সরাইলে কৃষকের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ :পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া)॥

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ডাকাতিরোধে হাওর এলাকায় ফসলী মাঠে কৃষকের ঘর (বাতান) পুড়িয়ে দিয়েছে সরাইল থানাপুলিশ। পুলিশের দেয়া আগুনে ঘরের সাথে পুড়ে গেছে কৃষি যন্ত্রপাতি ও ৪/৫ বস্তা সার। পুলিশের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই বাতানের মালিক একে এম জাহাঙ্গীর আজাদ। অভিযোগপত্রে জানা যায়, উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নে ধরন্তী হাওরে জাহাঙ্গীর আজাদের পৈত্রিক প্রায় ১ শত ৫০ বিঘা ধানী জমি রয়েছে। ব্যবসায়ীক কাজে জাহাঙ্গীরের পরিবারের সকল সদস্য বাহিরে অবস্থান করেন। হাবিবুর রহমান, বাচ্চু মিয়া, আইয়ূব মিয়া, মো. আলাউদ্দিন ও মো. হেকিম মিয়া ওই জমিগুলি বর্গাচাষ করেন। জমিগুলো তাদের বাড়ি থেকে অনেক দূরে হওয়ায় জমির নিকট অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করেন তারা। গরু, কৃষি উপকরন, পানির পাম্প ইত্যাদি মজুদ রাখেন। সরাইল থানাপুলিশ কিছুদিন পূর্বে বর্গাচাষীদের ওই ঘর(বাতান) সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেন। গত ২১ জানুয়ারী রাত ৮টায় সড়কে টহলরত সরাইল থানা পুলিশের একটি দল ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। জমিতে পানি দেয়ার কাজ ব্যস্ত কৃষকরা প্রথমে কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। পরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে দৌড়ে আসে। ততক্ষণে ছন দিয়ে তৈরী ঘরটি পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। ঘরের ভিতরের সকল কৃষি উপকরন ও কাপড়ছোপড় পুড়ে যায়। প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয় কৃষকদের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ঘরে আগুন দেয়ার কারণ জানতে চাইলে টহল পুলিশদল মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর আজাদ বলেন, কৃষকের ঘর ও কৃষি উপকরণ পুড়ানোর সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্ত মুলক বিচার চায়। বর্গা চাষী হাবিবুর রহমান (৫০) বলেন, আমরা গরীব মানুষ। রৌদ্র থেকে রক্ষা, কৃষি উপকরন রাখার জন্য ঘর উঠিয়ে কোন রকমে থাকি। পুলিশ ঘরটি পুড়িয়ে দিয়ে আমাদেরকে খোলা আকাশের নীচে বসিয়ে দিল। এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা বলেন, পুলিশ ঘর পুড়তে যাবে কেন। এটা দুস্কৃতকারীদের কাজ। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply