জটিল আবর্তে কুমিল্লার পৌর নির্বাচন :চলছে শেষ মুহুর্তের হিসাব নিকাশ

এস জে উজ্জ্বল :

১৮ জানুয়ারির পৌরসভা নির্বাচনে কুমিল্লার ৭টি পৌরসভার মধ্যে চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি,নাঙ্গলকোট ও বরুড়ায় আওয়ামীলীগ বনাম বিএনপি, হোমনায় আওয়ামীলীগ বনাম বহিষ্কৃত বিএনপি তথা স্তন্ত্র, চান্দিনায় বিএনপি বনাম স্বতন্ত্র, লাকসামে স্বতন্ত্র বনাম বিএনপির মধ্যে প্রতিদ্বন্বিতা হবে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চত হওয়া গেছে। সরেজমিনে কুমিল্লার ৭ টি পৌরসভা ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

শেষ মুহুর্তের প্রচারনায় ব্যস্ত এখন কুমিল্লার পৌর জনপদ। কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে ৭ পৌরসভার ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৫ শ‘ ৯৮ ভোটারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ২৮ জন মেয়র প্রার্থী , ৩০৯ কাউন্সিলর ও ৬৪জন মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী।

দাউদকান্দি :
১৯৯৫ সালে দাউদকান্দি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই পৌরসভার বিশেষ একটি রেকর্ড হচ্ছে এখানে সব সময় বিরোধীদলের প্রার্থীরা মেয়র নির্বাচিত হয়। এই পৌরসভার মোট ভোটার ২৪,৮২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২,০৪৯ জন এবং মহিলা ১২,১৮৫ জন।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গতবারের দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং আওয়ামীলীগের শাহ আলম চৌধুরী। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

কেউ কেউ বলেন, এটা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সুবিদ আলী ভুইয়ার মধ্যে পরোক্ষ লড়াই।

নাঙ্গলকোট :
২০০২সালে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সদরটি পৌরসভা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এ পৌরসভায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤ক্সাদক সামছুদ্দিন কালু। এখানে বিএনপির সাবেক এমপি আব্দুল গফুর ভূঁইয়া ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন ভূঁইয়া দু’গ্র“পে বিভক্ত।

সদরে বিএনপির মূল ধারা থেকে বিদ্রোহীরা অনেক শক্তিশালী। তাই শেষ দিকে এসে বিএনপির প্রার্থী নুরুল্লাহ মজুমদার সমর্থন দিয়ে দেন বিদ্রোহী প্রার্থী পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি একে এম নুরুল আফছার ওরফে বড় নয়নকে। বিএনপির ঐক্যে এখানে কপাল পুড়তে পাওে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর।

এখানে মোট ১৩,৮৮২ ভোটারের মধ্যে মহিলা ভোটার ৭,২৭২জন আর পুরুষ ভোটার ৬,৬১৯জন । ভোট কেন্দ্র ১১টি । এই পৌরসভায় সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ৪১জন আর মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন ১০ জন।

চৌদ্দগ্রাম :
আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান। এখানে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আক্তার হোসেন পাটোয়ারী শুক্রবার শেষ মুহুর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অপর দিকে চারদলীয় জোটের একক প্রার্থী জি এম রাব্বানী ওরফে নয়ন বাঙ্গালী। এই পৌরসভায় জামায়াতের রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভোট। যা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে যাবে বলেই প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা যায়।

২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পৌরসভায় এবারই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এখানে পুরুষ কাউন্সিলর ৫৭ জন,মহিলা কাউন্সিলর ৯ জন। ২০, ৫১৩জন ভোটারের মধ্যে এখানে পুরুষ ভোটার ৯,৮৮৯ জন আর মহিলা ভোটার রয়েছে ১০, ৬৪২জন। ভোট কেন্দ্র ৯টি।

হোমনা :
হোমনা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। এখানে কার্যত বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এক সময় আওয়ামীলীগ ও স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া এই প্রার্থীরা বিএনপিতে ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ারের সাথে বিরোধের জের ধরে তাদের বহিস্কৃত হতে হয়।

এর মধ্যে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জলিল ভুইয়া হোমনা উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এ পদে দায়িত্ব পালন করেন ২৩ বছর। ১৯৯৬ সালে স্থানীয় এমপি এমকে আনোয়ারে সাথে দ্বন্দ্বে তিনি দল থেকে বহি¯স্কৃত হয়ে যোগ দেন আওয়ামীলীগে।

বহিস্কৃত বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন মিয়া। তিনি হোমনা উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হকের ছোট ভাই। তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধেই রয়েছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ। সম্প্রতি রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে স্থানীয় এমপি এম কে আনোয়ার তাদেরকে বহিস্কার করেন।

যোগ্য প্রার্থী খুজে না পেয়ে এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে হোমনা ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভি পি সাইফুল ইসলাম রাজাকে। তিনি হোমনা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক।

হোমনা পৌরসভা ২০০২ সালে বিএনপির সরকারে আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৯টি কেন্দ্রে ১৬,৭৪০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ৮,১৭০ ও মহিলা ৮,৫৭০ জন। পৌরসভায় এই প্রথম নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম রাজা মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুন মিয়া দুই জনেই বলেছেন আওয়ামীলীগ নির্বাচনের দিন কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৬,৭,৮ ও ৯নং কেন্দ্রে উভয় প্রার্থী সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান।

এদিকে হোমনা পৌরসভার প্রতিটি কেন্দ্রকেই ঝুকিপূর্ণ বলেই মনে করেন এলাকার সচেতন মহল। গত ২৬ ডিসেম্বর হোমনা উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার মন্ডল, শ্রীমদ্দি, লাটিয়া কেন্দ্রসহ হোমনা পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে বলেন, পৌর নির্বাচনে সেনা বাহিনীর মোতায়েন করা খুবই জরুরি, তাহলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করা সম্ভব।

লাকসাম :
লাকসামে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়নে পৌরসভা আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হলেও লড়াই হবে স্বতন্ত্র আর বিএপিতে। ১৯৮৪ সালে লাকসাম পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। এর আগে এখানে ৩ বার নির্বাচন হয়েছে।

মোট ভোটার ৩৬ হাজার ৬৫৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৭,৯৭৪জন এবং মহিলা ১৮,৬৮১জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৪টি। এখানে মেয়র পদে ৮ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৯জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন। এর মধ্যে আওয়ামীলীগের ২ জন, বিএনপির ১জন, জামায়াতের ১ জন এবং স্বতন্ত্র ৪ জন। লাকসাম উপজেলার চেয়ারম্যান বিএনপির বহিস্কৃত নেতা মজির আহমেদের বড় ভাই মফিজুর রহমান আলোচনায়।

লাকসাম পৌরসভার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে স্থানীয় এমপি তাজুল ইসলাম মনোনয়ন দেয় উপজেলা যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম হীরাকে। এছাড়া প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কাশেমসহ বেশ কয়েকজন মনোনয়ন পত্র জমা দেয়। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় হাজী আবুল কাশেমের। এ ঘোষণায় স্থানীয় এমপিসহ দলের একটি অংশ বিস্মিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেয় অধিকাংশরা। কিন্তু ৭ জানুয়ারি স্থানীয় এমপি তাজুল ইসলাম সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে তার মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিরাকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

এদিকে ১২ জানুয়ারি এমপি তাজুল ইসলাম সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সমর্থিত লাকসামের মেয়র প্রার্থী হাজী আবুল কাশেম।

কুমিল্লা শহরের একটি রেস্তরায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে হাজী আবুল কাশেম আরো বলেন, গত কয়েকদিনে এমপি ও তার প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হীরা তার সমর্থকদের মারধরের পাশাপাশি প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আতংক সৃষ্টি করেছেন। এমপি তাজুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম হীরাকে সাথে নিয়ে ভোটারদের বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। তার প্রচারণা চালানোতে ২৪ ডিসেম্বর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়ালের উপর হামলা চালানো হয়। থানা সমস্যা আছে বলে ৪ জানুয়ারি মামলা নেয়। পুনরায় ১১ জানুয়ারি লাকসামের গন্ডামারা এলাকায় রফিকুল ইসলাম হীরা ও তার ভাই কালা জাহাঙ্গীর মেয়র প্রার্থী হাজী আবুল কাশেমের উঠান বৈঠকে হামলা চালায়।

এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন সুভাষ বণিক। আওয়ামীলীগের দ্বন্দ্ব তাকে কিছুটা সহায়তা করেছে। এখানে জামায়াতের এক জন প্রার্থী রয়েছে। বিএনপি একজন সংখ্যালঘুকে প্রার্থী করাতেই জামায়াত তাদের প্রার্থী দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ভাইয়া গ্র“পের পরিচালক মফিজুর রহমান। তিনি লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা মজির আহমেদের বড় ভাই।

চান্দিনা :
চান্দিনা পৌরসভা নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শাহ মো: আলমগী খান। অপর দিকে দলীয় কোন্দল ও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বেকায়দায় রয়েছে আওয়ামীলীগ। বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নান সরকার। আওয়ামীলীগ থেকে এখানে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা তপন বকসীকে। কিšু- মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনিসহ দলের অপর ৬জন নেতা। দল থেকে বলার পরও অপর প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

৬ জানুয়ারি স্থানীয় এমপি অধ্যাপক আলী আশ্রাফ দলের সকল প্রার্থীকে নিয়ে দিনভর বৈঠক করে রাতে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুল ইসলামকে। এখানে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪ জনে। আওয়ামীলীগের অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন প্রার্থী মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। দল যদি তার পরিবর্তে অন্য সবাইকে বসিয়ে আবু তাহের ভুইয়াকে মনোনয়ন দিত তাহলে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারতো বলে জানা যায়। এদিকে শনিবার আওয়ামি লীগের তিন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করে দলটি। এতে করে এখানে ভোটের হিসাব নিকাষে পরিবর্তন আসতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

বর্তমান মেয়র আবদুল মান্নান সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। বিএনপির সমর্থনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, পরে রেদোয়ান আহমেদের সাথে এলডিপিতে চলে যান। এখন নিজেকে দাবি করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এখন এলডিপির সময় খারাপ, সাথে তারও।

১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া চান্দিনা পৌরসভার প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৯৯সালে। বর্তমানে চান্দিনা পৌর সভায় ২৩,৩১৩ জন ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১১,১২৮ এবং মহিলা ভোটার রয়েছে ১২,১৮৫ জন। এখানে মোট ভোট কেন্দ্র ১২টি।

এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন , সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৯জন এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply