সরাইলের আসিফের জানাজায় মোকতাদি ও জিয়াউল হক এমপি :দেওড়া গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :

ছবি- নিহত আসিফের দাদাকে জড়িয়ে ধরে মোকতাদির চৌধুরী এমপি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ কর্মী নুরুল আসিফ চৌধুরীর (২৮) লাশ গতকাল শনিবার সরাইল উপজেলার দেওড়া গ্রামে পৌঁছা মাত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ পরিচিতজনদের মাঝে পড়ে যায় কান্নার রুল। গ্রামের আকাশ বাতাস ক্রমশই ভারী হয়ে উঠে। গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। তরতাজা তরুণ আসিফের আকস্মিক অকাল মৃত্যুকে কেউই মেনে নিতে পারছেন না। সকলের মুখে একই কথা নম্রভদ্র বিনয়ী ছেলেটি এভাবে চলে গেল। ওদিকে আসিফের মা-বাবার বুকফাটা আর্তনাদের কাছে হার মানছে সকল শান্তনা। পরিবারের সবার বড় সন্তানকে হারিয়ে পিতা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নুরুল আক্তার চৌধুরী একদম নির্বাক। মাঝে মধ্যে মুর্ছা যাচ্ছেন। মাতা কাজী ফেরদৌসী আক্তার শুধু হাউমাউ করে কাঁদছেন আর বিলাপ করছেন, রাজনীতি করা আসিফের ইচ্ছা। তাই কখনও নিষেধ করেনি। একটি নৌকা ও মুজিব কোট বানিয়ে দিয়ে আসিফের শখ পূরণ করার অঙ্গিকার করেছিলাম। তা আর হল না। আমিতো কখনও তার লাশ চাইনি। এমনটি হল কেন। আমি এখন কি নিয়ে বাচঁব। গতকাল সকাল ১১টায় জেলা ঈদগাহ ময়দানে ১০ রাজনৈতিকসহ যোদ্ধার লাশের সাথে তার প্রথম জানাজা অনুষ্টিত হয়। দুপুর ১টায় আসিফের লাশ তার গ্রামের বাড়ি পৌঁছে। দুপুর ২টায় আসিফদের বাড়ির সামনে খালি মাঠে প্রায় দুই সহস্রাধিক লোকের অংশগ্রহনে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশগ্রহন কারী সকল বয়সের লোকজনের চোখ দিয়ে অশ্র“ু ঝড়ছিল। তখন সেখানে এক হৃদয় বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। জানাজায় অন্যান্যদের সাথে অংশ গ্রহণ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন, জেলা আ’লীগ নেতা মেজর (অবঃ) জহিরুল হক খান (বীর প্রতিক), কেন্দ্রিয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মাঈন উদ্দিন মঈন, উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আবদুল হালিম, আ’লীগ নেতা এ কে এম ইকবাল আজাদ, নির্বাহী কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন প্রমূখ। পরে আসিফের লাশ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। দাফন শেষে মোকতাদির চৌধুরী ও জিয়াউল হক মৃধা এমপি আসিফের বাড়িতে কিছু সময় কাটান। আসিফের দাদা ইয়াকুব আলী চৌধুরী ও মা কাজী ফেরদৌসী আক্তারকে শান্তনা দিতে গিয়ে অঝুরে কাঁদতে থাকেন মোক্তাদির চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, নিজেকে আজ অপরাধী মনে করছি। হয়তো আমার সাথে না গেলে এমনটি হতো না। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেন। আসিফ আমারই ছেলে ছিল। আপনাদেরকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। জিয়াউল হক মৃধা বলেন, আমার এলাকার একটি মেধার অকাল বিদায় অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেল। এ শোক সইবার নই। আমি তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের নবনির্বাচিত এমপি মোকতাদির চৌধুরী গোপালগঞ্জের টুঙ্গি পাড়ায় জাতির জনকের মাজার জিয়ারত শেষে ফেরার পথে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের ভাঙ্গার তাড়াইল নামকস্থানে এমপির গাড়ির বহরের একটি মাইক্রোবাস দূর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৭ ছাত্রলীগ নেতা নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আসিফসহ আরও চার জন মারা যায়।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply