বেসরকারী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ক্রয়ক্ষমতার বাইরে:তিতাসে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :

তিতাস উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ফার্মেসীতে বিক্রি হওয়া জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও কনডম
বেসরকারী উদ্যোগে বাজারজাতকরণ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ ঘাটতি ও দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের সামর্থ্যরে বাইরে চলে যাওয়া তিতাস উপজেলায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলার সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সক্ষম দম্পতির প্রায় ৪৫ শতাংশ জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির বাইরে থাকলেও বাকি ৫৫ শতাংশের চাহিদাও মেটানো যাচ্ছে না। ২০০৪ সালের জরিপ অনুযায়ী প্রতিবছর জন্ম নিরোধক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণকারীদের মোট চাহিদার ১৭.৬ শতাংশ অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। অথচ ২০০৭ সালে এর হার ছিল ১১ শতাংশ। ধারনা করা হচ্ছে- সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে পদ্ধতি গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। বর্ধিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারের সরবরাহ বৃদ্ধি না পাওয়ায় বেসরকারী খাতের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবচেয়ে কম দামের পিল ফেমিপিল-র নির্ধারিত মূল্য ১২ টাক হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা, ফেমিকনের নির্ধারিত মূল্য ২০ টাকা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত নরডেট-২৮ এর নির্ধারিত মূল্য ৩৮.৮৫ টাকা হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা, ডেসলন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, বিডিকন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা, অভারষ্ট্রেট বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা, মারবেলন বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা। মিনিকন বছরখানেক বন্দ থাকার পর বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। এক সময়কার সবচেয়ে ব্যবহৃত কনডম রাজা থাকলেও বর্তমানে তা কোন ফার্মেসীতে পাওয়া যায় না। তার পরিবর্তে হিরো কনডম পাওয়া যাচ্ছে প্রতি প্যাকেট ৮ টাকা যার প্রতিটির দাম ২.৬৬ টাকা। পেনথার ৩টির প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ টাকা, ইউ এন্ড মি ৩টি কনডমের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা, ছেঞ্জিরসান ৩টি কনডমের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১২-১৫ টাকা, লাভ গার্ড নামের ৩টি কনডম বিক্রি হচ্ছে ১২-১৫ টাকা। অর্থ্যাৎ অতিদরিদ্র পরিবারের কোন পুরুষ নিজে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করতে চাইলে তাকে প্রতি মাসে এ খাতে ব্যয় করতে হবে ৬০-৭০ টাকা আর নারীর ক্ষেত্রে ব্যয় হবে কমপক্ষে ৪০-৫০ টাকা। সাধারণ ভাবে একে নগণ্য অর্থ মনে হলেও দৈনিক এক ডলারের কম উপার্জনকারী কোন ব্য্িক্তর পক্ষে এ অর্থ ব্যয় করা বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। সরকারী হিসাবে যারা মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি। ফলে এসব পদ্ধতি ব্যবহারকারী বিপুল সংখ্যক মানুষের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, বেসরকারী উদ্যোগ ছাড়া এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে সরকার। বর্তমানে সরকারীভাবে বিনামূল্যে কনডম বিরতণসহ পিল, ইনজেকশন এবং নরপ্ল্যান্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতির জরায়ুর অভ্যন্তরে স্থাপনযোগ্য আইইউডি এবং স্থায়ী পদ্ধতির নারী ও পুরুষের বন্ধ্যাকরণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু প্রচার ও জনসচেতনতার অভাবে তিতাসের পল্লী অঞ্চলের অনেক মানুষ এসুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply