কুমিল্লা, চাঁদপুরে ভোট গ্রহণ চলছে :অর্ধশতাধিক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সেনা মোতায়েন

কুমিল্লা, ১৮ জানুয়ারি (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

সকা্ল আট্‌টা থেকে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুরের ১৪টি পৌরসভায় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে । কোন বিরতি ছাড়া তা বিকাল ৪ টা পর্যন্ত চলবে । উল্লেখ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায়ও আজ ভোট হবার কথা থাকলেও সোমবার উচ্চ আদালতের এক রায়ের কারনে এ পৌরসভায় আজ ভোট হচ্ছেনা। এছাড়া এ অঞ্চলের বাকি ১৪ টি সহ চট্রগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মোট ৫৮ টি পৌরসভায় আজ ভোট গ্রহণ চলছে।

নির্বাচন উপলক্ষে কোথাও উৎসব, কোথাও সংঘর্ষ হবে বলেও আলোচনা হচ্ছে। কুমিল্লার ৭টি পৌরসভা হচ্ছে চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, নাঙ্গলকোট, বরুড়া, চান্দিনা, হোমনা ও দাউদকান্দি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এবং চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, কচুয়া, ছেংগারচর ও দক্ষিণ মতলব।

কুমিল্লার ৮৫টি কেন্দ্রে মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৩৫টি। ৭টি পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ১লাখ ৬২ হাজার ৯শত ১৩ জন। আজ প্রথমবারের মতো হোমনা ,নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসন এরই মাধ্যে নাঙ্গলকোট ও বরুড়ায় সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। জেলার ৭টি পৌরসভার নিবার্চনে মাঠে রয়েছে ২৭জন মেয়র, ২৮৯জন কাউন্সিলর এবং ৬৪ জন মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী।

৭ পৌরসভার ঝূঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলো হলো নাঙ্গলকোটের ৫টি, হোমনা ৯টি, চৌদ্দগ্রামের ৫টি,বরুড়ায় ৭টি ও লাকসামে ৯টি। চান্দিনা ও দাউদকান্দিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই বলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চাঁদপুর :
জেলায় ৬ টি পৌরসভায় জোট-মহাজোটসহ মেয়র পদে মোট ৩৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে কাউন্সিলর ও মহিলা সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৩শ’ ৬৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২শ’ ৬৫ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫১ জন।

৬টি পৌর নির্বাচনে মোট ৭১ টি ভোট কেন্দ্রে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪শ’ ৮৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। চাঁদপুরের ৬ পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র পদে জোট ও মহাজোট প্রার্থীরা বিজয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে। কিন্তু দলীয় কোন্দলের কারণে মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভা ছাড়া বাকী ৫ টি পৌরসভায় জোটের চেয়ে মহাজোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত না হবার আশংকা রয়েছে।

চাঁদপুরের ৬ পৌরসভায় যেসব মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা আজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, কচুয়া পৌরসভায় মেয়র পদে ৯ জন। এরা হলেন আহসান হাবীব প্রধান (মহাজোট) হুমায়ুন কবির প্রধান (চারদলীয় জোট), আ’লীগ তথা মহাজোট বিদ্রোহী আহসান হাবীব প্রাঞ্জল, নূরুল আজাদ, মোস্তফা কামাল, হারুন অর রশিদ, হাজী রুহুল আমিন, জামায়াত সমর্থক দেওয়ান আব্দুল গণি এবং (স্বতন্ত্র) গোপাল পোদ্দার । এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৬ জন প্রার্থী। কচুয়া পৌরসভায় মেয়র পদে দু’জোটের মধ্যে মহাজোটে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। জোটের একক প্রার্থী এবং মহাজোটের অপর শরীকদল জাপা প্রার্থী রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচনে জোট এগিয়ে থাকলেও উভয় জোটেই বিদ্রোহীরা চমক সৃষ্টি করতে পারে রাজনৈতিক মহল মনে করেন। এদিকে উপজেলা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পৌরসভা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মোট নয়টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে ৩নং কোয়াকোর্ট, ৮নং কচুয়া সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও ৯নং কড়ইয়া পূর্ব পাড়া ভোট কেন্দ্র।

হাজীগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে রয়েছেন ৩ জন প্রার্থী। এরা হলেন অব্দুল মান্নান খান বাচ্চু (চারদলীয় জোট), গাজী মাঈনুদ্দিন (মহাজোট মনোনীত), সালেহ আহমেদ তরুন (আ’লীগ বিদ্রোহী)। কাউন্সিলর পদে মোট ৬৪ জন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর ৫৪ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। হাজীগঞ্জ জোটের একক প্রার্থী হওয়ায় এগিয়ে রয়েছে তারা। অপরদিকে মহাজোটের এক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও ভোটের হিসাবে পাল্টে দিতে পারে মহাজোট এমনটাই মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।
হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রগুলিতে ব্যাপক সহিংসতা ও বোমাবাজির আশঙ্কা করছেন বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নান খান। কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়নের জন্য ১৬ জানুয়ারি তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। এ আবেদনের অনুলিপি হাজীগঞ্জ-শাহ্রাস্তি আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল), উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং অফিসার ইনচার্জ হাজীগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার নাসির-উদ-দৌলা বলেন, বিএনপি প্রার্থীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। নাসির-উদ-দৌলা আরো বলেন, সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য আমরা যে কোনো ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্রেই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা বিশেষ কোন কেন্দ্রের কথা চিন্তা না করে সবগুলো কেন্দ্রের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।

শাহরাস্তি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোট ১০ জন প্রার্থী। এরা হলেন মোশারফ হোসেন পাটওয়ারী ( মহাজোট), আবুল খায়ের (চারদলীয় জোট),আনোয়ার নূর (আ’লীগ বিদ্রোহী), মাহবুবুল আলম চৌধুরী (আ’লীগ বিদ্রোহী), হুমায়ুন কবির (আ’লীগ বিদ্রোহী), মোস্তফা কামাল ( বিএনপি), মোঃ সারোয়ার মোর্শেদ (আ’লীগ বিদ্রোহী), মিহির সাহা (আ’লীগ বিদ্রোহী), রেজাউল করিম মিন্টু (আ’লীগ বিদ্রোহী), বিলকিস বেগম (আ’লীগ বিদ্রোহী)। কাউন্সিলর পদে ৪৪ জন। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। শাহরাস্তি পৌরসভায় মহাজোটের ভোট ব্যাংক হলেও বর্তমান বিদ্রোহীদের কারণে বিপাকে মহাজোট। এই পৌরসভায় আ’লীগের সদ্য সাবেক মেয়র প্রার্থী থাকলেও ৭ বিদ্রোহী বড় ফ্যাক্টর। অপরদিকে চারদলীয় প্রার্থীর বিদ্রোহী নিয়েও তারা এগিয়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক মহল মনে করেন বিদ্রোহী আর অনৈক্যই ভোটের হিসেব পাল্টে দেবে।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী ৭ জন। এরা হলেন : আব্দুর রহমান বাবলু (মহাজোট), সফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী (চারদলীয় জোট ),মোঃ এনামুল হক রাসেল (আ’লীগ বিদ্রোহী), শাহবুদ্দিন বাবুল ( বিএনপি বিদ্রোহী), মঞ্জিল হোসেন (বিএনপি বিদ্রোহী)। এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর ৬২ এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় উভয় জোটের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় বেকায়দায় রয়েছে জোট-মহাজোট। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফলাফলই বলে দিবে বিজয়ী প্রার্থীর তালিকা।

ছেংগাচর পৌরসভায় মেয়র পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এরা হলেন : আমেনা বেগম ( চারদলীয় জোট) এবং মোঃ বিল্লাল হোসেন সরকার (মহাজোট)। কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ছেংগাচর পৌরসভায় জোট-মহাজোটের একক প্রার্থী হওয়ায় দ্বিমুখী লড়াই জমে উঠেছে। এক্ষেত্রে ভোটের হিসেবেই বলে দেবে চূড়ান্ত ফলাফল।

মতলব (দঃ) পৌরসভায় মেয়র পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর হলেন এনামুল হক বাদল (চারদলীয় জোট), নূরু- ইসলাম (মহাজোট),ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী (আ’লীগ বিদ্রোহী), শাহজাহান মল্লিক (স্বতন্ত্র), কাউন্সিলর পদে ৪৮ জন এর মধ্যে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪০ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মতলব (দঃ) পৌরভায় জোট-মহাজোটের দু’ হেভিওয়েট প্রার্থী হলেও বিদ্রোহীদেও কারণে উভয় জোটই বেকায়দায়। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত ভোটের হিসাবেই ফলাফল বলে দেবে।

উল্লেখ্য আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার কারনে চাঁদপুর সদরে আজ নির্বাচন হচ্ছেনা ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply