মোবারকের তিন দশকের মসনদ কাঁপছে :সরকার বিরুধী বিক্ষোভে উত্তাল মিশর

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারি (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

সরকার বিরুধী বিক্ষোভে উত্তাল মিশর। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ কারফিউ জারি করেও বিক্ষোভ দমন করতে পাড়েনি। শনিবার সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভেঙ্গে রাস্তায় নেমে আসলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করে। সরকার বিরুধী এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ৭৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ে গেছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে বলে জানা গেছে।এর মধ্যে রাজধানী কায়রো, সুয়েজ ও আলেকজান্দ্রিয়ায় শুক্রবার বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষে মারা গেছে ৬৮ জন। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ২০০০ এরও বেশি বলে জানা গেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

জানা যায় শুক্রবার কারফিউ জারির পর থেকেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। এর উপর সরকারের অনমনিয় মনোভাব জনগনকে আরও বিক্ষোদ্ধ করে তোলে । এই পরিস্থিতিতে কারফিউ উপেক্ষা করে রাতভর সংঘর্ষের পর শনিবার সকাল থেকে ফের মিশরের রাস্তায় নেমে এসেছে বিক্ষোভকারীরা।
– সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা অনলাইন।

শনিবার সকাল থেকে রাজধানী কায়রোর তাহ্‌রির স্কয়ারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা মোবারকের পদত্যাগের দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া আলেকজান্দ্রিয়া ও সুয়েজসহ দেশটির অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করে। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ শুক্রবার চরম আকার ধারণ করে। এদিন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এদিকে অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার কথা রয়েছে। হোসনি মোবারক শনিবারের মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করতে পারেন। একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের নির্দেশ দেবেন। অবশ্য বিক্ষোভকারীরা মোবারকের এ উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা জানান, মন্ত্রিসভার পরিবর্তন নয়, এ বিক্ষোভ শাসক পরিবর্তনের জন্য।

উল্লেখ্য প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক গত ৩০ বছর যাবত মিশরের শাসন করে আসছেন। হোসনি মোবারকের ৩০ বছরের একনায়ক শাসন অবসানে মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় সেদেশের সাধারন জনগন । শুক্রবার থেকে এ বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও আন্তর্জাতিক আণবিক সংস্থার সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আল-বারাদি। অবশ্য সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভের পিছনে প্রধান বিরোধী দল ব্রাদারহুডের ভূমিকা রয়েছে বলে ক্ষমতাসীন দল অভিযোগ করেছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্রাদারহুডের ওপর ধরপাকড় চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইতিমধ্যে দলটির চার শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ২০ ঊর্ধ্বতন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১০০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী ।

এ গণবিক্ষোভ ঠেকাতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। গণজোয়ার ঠেকাতে দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক, টুইটার ও জনপ্রিয় টিভি টকশো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য সম্প্রতি তিউনিসিয়ায় গণবিক্ষোভের মুখে স্বৈরশাসক বেন আলীর ২৩ বছরের একনায়ক শাসন অবসানের পর মঙ্গলবার থেকে মিশরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। এছাড়া ইয়েমেন ও জর্ডানেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

Check Also

রিয়াদে জ্যাবের ‘অমর একুশে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রির্পোটার :– “অমর একুশের চেতনায় গন মানুষের মনে জেগে উঠুক উজ্জলতা উৎকৃষ্টতা” শীর্ষক আলোচনা ...

Leave a Reply