ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত:বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ॥মঙ্গলবার অর্ধ দিবস হরতাল

সরকারী দলের ভরাডুবির আশংকায় নির্বাচন স্থগিত- বিএনপির অভিযোগ
লিটন চৌধুরী, ব্রাহ্মণনবাড়িয়া :

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচন তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে। আগামীকাল মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনের তারিখ ছিল।

দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচন স্থগিতের সংবাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে প্রচার হলে সাধারণ মানুষ হতাশ ও হতবাক হয়ে যায়। মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শশাংক শেখর ভৌমিক নির্বাচন কমিশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে বিকালে শহরের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিলটি পৌর আধুনিক মার্কেটে প্রাঙ্গনে সমাবেশ করে। পুলিশ সমাবেশটি ঘিরে রাখে। সমাবেশে আগামীকাল মঙ্গলবার অর্ধ দিবস হরতাল আহবান করা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসকসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবলিম্বে অপসারণের দাবী জানায়। সমাবেশে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক জহির বক্তৃতা করে। পরে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডঃ হারুন আল রশিদের বাসভবনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন স্থগিতের খবর প্রচারের সাথে সাথে তাৎক্ষণিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে প্রার্থীদের সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য ভীড় জমে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, পৌরসভা ও সংসদ নির্বাচনে সরকারী দল আওয়ামীলীগের ভরাডুবির আশংকায় জেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল হক ভূইয়া হাইকোর্টে রীট পিটিশন করে। তিনি জানান, আমি ও পৌরবাসীরা নির্বাচন স্থগিতের জন্য দুঃখিত ও ব্যথিত। নির্বাচন স্থগিত একটি ষড়যন্ত্র। তিনি ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী জানান।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকারের অপসারণ দাবী করে। অপর এক সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীরের সহধর্মিনী নায়ার কবীর জানান, নির্বাচন স্থগিত ঘোষণায় আমি দুঃখিত। এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িতদের খোঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। নির্বাচন স্থগিত করায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।

এক সাংবাদিক সম্মেলনে, মেয়র প্রার্থী সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হক ভূইয়া জানান,
আনন্দঘন পরিবেশে যখন নির্বাচন প্রস্তুতি চলছিল ঠিক তখনই নির্বাচন স্থগিত একটি ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্র রুখতেই হবে। নির্বাচন স্থগিত করায় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান ভূইয়া জানান, নির্বাচন স্থগিত সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি ডিসি ও এসপি’র অপসারণ দাবী করেন।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply