ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলা ॥ মুর্তি ভাংচুর ॥ গ্রেপ্তার-১

লিটন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১০.০২.২০১১ :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দাড়িয়াপুরে জোর করে জমি দখল করার ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জিকেস দাস ৫ জনকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা রুজুর পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।গ্রেপ্তারকৃতের নাম শাহেদ হোসেন।মামলার অন্যান্য আসামীরা হলো শাহজাহান মিয়া,জয়নাল মিয়া,সুলতান মিয়া, ফরহাদ মিয়া।

সদর থানার ওসি শাখাওয়াৎ হোসেন জানান মামলায় বাড়ি-ঘর ভাংচুর,ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো:আবদুল মান্নান দারিয়াপুরের ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু পাড়া পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার খোঁজ খবর নেন।হামলাকারীদের বিরুদ্বে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার দাড়িয়াপুরে জোর করে জমি দখল করাকে কেন্দ্র করে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের উপর হামলা করে মুর্তি ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা। সেই সাথে সন্ত্রাসীদের হামলায় একই পরিবারের তিন জন নারী ও শিশু সহ ৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় কানন রানী দাস (৩৫),বলরাম দাস (২৮),শোভারানী দাস কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অপর দুইজন প্রসেঞ্জিত(২৫)এবং পূজা রানী দাস(১০) কে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়। গতকাল বুধবার রাত ৮টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

সন্ত্রাসী হামলার শিকার পরিবারের গৃহকর্তা হারাধন দাস জানান একটি জমির বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসীরা এলোপাথারি হামলা চালিয়ে তার পরিবারের ৫সদস্য কে গুরুতর আহত করে এবং ঘরে থাকা লক্ষী এবং সরস্বতী মূর্তি ভাংচুর করে এবং তার বসত ঘরে অগ্নি সংযোগ করে।খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শকের মো:মাহফুজ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তারা সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে উল্টো তাদেরকেই বেধরক পিটিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্ধা মিনারা বেগম বলেন,পুলিশ আসামীদের পক্ষে প্রভাবিত হয়ে নির্যাতিত পরিবারে সদস্য দের উপর এলোপাথারী হামলা চালানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে পুলিশি ভুমিকায় হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেন।খবর পেয়ে পুলিশ সুপার জামিল আহম্মেদ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।

নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তিনি বলেন হামলার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।পুলিশ প্রভাবিত হয়ে থাকলে তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্বেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে সংখ্যালঘুদের ভয় পাওয়ার কোন কারন নেই।

এ সময় তিনি সন্ত্রাসীদের কঠোর হস্তে দমন করার ঘোষনা দেন। তবে পুলিশ সুপার জামিল আহমেদের এমন আশ্বাসেও স্বস্থি পাচ্ছেন না সংখ্যালঘু পরিবারটি। তাদের অভিযোগ সদর থানার ওসি গাজী মো:শাখাওয়াৎ হোসেন কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এ অভিযোগ প্রসঙ্গে কথা বলতে সদর থানার ওসি কে কয়েক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সন্ত্রাসীদের অব্যহত হুমকীতে সংখ্যালঘু পাড়ায় আতংক বিরাজ করছে। পরবর্তী হামলা এড়াতে সংখ্যালঘু পাড়ায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

অযৌক্তিকভাবে কৃষি কাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী ঘর অগ্নিসংযোগের অভিযোগে





Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply