সরাইলে যৌতুকের দাবিতে আসমা বেগম খুনের প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী ‘শিশু’কে অপহরণের চেষ্টা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏‏‏হ্মণবাড়িয়া) :

ফাইল ফটো
ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইলে যৌতুকের দাবিতে শ্বশুর, শ্বাশুড়ী কর্তৃক পিটিয়ে তিন সন্তানের জননী (২৮) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে সরাইল থানায় মামলা হয়েছে। মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নিহত গৃহবধূর শিশু কন্যা আশা মনিকে (৮) অপহরণের চেষ্টা করে আসামী পক্ষের লোকজন। ঘটনার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বাদী পক্ষের লোকজন আসামী পক্ষের হুমকি-ধমকিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আখিতারা গ্রামের কৃষক কেরামত আলীর কন্যা আসমা বেগমকে ১২ বছর পূর্বে একই গ্রামের হামদু মিয়ার পুত্র সোহেল মিয়ার (৩৫) নিকট বিয়ে দেন। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে সোহেলকে নগদ ৭০ হাজার টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণ ও লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র দেয়া হয়। কিছুদিন পর আসমার শ্বশুর, শ্বাশুড়ী তার সকল স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করিয়া দেন। জামাতা সোহেল মিয়া বিদেশ যাওয়ার জন্য শ্বশুরের নিকট টাকা চেয়ে বসেন। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিদেশ যাওয়ার যাবতীয় টাকা প্রদান করেন আসমার বাবা। সোহেল বিদেশ যাওয়ার পর আসমার উপর শ্বশুড়ীর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। বাড়িতে দালান করার জন্য সোহেল মিয়া প্রবাস থেকে আসমার নিকট ফের ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে বসে। সুযোগে সোহেলের মা-বাবা আসমাকে টাকার জন্য মারধর করতে থাকে। গত ১৬ জানুয়ারী বিকেল বেলা শ্বাশুড়ী হনুফা বেগম আসমাকে মারধর করে গলা টিপে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে দেয়। গত ১৯ জানুয়ারী আসমার পিতা কেরামত আলী বাদী হয়ে শ্বশুর হামদু মিয়া(৬০), শ্বাশুড়ী হনুফা বেগম(৫০) ও স্বামী সোহেল মিয়াকে (৩৫) আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত আসমার শিশু কন্যা আশামনি বলে ‘বুবু (দাদী) আমডার আম্মার গলায় টিপ দিয়া ধইরা মুখে বোতলের পানি (বিষ) দিছে। পরে বোতলডা লুকাইয়া লাইছে।’ আসমার মা আফিয়া খাতুন জানান, গত রোববার বিকেলে আসামী পক্ষের ৪/৫ জন লোক মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী শিশু আশামনিকে দাদা-দাদীর কথা বলে অপহরণের চেষ্টা করে। এসময় আসমার বাবার বাড়ির লোকজন টানাহেঁছড়া করে আশামনিকে রক্ষা করে। নিহত আসমার পুরো পরিবার প্রভাবশালী আসামীর পক্ষের ভয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিনযাপন করছেন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা মামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পায়নি। তদন্ত এবং আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওদিকে ব্রাক সরাইল শাখার মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কর্মসূচি প্রোগ্রামের কর্মসূচি সংগঠক নার্গিস আক্তার বলেন, আমরা নিহত আসমা বেগমের মামলার সকল আইনি সহায়তা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply