চাঁদপুরে ৬টি পৌরসভায় ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন ॥ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ॥ ৪২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

এ কে এম শাহেদ, চাঁদপুর :

চাঁদপুরের ৭টি পৌরসভার মধ্যে ৬টি পৌরসভার নির্বাচন ১৮ জানুয়ারি। একটি পৌরসভা অর্থাৎ চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন সুপ্রীমকোর্টে মামলা থাকায় স্থগিত রয়েছে। ইতিমধ্যে নির্বাচন গ্রহণে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ৬টি পৌরসভায় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ করতে ৪২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কচুয়া ও ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও নির্বাচনের দিন ৬টি পৌরসভাতে পর্যাপ্ত র‌্যাব, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বাহিনী, পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত থাকছে। চাঁদপুর জেলা নির্বাচন অফিসের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জেলার ৬টি পৌরসভায় ৩৬জন মেয়র, ২৬৫জন সাধারন কাউন্সিলর ও ৫১জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ৬ পৌরসভার ৭১টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহনের লক্ষে ইতিমধ্যে ৬ পৌরসভার জন্য ৭১জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪’শ ৫৫জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯শ ১০জন পোলিং অফিসারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জেলার ৬টি পৌরসভা নির্বাচনে কচুয়া পৌরসভায় ৯জন মেয়র ৩৫জন সাধারন কাউন্সিলর ও ৬ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এদেরকে নির্বাচিত করতে ৯টি কেন্দ্রে মোট ১৩ হাজার ৮শ ২০জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কচুয়া পৌরসভায় ৯ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৬টি। সর্বমোট ৯টি কেন্দ্রের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার থাকছে ৯জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৪৬জন ও পোলিং অফিসার থাকছে মোট ৯২জন। কচুয়া পৌরসভায় মহাজোটের প্রার্থী আহসান হাবিব ও চারদলীয় জোট প্রার্থী হুমায়ুন কবিরের সাথে প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে। তবে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আজাদেরও প্রতিন্ধন্দ্বীতায় রয়েছে।

হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মোট ২জন, সাধারন কাউন্সিলর ৫৪জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ১০জন প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। মোট ১২টি কেন্দ্রে ৩৩ হাজার ৩শ ১৬জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি কেন্দ্রেই ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। ইতিমধ্যে ভোট গ্রহণের জন্য ১২জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১শ ৪জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ২শ ৮জন পোলিং অফিসারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাজীগঞ্জ পৌরসভায় মহাজোটের প্রাথী গাজী মাইনুদ্দিন ও চারদলীয় জোট প্রার্থী আব্দুল মান্নান খান বাচ্চুর মধ্যে প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে।

শাহারাস্তী পৌরসভা নির্বাচনে মোট ১০জন মেয়র ৩৫জন সাধারন কাউন্সিলর ও ৯জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রে ১৬ হাজার ২শ ৬৯জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন। শাহারাস্তি ৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ৯জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৫জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১শ ১০জন পোলিং অফিসারকে নিয়োগ হয়েছে। শাহরাস্তি পৌরসভায় মহাজোট প্রার্থী মোশারফ হোসনে মশু পাটওয়ারী ও চারদলীয় জোট প্রার্থী আবুল খায়ের সিএ মধ্যে প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে। তবে এখানেও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল করিমও প্রতিন্ধন্দ্বীতায় রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মোট ৭জন মেয়র, ৬২জন সাধারন কাউন্সিলর ও ৯জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ১১টি কেন্দ্রে মোট ২১ হাজার ৪৫জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি কেন্দ্রকে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য ১১জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৬৭জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১শ ৩৪জন পোলিং অফিসারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় চারদীয় জোট প্রার্থী শফিকুর রহমান পাটওয়ারী ও মহাজোটের প্রার্থী আবদুর রহমানের মধ্যে প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে। তবে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জিল হোসেনও প্রতিন্ধন্দ্বীতায় থাকবে।

ছেংগারচর পৌরসভায় মেয়র পদে ২জন, সাধারন কাউন্সিলর ২৯জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। মোট ১০টি ভোট কেন্দ্রে ২২ হাজার ১শ ৮৮জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ১০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি কেন্দ্রেকে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরদিকে মোট ১০টি কেন্দ্রের জন্য ১০জন প্রিজাইডিং অফিসার ৭৩জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১শ ৪৬জন পোলিং অফিসারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ছেংগরচর পৌরসভায় চারদীয় জোট প্রার্থী বর্তমান মেয়র আমেনা বেগম ও মহাজোট প্রার্থী বিল্লাল হোসেনের মধ্যে প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে।

মতলব দক্ষিণ পৌরসভা নির্বাচনে মোট ৬জন মেয়র প্রার্থী, ৪০জন সাধারন কাউন্সিলর ও ৮জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। মোট ২০টি ভোট কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ৪শ ৫০জন ভোটার তাদের ভোটাধিকারে প্রয়োগ করবেন। এখানে ২০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৭টি ভোট কেন্দ্রকে ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৭১জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪শ ৫৫জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯শ ১০জন পোলিং অফিসারকে। মতলব পৌরসভায় চারদলীয় জোট প্রার্থী এনামুল হক বাদল ও মহাজোটের প্রার্থী নুরুল ইসলামের সাথে প্রতিন্ধন্দ্বীতা হবে।

এদিকে পৌরসভা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ করার লক্ষে জেলা প্রশাসক প্রিয়তোষ সাহা বিভিন্ন পৌরসভায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, প্রতিদ্বন্ধিতায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। জেলা পুলিশ বিভাগও নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ করার লক্ষে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply