়ার (২০) বিয়ের নির্ধারিত দিনক্ষণ ছিল বৃহস্পতিবার রাতে। বর পক্ষ কনের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে খাওয়া-দাওয়ার পর্বও শেষ করেছিলেন। বাকী ছিল শুধুমাত্র বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। আর তখনই বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আলাউদ্দিন উপস্থিত হন বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে। তিনি বর ও কনে পক্ষের অভিভাবক এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে বিয়েটি বন্ধ রাখার বিষয়ে কথা বলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত উভয়পক্ষ বিয়ে না করানোর ব্যাপারে একমত হলে এ যাত্রায় রক্ষা পায় ১২ বছরের স্কুল ছাত্রী পপি আক্তার।

পপির পারিবারিক সূত্র জানায়, সে স্থানীয় আশ্রাফবাদ নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। নিজের ইচ্ছা না থাকলেও পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ি সে বিয়েতে রাজি হয়েছিল। অন্যদিকে বর সেলিম হচ্ছে পারিবারিকভাবে পপির খালাতো ভাই। আগে থেকেই দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত ছিল তাদের দু’জনের মধ্যে বিয়ে দেওয়ার।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, তিনি স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারেন সলিমাবাদ গ্রামে এক কিশোরীকে বিয়ের পিড়ীতে বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এ খবর পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে যান এবং বিয়ে ঠেকানোর জন্য চেষ্টা চালান। অবশেষে উভয়পক্ষ কে বুঝিয়ে তিনি মেয়েটিকে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন।





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply