বিতর্কিত হয়ে পড়েছে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মোঃ রেহান উদ্দিন

জামাল উদ্দিন স্বপন:
মাত্র অল্পদিনের কর্মকান্ডে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেহান উদ্দিন। এই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন মাত্র ৯মাস আগে। যোগ দেয়ার পরপরই সততার কোন চিহ্ন মাত্র না দেখিয়ে শুরুতেই লুটপাটে লিপ্ত হয়েছেন। টাকা ছাড়া কোন ফাইল নড়ে না তার টেবিল থেকে। নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্ব এসিল্যান্ড ও পৌর প্রশাসক। এসিল্যন্ডের দায়িত্ব থেকে নাম জারিতে (মিউটেশান) ভাল নাম কামিয়েছেন। প্রতি নাম জারিতে ঊনার ফি মাত্র ৫০০ (পাঁচ শত) টাকা। আর ভুক্তভোগিরা গুনতে হয়েছে ২৫০০-৩০০০ টাকা। যদি ও এর আগের কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা জামান এসকল ক্ষেত্রে ভালো সম্মান অর্জন করেছিলেন। তিনি নিজেও ঘুষ খেতেন না। তেমনি অন্যদেরকে ও ঘুষ খাওয়ার সুযোগ দিতেন না। মোস্তফা জামানের সময় নাঙ্গলকোট ছিল স্বর্ণের যুগ। তৎসময়ে উপজেলার অন্যান্য কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা গিয়েছিল। যারা মোস্তফাজামানকে কাছ থেকে দেখেছেন তারা এখনও তার সততার জন্য তার দীর্ঘায়ু কামনা করেন। মোস্তফা জামানের সততা নাঙ্গলকোটের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। কিন্তু নাঙ্গলকোটবাসির দুর্ভাগ্য মোস্তফাজামানের জায়গায় রেহান উদ্দিন সম্পুর্ণ বিপরীত । সুদর্শন চেহারার কর্মকর্তা রেহান উদ্দিনকে দেখে সবাই আতঙ্কে ছিল। চেহারা দেখে বুঝা যাচ্ছিল তিনি মোস্তফা জামান থেকেও সৎ হবেন। কিন্তু এত সুন্দর চেহারার অন্তরালে আসল রূপ লুকায়িত আছে। যাহা বিসমিল্লাহই দেখা গেল। সংশ্লিষ্টসহ যাদের সাথে করমর্দন করেছেন সকলকে নিজের সাহাদাত আঙ্গুলী দিয়ে হাতের তালু খুঁছিয়ে মেসেজ দিয়েছেন। ‘নো প্রভলেম আমি মোস্তফা জামানই’। অতএব বুঝতে বাঁকি রইলনা। যাদের প্রয়োজন তারা সাড়া দিয়েছেন আর বাকিরা বাধ্য হয়েছেন। এখানে স্থানীয় সাংসদ মোস্তফাকামাল ( লোটাস কামাল) রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যাস্ত থাকায় নজরদারী করতে পারছেন না প্রশাসনের উপর। অন্য দিকে উপজেলা চেয়ারম্যানকে আমলে নিতে চায়না ইউএনও চেয়ারম্যানের নিকট জবাবদিহিতা নাই কাজেই যেমন ইচ্ছা তেমন চালায়। নির্বাহী কর্মকর্তা নাঙ্গলকোট রেহান উদ্দিনের ঘুষ খাওয়া যখন অপেন সিক্রেটে পরিনত হয়েছে এখন উপজেলা চেয়ারম্যান সমন্বয় সভা ইউএনওকে সর্তক দেয়ার পরমর্শ দিলে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। একপর্যায়ে সভাস্থলে উত্যক্ত বাকবিতন্ডা হয়। অবশেষে রেহান উদ্দিন নিজের দোষ স্বিকার করে ক্ষমা চেয়ে নেন। উল্লেখ্য এলাকার সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগিরা রেহান উদ্দিনের কালো থাবা থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান মজুমদারের নিকট মৌখিক অভিযোগ করলে তিনি তাকে সর্তক হওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে ঈদুল আযহার পরের দিন সাংসদ লোটাস কামালের বাড়িতে উপজেলা আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমেটির সভায় সকল বক্তাই ইউএনও’র ঘুষ দুর্নীতির কথা বলেন। একপর্যায়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা আলী হোসেন চৌধুরী সাংসদের দৃষ্টি আর্কষণ করে বলেন, যদি রেহান উদ্দিন আর কিছু দিন নাঙ্গলকোট থাকেন তা হলে নাঙ্গলকোটকে রেহান (বন্ধক) দিয়ে ফেলবেন। ফলে আগামি নির্বাচণে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে ভোটে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অতএব রেহান উদ্দিনকে সাধারন সাবধান করার অনুরোধ জানান। সে মোতাবেক সাংসদ লোটাস কামাল রেহান উদ্দিনকে সংশোধন হওয়ার বার্তা পৌঁছে দেন। কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনীর ন্যায় তার অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে।

সম্প্রতি নাঙ্গলকোট পৌরসভা নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে প্রশাসনিক সকল সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে প্রায় দশ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী থেকে, পাশাপাশি আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীও রেহাই পায়নি রেহান উদ্দিন থেকে। বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী থেকেও মোটা অঙ্ক হাতিয়েছেন। কিন্তু দেখা গেছে নির্বাচনে প্রশাসনিক ভূমিকা আপত্তিকর। উভয় প্রার্থীর সমর্থকেরা টাকা ফেরত নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তাদের ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তিনি আওয়ামীলীগকে খুশি করার জন্য ধাতিশ্বর কেন্দ্রে ভোট বাতিল করেছেন এবং বিএনপিকে খুশি করার জন্য ছাত্রলীগের এক নেতাকে ম্যাজিষ্ট্রেটের হাতে তুলে দিয়ে তাকে ৩ বছর শাস্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা শাহজাহান সাজু বর্তমানে কারা বরণ করছেন। এজন্য ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সরাসরি ইউএনও রেহান উদ্দিনকে দায়ী করেন এবং শাস্তিমূলক বদলি দাবী করেন।

এছাড়া প্রতি বছরের ন্যায় উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের ঠান্ডাকালী বাড়ি মেলা উপলক্ষে ঢালুয়া স্কুল সংলগ্ন মাঠে ইউএনও রেহান উদ্দিনকে ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে ৬ টি জুয়ার ঘর বসায়। প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানায়, তিনি গুনে গুনে সম্পূর্ণ টাকা বুঝে নিয়ে চলে যাওয়ার পরপরই রাতভর এ জুয়া খেলা চলে। অথচ গত ৯ বছর অত্র এলাকায় কোন রূপ জুয়া খেলা চলেনি। লোটাস কামালের ক্ষমতামলে জুয়া চলায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এর আগে আওয়ামীলীগের গত সরকারের সময় অর্থাৎ ১৯৯৬-২০০১ সালে শুধু দৌলখাঁড় ইউনিয়নের আনাচে কানাচে দুই মাসে ৪০ টি জুয়া খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার ফল স্বরুপ আ’লীগ প্রার্থী জয়নাল আবদীন ভূঁইয়া ৪৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। সে সময়ে আওয়ামীলীগে কিছু বিপদগামী লোক সাংসদকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ও প্রশাসন এবং পুলিশকে ম্যানেজ করে জুয়ার মেলা অনুষ্ঠিত করেছিল। ফেল করে জয়নাল আবদীন ভূঁইয়া বুঝতে পেরেছিলেন, আগামীতে হয়তো লোটাস কামাল ও বুঝতে পারবেন। তবে একদিনের জুয়ায় কামাল সাহেবের ২০ হাজার ভোট কমে গেছে বলে স্থানীয় আওয়ামীলীগের বিজ্ঞমহল মনে করেন।

ইউএনও’র বিভিন্ন ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন দেখা দিলে পৌরনির্বাচনের পরের দিন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান মজুমদার ঊনাকে তার অফিসে ডাকেন এবং উল্লেখিত বিষয় গুলো জিজ্ঞাস করলে তিনি আমতা-আমতা করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়। উল্লেখিত বিষয়ে রেহান উদ্দিনের হ্যান্ড ফোন ০১৭১১-৪৮৫৩৭৫ নাম্বারে একাধিক বার চেষ্টা করলেও তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন। রেহান উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ইউএনওকে ডেকে বিষয়গুলো জিজ্ঞাসা করছেন বলে স্বীকার করেন। পাশাপাশি ইউএনওকে নিজ চেষ্টায় অল্পসময়ের মধ্যে বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নচেৎ জনতার হাতে লাঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়ারা জানায়।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply