সরাইলে গরীবের চাল কালোবাজারে বিক্রির সময় ২টন চাল আটক, থানায় মামলা


আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল ॥


বাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। সরাইলের ওএমএস ডিলাররা নিয়মমাফিক চাল বিক্রি না করে কালোবাজারে বিক্রি করছে। মঙ্গলবার রাতে ওএমএস’র চাল কালোবাজারে বিক্রির সময় ২ মেট্রিক টন চাল আটক করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা সদরের উচালিয়াপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়ার আড়ৎ থেকে এ চাল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের খবর পেয়ে দোকান মালিক সেলিম মিয়া পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সরাইল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক সাথে ২টন সরকারী চাল আটকের ঘটনায় সরাইলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর উপজেলার সকল ডিলারদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগী লোকজন জানান, সরাইলের কিছু ডিলার দীর্ঘদিন ধরে ওএমএস’র চাল বিক্রিতে অনিয়ম করে আসছিল। অধিকাংশ ডিলার স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের নিকটতম আত্মীয়স্বজন হওয়ায় অনিয়ম করেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা অনিয়ম চি‎ি‎হ্নত করলেও বিশেষ মহলের চাপে সামনে এগোতে পারেন না। এজন্যই গরীবের চাল নিয়ে ধনীদের এ বাণিজ্য। মঙ্গলবার রাত ৯টায় ২৭ বস্তা চাল সেলিম মিয়ার আড়তে বস্তা বদল করার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনিরুজ্জামান খবর পেয়ে আড়ত থেকে এই চাল জব্ধ করেন। পরে জব্ধকৃত চাল সরাইল থানায় নেয়া হয়। এ ঘটনায় রাতেই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আড়তদার সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন চাল বিক্রি মনিটরিং না করায় এ অনিয়ম হচ্ছে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রনের জন্য খোলা বাজারে ডিলারদের মাধ্যমে মাথা পিছু প্রতিদিন ৫ কেজি করে প্রতি ডিলার ২শ জন ব্যক্তিকে চাউল দেয়ার কথা । এ কার্যক্রমে গত ৩ জানুয়ারী থেকে ৫ জন ওএমএস ডিলার নিয়োগ করে উপজেলা প্রশাসন। সরাইলের ডিলাররা ৬০ থেকে ৭০ জন ব্যাক্তিকে চাউল দেয়ার পর বাকী চাউল কালোবাজারে বিক্রি করে দেয় এমন অভিযোগও করেছেন এলাকাবাসী।

তারা জানান, তদারকি করার জন্য উপজেলা থেকে যেসব কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করে ডিলারদের অনিয়মে সহায়তা করছে । ওএমএস চাউল নিতে আসা মনোয়ারা বেগম, রসিদা বেগম ও জাকিয়া বেগম জানান, সকালে না এসে বেলা ১১টায় আসলে আর চাউল পাওয়া যায় না। ডিলাররা বলে দেয় চাউল নেয়ার সময় শেষ। তবে ঘরে ঠিকই চাউল দেখা যায়। তখন আমরা চাউল নিতে লাইনে দাড়ালেও আমাদের লাইন থেকে বের করে দেয়। তাছাড়া প্রতি ৫ কেজি চাউলে ৫শ থেকে ৬শ গ্রাম পরিমাণ চাউল কম দিয়ে থাকে। তবে ওএমএস ডিলাররা বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। এটি লোকজন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উচালিয়াপাড়ার জহিরুল ইসলাম রিপনের গুদাম সংলগ্ন সেলিম মিয়ার আড়ৎ থেকে এই ২৭ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেলিম দ্রুত পালিয়ে যায়। আটককৃত চাল উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, চাল আটকের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আমরা তদন্তক্রমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply