চাঁদপুরের ৬ পৌরসভায় আওয়ামীলীগ বিএনপি ও বিদ্রোহীদের মধ্যে মূল প্রতিন্ধন্দ্বিতা

এ কে এম শাহেদ :

চাঁদপুরে ৬টি পৌরসভার নির্বাচন ১৮ জানুয়ারি। সব প্রচারনা শেষ। এখন কে নির্বাচিত হবে কে হবে না এ নিয়েই আলোচনা। কয়েকটি পৌরসভায় আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা হন্যে হয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। চাঁদপুরে ৬টি পৌরসভাতেই মূল প্রতিন্ধন্দ্বীতা আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীদৈর মধ্যে। এখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও ক্ষতমাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাবমূক্ত হলে ৫টি তেই বিএনপি জয়লাভ করতে পারে বলে ভোটারদের অভিমত। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটাররাই এ রায় দিবে।

চাঁদপুরে ৬টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ৫’শ ৮৮ জন। ৭১টি ভোট কেন্দ্রে ৩৭জন মেয়ল ২’শ ৬৪ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৫০ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলরকে ১৮ জানুয়ারি উল্লেখিত ভোটাররা রায় দিবেন। হাজীগঞ্জ পৌরসভায় মূল প্রতিন্ধন্দ্বীতা বিএনপি ও আওয়ামীলীগের মধ্যে। এখানে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান খান বাচ্চুর সাথে আওয়ামীলীগ প্রার্থী গাজী মাঈনুদ্দিনের সাথে প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে। তবে বিএনপি’র পাল্লা ভারী বলে ভোটাররা জানান। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৩’শ ১৬ জন। এছাড়া হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ৬৩ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিন্দন্দ্বীতা করছেন। এরই মধ্যে পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের জেসমিন আক্তার বিনা প্রতিন্ধন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ছেংগারচর পৌরসভার নির্বাচন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হলে এখানে বিএনপি-আওয়ামীলীগের মধ্যে লড়াই হবে। তবে এখানে রাজনৈতিক প্রভাব পড়লে নির্বাচনের রায় একতরফা হতে পারে বলে পৌর এলাকায় ভোটাররা জানিয়েছেন। এ পৌরসভায় মোট ভোটার ২২ হাজার ১’শ ৮৮ জন। এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে ৪৭ জন কাউন্সিলরও প্রতিন্ধন্দ্বীতায় নেমেছেন। কচুয়া পৌরসভার নির্বাচনেও ত্রিমুখী লড়াই হবে। এখানে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী আহসান আলী প্রধান, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আজাদ ও বিএনপি’র প্রার্থী হুমায়ুন কবির প্রধানের সাথে মূল প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে জয়ের জন্য বিএনপি’র প্রার্থীর কর্মীদের পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তবে আওয়ামীলীগ নেতারা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৮’শ ২০ জন। এছাড়া কচুয়া পৌরসভায় ৪১ জন কাউন্সিলর প্রার্থীও প্রতিন্ধন্দ্বীতায় নেমেছেন। শাহরাস্তি পৌরসভায় দ্বিমুখী লড়াই হবে। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মোশারেফ হোসেন পাটওয়ারীর সাথে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী আবুল খায়ের সিএ প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে। তবে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিম মিন্টুও পিছিয়ে নেই। শাহরাস্তি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা মোট ১৬ হাজার ২শ ৬৯জন। ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের চিত্র অন্য রকম। এখানে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জিল হোসেন মঞ্জিলের সাথে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী সফিকুল ইসলাম পাটওয়ারীর মধ্যে প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে বলে ভোটাররা জানায়। তবে আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মোফাজ্জেল হোসেন খান মহসিনের অবস্থান ভালো। এ পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৪৫ জন। এছাড়া ৭১ জন কাউন্সিলর প্রার্থীও প্রতিন্ধন্দ্বীতায় রয়েছেন। মতলব পৌরসভায় দ্বিমুখী লড়াই হবে। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রাথী নুরুল ইসলাম নুরুর সাথে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক বাদলের লড়াই হবে। এ পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার ৪’শ ৫০জন। ৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থীও প্রতিন্ধন্দ্বীতায় নেমেছেন। সর্বশেষ ভোটাররাই যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply