সরাইলে সওজের জায়গা দখল করে মাটি কাটছে আ’লীগ কর্মী ॥ মহাসড়ক হুমকির মুখে

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রা‏‏হ্মণবাড়িয়া) :

ব্রা‏‏‏‏হ্মণবাড়িয়ার সরাইলে সড়ক ও জনপথের প্রায় ৪ বিঘা জায়গা অবৈধভাবে দখল করে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে গভীর খাদের সৃষ্টি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ কর্মী হাজী ছিনু মিয়া। রহস্যজনক কারণে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তাব্যক্তিরা। লক্ষ লক্ষ ঘন ফুট মাটি উত্তোলন করে নিজের আখের ঘুছিয়ে নিচ্ছেন তিনি। সরাইল-নাছির নগর-লাখাই মহাসড়কের পার্শ্বে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ কদমতলি নামক স্থানে সড়ক ও জনপথের ৩ নং সেকশনের অধীন ৪ বিঘা খালি জায়গা রয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তাব্যক্তিদের যোগসাজশে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রায় ৪ বছর পূর্বে জায়গাটি দখলে নিয়েছেন ছিনু মিয়া। ভোগদখলের পাশাপাশি মাটি কাটতে শুরু করেন তিনি। বর্তমানে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে লোকচোখকে ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে মাটি কেটে পার্শ্বেই অবস্থিত একাধিক পুকুরপাড় বেঁধে যাচ্ছেন। এছাড়া অন্যত্র সরকারির জায়গার মাটি বিক্রি করে টাকা কামিয়ে যাচ্ছেন দেদারছে। অপরদিকে জনৈক মৎস চাষীর নিকট জায়গাটি লীজ দেয়ার কথা বলে অগ্রীম সাড়ে সাত লক্ষ টাকা নিয়েছেন ছিনু মিয়া। মহাসড়ক সংলগ্ন ওই জায়গাটি বর্তমানে গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টি হলে অথবা বর্ষা মৌসুমে মহাসড়কটি ধ্বসে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জায়গাটি সংলগ্ন স্থানে কোনো রকমে মাথা গুজার ঠাই করে দীর্ঘদিন যাবত পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন এলাকার হতদরিদ্র কিছু লোক। ওই পরিবারগুলো বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। প্রভাবশালী ছিনু মিয়ার ভয়ে কোথাও মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না তারা। উপজেলার প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও রাজনৈতিক সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এমনটি করছেন বলে সমগ্র উপজেলায় চাউর রয়েছে। ওই এলাকার বয়োবৃদ্ধ তাজেলা মিয়া (৫৫) জানান ‘জাগাডা সরহারের রাইতে দুইডা মেশিন দিয়া মাডি কাডে ছিনু মিয়া। বাবারে আছিন সমান, অইছে গাথা। ভালা খারাপ বুঝি না।’ কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমাদুর রহমান বলেন, ‘ছিনু মিয়া যে কাজটি করছে এটি খারাপ ও নিন্দনীয়। জায়গাটি সওজের আমাদের কি করণীয় আছে বুঝতে পারছি না।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমি এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নিয়ে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি। ছিনু মিয়া লীজের কথা বলে। এমন একটি জায়গা লীজ দিলে আর এভাবে মাটি কাটলে মহাসড়কটি ধ্বসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কালীকচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের কর্মচারী মো. সফিক বলেন, আমি এ জায়গাটি ছিনু মিয়াকে ৩ বছরের জন্য লীজ এনে দিয়েছি। জেলা সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া জানান, আমরা লীজ দেয়নি। ড্রেজার দিয়ে মহাসড়ক সংলগ্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার কথা শুনেছি। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিব। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছিনু মিয়া বলেন, সওজের একসময়কার কর্মচারী কলমধর আলীর কাছ থেকে জায়গাটি নিয়েছি। কোন কাগজপত্র ছাড়াই ২০ বছর যাবত ভোগদখল করে আসছি। মাটি কাটতে সওজের অনুমতি নেয়নি। কারো কাছে লীজ দেয়নি। জায়গাটি থেকে কিছু আয় করি। তাই মাঝে মধ্যে রক্ষণাবেক্ষন করি।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply