ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১০ তরুণ নিহত

লিটন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ॥

টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত শেষে মাইক্রোবাসযোগে ফেরার পথে গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় বিপরীতমুখী তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় ধুমড়ে মুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসের যাত্রী মৃত্যুবরণকারীরা হচ্ছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী এলাকার শাহআলম ঠিকাদারের ছেলে মেহেদী আলম শান্ত, ছাত্রলীগ কর্মী একই মহল্লার শাহজাহান সাজন মিয়ার ছেলে মুরশেদ আলম, শিমরাইল কান্দি এলাকার মৃত শেখ নিজাম উদ্দিন ডিলারের ছেলে জেলা ছাত্রলীগ নেতা ও ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী শেখ রায়হান, কাজীপাড়া এলাকার সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস আরিফুল ইসলাম বাবু, একই মহল্লার হাবিবুর রহমান দানু মিয়ার ছেলে ছাত্রলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহনাজ রহমতউল্লাহ রুমেল, মেড্ডা এলাকার ব্যাংকার মোবারক হোসেন সরকারের ছেলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও জেলা ছাত্রলীগ নেতা শওকত হোসেন সরকার লিয়েন, সদর উপজেলার সুহিলপুর গ্রামের প্রয়াত অ্যাডভোকেট সফিউল্লাহর ছেলে জেলা ছাত্রলীগ নেতা এমরানুর রেজা, সরাইল উপজেলার দেওড়া গ্রামের নুরুল আকতার চৌধুরীর ছেলে মেধাবী ছাত্র নুরুল আসিফ চৌধুরী ও মাইক্রোবাস চালক সুলতানপুর ইউনিয়নের জাঙ্গাল গ্রামের মিজান। এছাড়াও নিহত রিয়াদের ঠিকানা জানা যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখন শোকের নগরী :

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্রলীগের একঝাক নেতাকর্মীর আকষ্মিক মর্মান্তিক মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর এখন শোকের নগরী। গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে শহর এলাকায় দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। শহরের অলিগলি ও পাড়া মহল্লায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ জটলা বেঁধে সর্বশেষ খবর জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠে। সন্ধ্যার পর থেকে কর্মমুখর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে রাজ্যের নিরবতা নেমে আসে। বিশেষ করে শহরের কাউতলী, শিমরাইলকান্দি, কাজীপাড়া, মধ্যপাড়া, মেড্ডা ও সুহিলপুর এলাকায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ভীড় জমাতে থাকে। স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও মিডিয়া অফিসগুলোতে সাধারণ জনগণ খবর নেয়ার জন্য ভীড় জমায়। নিহত ছাত্রনেতাদের প্রত্যেকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এমনকি অনেক ছাত্রনেতার বাড়িতে মৃত্যুর সংবাদ শোনানো না হলেও তাদের অভিভাবকরা লোকজনের আনাগোনায় খারাপ কিছু আন্দাজ করতে পেরেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোকজন টেলিফোনে সংসদ সদস্য মোকতাদির চৌধুরীসহ তার সফরসঙ্গীদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়ে। মোকতাদির চৌধুরীর সফরসঙ্গী না হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থেকে গিয়েছিলেন পৌর মেয়র প্রার্থী মোঃ হেলাল উদ্দিন। খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নিহত ছাত্রনেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের অভিভাবকদের শান্তনা দিচ্ছিলেন। রাত বাড়ার সাথে সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নিহতদের বাড়িতে জমায়েত হতে থাকে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply