আজ সারাদেশ তাকিয়ে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-নির্বাচনের দিকে

লিটন চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৬ জানুয়ারি ॥

বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের উপ-নির্বাচন আজ। সারাদেশ তাকিয়ে আছে আজকের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাচনের দিকে। প্রার্থীর চেয়ে দলীয় প্রতীকের প্রেসটিজই বেশী। কোন প্রতীক কত হাজার বেশি ভোটে নির্বাচিত হবে বা হবেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সচেতন মহলের ধারণা মহাজোট প্রার্থীর প্রতীক নৌকা বিশাল ভোটের ব্যধানে বিজয়ী হবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনে অপ্রতিরোধ্য প্রার্থী হারুন আল রশিদ, সাবেক হুইপ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এ আসনে পাঁচ-পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু গেল নির্বাচনে তিনি প্রায় পৌণে ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ায় এবং সারাদেশে চারদলীয় জোটের ব্যাপক ভরাডুবিতে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে মহাজোটকে নিয়ে।

আজকের প্রার্থী প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিবও ছিলেন। সেই সুবাদে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর নির্বাচনী এলাকা নয় সারা দেশব্যাপী রয়েছে তার পরিচিতি। তার ব্যক্তিগত পরিচিতি, বিগত দু’বছরের সরকারের উন্নয়নসহ মহাজোট প্রার্থী নির্বাচিত হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সহ জেলার ব্যাপক উন্নয়ন হবে বলে সুশীল সমাজের ধারণা।

পক্ষান্তরে বিরোধী দলীয় প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার উন্নয়নতো দূরের কথা জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর দুঃখ দুর্দশার কথা কতটুকু তুলে ধরতে পারবেন তা নিয়ে সন্ধিহান সচেতন মহল।

কেননা তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও ব্যক্তিগতভাবে একজন সফল ব্যবসায়ী। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল প্রার্থীদের মধ্যে বেশি টাকা ওয়ালা এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

অপরদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে মহাজোট প্রার্থী র.আ.ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসা মহাজোট ও চারদলীয় জোটের প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতাই ঢাকা ফিরে গেছেন। গত ১৫ দিন ধরে তাদের পদভাবে মুখরিত ছিলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদও গত মঙ্গলবার এখানে এসেছিলেন নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। আওয়ামীলীগ প্রার্থী ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন তিনি। এছাড়াও গত কয়েক দিন ধরে এলাকা চষে বেড়িয়েছেন আওয়ামীলীগের তোফায়ের আহমেদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, মাহবুব উল আলম হানিফ, আহম্মদ হোসেন, কাজী জাফরুল্লাহ, লিয়াকত সিকদার প্রমূখ।

আর বিএনপি নেতাদের মধ্যে গত কয়েকদিন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আ.স.ম হান্নান শাহ, নজরুল ইসলাম খান, ড. এম ওসমান ফারুক, জয়নুল আবেদীন ফারুক, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, মোঃ শাহজাহান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি, কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর প্রমূখ।
জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খান বীর প্রতীক সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনী প্রচারণা শেষে তাদের প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতাই কেন্দ্রে ফিরে গেছেন। আর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল খোকন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আ’লীগের কেউ কেউ এখনো নির্বাচনী এলাকায় রয়ে গেলেও বিএনপির কোনো কেন্দ্রীয় নেতাই এখন আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নেই।
শেষ মুহুর্তে সাধারণ ভোটারদের ধারণা সরকার দলীয় প্রার্থী র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর নৌকা প্রতীক বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন হবে যে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply