দাবি মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ : বৃহস্পতিবার থেকে সচল হচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

এম আহসান হাবীব, কুবি প্রতিনিধি :

তিনদিনের অচলাবস্থা শেষে বৃহস্পতিবার থেকে আবারো সচল হচ্ছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষা কার্যক্রম। সেমিস্টার ফি ও হল ফি কমানো, মানোন্নয়ন পরীক্ষার নীতিমালা প্রত্যাহার, পরিবহন ও আবাসন সমস্যা সমাধানসহ ১৬ দফা দাবিতে সাধারন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সকল দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কর্তৃপক্ষীয় আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস-পরীক্ষা আজ থেকে আবার পুরোদমে শুরু হচ্ছে। গতকাল বুধবার ছাত্র প্রনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে ভিসি প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান এ আশ্বাস প্রদান করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সেশন ফি আগের অবস্থায় বহাল রাখা, হল ফি মাসিক ২০০ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা নির্ধারন করা, মানোন্নয়ন পরীক্ষা রেজিস্ট্রেসনের মেয়াদ থাকাকালীন পরবর্তী সকল ব্যাচের সাথে অংশগ্রহনের সুযোগ দেয়া এবং সর্বোত্তম নম্বর বিবেচনা করা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা, শহীদ মিনার নির্মান, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া ও মসজিদ চালু করা, আবাসিক শিক্ষার্থীদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করা, ইনকোর্সে ৪০ নম্বর বহাল রাখা, শহর থেকে ক্যাম্পাসমুখী সান্ধ্যকালীন বাসের ব্যবস্থা করা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ভাস্কর্য নির্মান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক স্থাপন, নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা চালু, সেশনজট নিরসন, খেলার মাঠের ব্যবস্থা ও ক্যাম্পাসে ব্যাংকের শাখা খোলার ১৬ দফা দাবিতে গত সোমবার থেকে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিন ঢিলেঢালা আন্দোলনের পর হঠাৎ করে গত মঙ্গলবার আন্দোলন হঠাৎ করে অতিজোরালো হওয়া এবং ছাত্রলীগের একটি নির্দিষ্ট গ্র“প আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় অনেকেই এর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ পোষন করেন। আগের দিন বিকেলে আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী গ্র“পের এক নেতা কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বাসায় হামলার ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করার প্রয়াস হিসেবে আন্দোলন জোরদার করা হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে মন্তব্য করেন। কিন্তু আন্দোলনে উত্থাপিত প্রত্যেকটি দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত হওয়ায় অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয় বলে জানা যায়। পূর্বঘোষিত লাগাতার আন্দোলনের ত’তীয় দিনেও নানা শ্লোগানে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরিবহন বাস ক্যাম্পাসে আটকে রাখে আন্দোলনকারীরা। ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিসির বৈঠকের আগ পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকে। বৈঠকশেষে ভিসির আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলন থেকে ক্ষান্ত দেয় শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে ছাত্রনেতা আলআমিন অর্নব জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকল দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়ায় পূর্বঘোষিত লাগাতার আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান জানান, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিসমূহ ধারাবাহিকভাবে পূরণের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

Check Also

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি :– বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী ...

Leave a Reply