মৌকারা দরবার কমপ্লেক্স কমপ্লিট দুর্নীতির দূর্গ ॥ তদন্ত দাবি

কুমিল্লা, ২১ জানুয়ারি (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :
নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকারা দরবারের বর্তমান পীর ও তার কতিপয় সহযোগীরা দীর্ঘ দিন থেকে মৌকারা দরবারস্থ প্রতিষ্ঠান সমূহে নানা মুখী দূর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ঐ কু-চক্রি মহলটি নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বিশেষত সরকারী নিয়ম কানুন অপেক্ষা করে নিজেদের মনগড়া আইন কানুন প্রতিষ্ঠান সমূহের ছাত্র-শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দিতে ২০০৩ সালে “দারুচ্ছুন্নাত ওয়ালীয়া কমপ্লেক্স” (রেজি: এস ৩২০৬) নামে একটি কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করে। আর ওই কমপ্লেক্সের আওতায় এখন পরিচালিত হচ্ছে ৬০ বছরের পুরোন ফাযিল মাদ্রাসা ও হেফজ খানা। এরপর সরসীনার দরবারের অনুসরণে “দ্বীনিয়া মাদ্রাসা” নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে বিগত কয়েক বছর ধরে। মূলত সরসীনা দ্বীনিয়া মাদ্রাসা যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মৌকারা দ্বীনিয়া মাদ্রাসা সে উদ্দেশ্য ‘মহৎ’ নয় বলে বিভিন্ন জনের মন্তব্যে প্রথম থেকেই জানা গেছে। নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম এবং কুমিল্লা শহরের বেশ কিছু প্রাক্তন মুরীদান এবং শিক্ষিত মহলের সূত্রে জানা গেছে মৌকারা দরবার কে কেন্দ্র করে মৌকারা ফাযিল মাদ্রাসা (সরকারী) আগত বিভিন্ন আয় ব্যয়ের অস্বচ্ছতার উদ্দেশ্যে এই দরবারের ঘুটি কয়েক স্বার্থ ভোগী ব্যক্তি এখানে দ্বীনিয়া মাদ্রাসা নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে।
ইতিমধ্যে তাদের সকল জুরি-জারি (হাকিকত) সর্ব মহলের নিকট (প্রকাশ) জাহের হয়ে গেছে।

বিভিন্ন জনের মন্তব্যে ও অভিযোগে জানা গেছে মৌকারা দরবার কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ নিজেদের কে অতিশক্তি শালী মনে করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন কানুন কে অপেক্ষা করার মত দৃষ্টতা প্রদর্শন করে থাকে। আরো ন্যাককার জনক ব্যাপার হচ্ছে প্রতিষ্ঠান প্রধান কে অবজ্ঞা করে ওই তিন বায়রা মনগড়া পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকে। যাকে অনেকেই বলে থাকে মৌকারা দরবারে সবসময় “নেড় লেজে হাতি নাড়ে”।

ইতিমধ্যে সর্বশ্রেণীর মানুষের অভিযোগে জানা গেছে এই তিন জন ব্যক্তিকে নিয়ে কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান (পাঠ দানে বিরত আরবী প্রভাষক) ও নেছার উদ্দিন একটি বিশেষ কক্ষে যে গোপন শলা-পরামর্শ করে থাকেন। ঐসব সিদ্ধান্তই মৌকারা দরবারে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে মৌকারা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ (স্বাক্ষি গোপাল) ও অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত হন। এমনকি অধ্যক্ষ ও সরকারী বিধি-বিধান কে বৃদ্ধা আঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে ঐ চক্রটি।
আরো গুরুতর অভিযোগে জানা গেছে ঐ তৃ-শুল চক্রটি অধ্যক্ষকে নানা অন্যায় ও অবৈধ কাজে চাপ দিয়ে তাদের জিঘাংসার বাস্তবায়িত করে থাকে। বিষয়টি এখন সকলের নিকট বেরী ওপেন সিক্রেট।

নাঙ্গলকোটে মৌকারা দরবারস্থ দারুচ্ছুন্নাত ওয়ালীয়া কমপ্লেক্স পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুলোর ছাত্ররা কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় কয়েকজন ডাইরেক্টরের নিষ্ঠুর শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে শিক্ষা ক্রমে ভাটার স্রোতে এগুচ্ছে বলে প্রায় অভিযোগ পাওয় যাচ্ছে।

বিভিন্ন ছাত্র, অভিভাবক ও এলাকার বেশ কিছু সচেতন ব্যক্তির উদ্ধৃতিতে এ প্রতিবেদক জানতে পেরেছেন। দরবার কমপ্লেক্সের মহাক্ষমতার দাবী দার স্থানীয় শিক্ষক আনোয়ার হোসেন, বায়রা সাইফুল্লাহ ও উপাধ্যাক্ষ রফিকুল ইসলাামের ক্ষতার তান্ডবে বিগত বছর খানেক ধরে মাদ্রাসা ছাত্র শিক্ষক, কর্মচারী ও অভিভাবক বৃন্দ ক্ষুদ্ধ, বিরক্ত এবং অতিষ্ঠ। এর কুফল সবর্ত্র দৃশ্যমান।

ইতিমধ্যে ২০১০ সালের ডিসম্বেরের শেষার্ধে আলিম পরীক্ষার্থী ছাত্রদের প্রতি নিষ্ঠুর নির্যাতনের শেল পড়ছে বার বার। ঐ তৃ-শক্তি ধর ব্যক্তি নিজেদের কে উক্ত কমপ্লেক্সের দন্ড মুন্ড ও নিয়ামক শক্তি মনে করে সকলের প্রতি যাচ্ছে তাই আচরণ করে চলেছেন। তাদের ওই জুলমী কর্ম-কান্ড ও দৈহিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে আলিম পরীক্ষার্থী ছাত্ররা প্রতিবাদ মুখী হয়ে দীর্ঘ দিনের হোস্টেলে অবস্থানের ইতি টানে।

বর্তমানে তারা আপন আপন বাড়িতে কিংবা সুবিধা জনক স্থানে মেস সিষ্টামে পড়া-শোনা করছে। অনেকটা অনিশ্চয়তার মাধ্যমে।

আলিম পরীক্ষার্থী ২০১১ সালের প্রতি দুষ্ট কতৃপক্ষীয় নির্যাতন মূলক আচরণ সর্ব মহলে ছি ছি রব উঠেছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল আশঙ্খা করেছেন ওয়ালীয়া কমপ্লেক্সের দুষ্ট ক্ষত চরিত্রের অধিকারী দু’তিন জন নামধারী শিক্ষকের কারণে ২০১১ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং এতে প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবিষ্যতে নেতিবাচক বিষয়টি কে অনেকেই মন্তব্য করেন।

এসব বিষয়ে কমিটির বিশেষ নজর না আসায় তথায় কর্তৃপক্ষের প্রশ্রয়ের সুবাদে ঐ দুষ্ট চরিত্রের লোক গুলোর মনগড়া কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে। দ্রুত তাদের লাগাম কষে না ধরলে দরবার সহ মাদ্রাসা সমূহের অবস্থার ক্রম অবনতি ঘটবে বলেই সর্ব মহলে সমালোচনা চলছে।

Check Also

লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিএনপি’র সাবেক এমপি আলমগীরের জাতীয় পার্টিতে যোগদান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা-১০ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) বিএনপি’র সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছেন। সোমবার জাতীয় ...

Leave a Reply