সরাইলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মার্কেট পুড়ে ছাঁই : আহত-৩০

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া ) :

ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের হাজী রইছ মোল্লা মার্কেটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরো মার্কেটটি পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। আগুনের লেলিহান শিখায় মার্কেটের উপরের বিদ্যুতের তার অচল করে দিয়েছে। জেলা শহর থেকে আগত ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি ভাংচুর করেছে উত্তেজিত জনতা। এসময় ওই গাড়িতে আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশসূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১ টায় উপজেলা সদরের উচালিয়াপাড়া মোড়ের হাজী রইচ মোল্লা মার্কেটে আল মদিনা হার্ডওয়ার ও মক্কা ষ্টোর দোকান দুটির চালের উপরদিয়ে কাল ধোঁয়া বের হচ্ছে আর বিকট শব্দ হচ্ছে। এসময় আশেপাশের দোকানীরা আগুন আগুন বলে চিৎকার করে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। মুহুর্তের মধ্যে পুরো মার্কেটিতে আগুন ধরে যায়। টিনের তৈরী ওই দোকানগুলোর সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে ওই মাকের্টের সকল ব্যবসায়ীরা। মাথায় দিয়ে তারা হা-হুতাশ করছে ও এদিক সেদিক ছুটাছুটি করে বিভিন্ন পায়চারি করছে। পথচারী ও এলাকাবাসী প্রায় ২ সহস্্রাধিক লোক প্রায় ১ ঘন্টা প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে কোন রকমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিসের থেকে আগুনের সূত্রপাত তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে দু’একজন ব্যবসায়ী বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা করছেন। আগুন নিভাতে দুপুর ১২টার দিকে জেলা ফায়ার সার্ভিসের লিডার আহমেদ আলীর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে আসা মাত্র উত্তেজিত জনতা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে (বি,বাড়িয়া-ট-১১-০০১৭) হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এসময় গাড়ির চালক ও ফায়ারম্যানসহ ৫ ব্যাক্তিকে পিটিয়ে আহত করে। উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। জেলা ফায়ার সার্ভিসের ডেপুটি এ্যাসিসটেন্ট ডাইরেক্টর সালেহ উদ্দিন বলেন, জেলা থেকে আমাদের লোকজন আগুন নিভাবে গেল। আর তাদেরকে এভাবে মারধর করা হল। বিষয়টি খুবই ন্যাক্কার জনক। উপজেলার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। আগুন নিভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় জনতাসহ কমপক্ষে ৩০ ব্যাক্তি আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, ফায়ার সার্ভিসের লিডার আহাম্মদ আলী (৫০), ফায়ারম্যান মাহবুবুর রহমান (২৫), মোর্শেদুল আলম (৩২), স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন (৩২) ও চালক শাহিনুর ইসলাম (২৪)। অন্যরা হলেন, আরিফুল ইসলাম (২২), জমশেদ মিয়া (৪৮), আব্দুল হামিদ (৪২), মামুন (৩২), কুদ্দুছ (৩৫), আনিছ (২৩), সুমন (৩০), সুকুমার (৩৭) প্রমূখ। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে আসেন উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা পারভীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা। তারা বলেন, এতবড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যে ব্যবসায়ীদের শান্তনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই। প্রকল্প কর্মকর্তার মাধ্যমে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করব। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ভাংচুর ও লোকজনকে মারধর করার বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অন্যায়।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply