নাঙ্গলকোটে মৌকারা দরবার রক্ষায় পীর নেছার জনগণের দানের টাকা ছিটাচ্ছেন

জামাল উদ্দিন স্বপন :

মৌকরা দরবারের বিভিন্ন অনিয়ম ও ভন্ড পীর নেছারের কু-কৃর্তি বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় মৌকরা দরবারে মাসিক মাহফিল ও বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে ব্যাপক ধস নামে। বর্তমানে মৌকরা মাসিক মাহফিলে লোকসমাগম কম হওয়ায় লোকজন জমায়েত করার জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক জন আনার জন্য বাস,মাইক্রোবাস,সিএনজির ভাড়া করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছারছীনা ভক্ত লোকজন মাহফিলে কম আসে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। বর্তমানে পীর নেছার বাহিনী এলাকা মেনেজকে প্রথম কৌশল হিসেবে নিয়েছে,তারই অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় নেছার বাহিনীর লোকজন বিভিন্ন জায়গা থেকে জনগণ কে আনার চেষ্টা করা হলেও আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা। মৌকরা দরবারের গ্রহন যোগ্যতা আগেরমত প্রমানের জন্য বিপুল টাকা খরচ করছে বলে একাধিক সুত্রে জানা যায়। এই যদি পীরের দরবারে হয়, তাহলে মানুষ যাবে কোথায়? ভন্ড পীর নেছার ও তার অপকর্মের অনুসারী তারই পুত্র কুমিল্লা জেলা ছাত্র হিযবুল্লার সভাপতি মাসুদের কু কর্মের বিচার না হওয়ায় জন মহলে দিন দিন হতাশা বাড়ছে। টাকার বিনিময়ে সব কুকর্ম চাপা দেওয়া যাবে না। এই অবস্থায় সাধারন মানুষ পীরের উপর শ্রদ্ধা ভক্তি হারিয়ে ফেলবে। পীরের দরবার কি মদখোর, জুয়াখোর, ঘুষখোর এই ধরনের লোকের নেতৃত্বে চলবে এবং এদেরকে বিভিন্ন প্রোগ্রামে সম্মানিত চেয়ারে বসানো হবে ? এই যদি পীরের নীতি হয় তাহলে সাধারণ মানুষের মনে পীর সম্মন্ধে খারাপ ধারনা জন্ম নেবে। এবং হক্কানী পীরগনও সমালোচিত হবেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

আমরা জানি-হিযবুল্লাহ অর্থ হচ্ছে ‘আল্লাহর দল’। পীর নেছার আল্লাহর দলের কুমিল্লা জেলার সভাপতি,তাহলে কি সব কু কর্ম আল্লাহর নির্দেশে করে থাকেন? আল্লাহর দলের দোহাই দিয়ে সাধারন মানুষকে ধোকা দেয়া আর বোকা বানানো কত দিন চলবে?

ছাত্র হিযবুল্লাহ অর্থ(আল্লাহর ছাত্রদল) আল্লাহর ছাত্রদলের কুমিল্লা জেলার সভাপতি পীর নেছারের সুযোগ্য পুত্র মাসউদ । আল্লাহর ছাত্রদলের সভাপতি গত ৭ই নভেম্বর সাদিয়া নামে এক মেয়ে নিয়ে নিজস্ব মাইক্রো গাড়ি দূর্ঘটনা কবলিত হয়ে ১৪গ্রাম ফাঁড়ি থানায় আটক হয় পরে মাসুদ ও তার প্রেমিকাকে মৌকারা দরবারের দু’শিক্ষক মাও: আনোয়ার হোসেন ও মাও: জয়নাল গং ফাঁড়ি থানা থেকে মোছলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনে। যা চৌদ্দগ্রাম সহ কুমিল্লা বাসী সকলেই অবগত। এই যদি আল্লাহর ছাত্রদলের সভাপতি শাহ্ মাসুদের কাজ হয়, যারা আল্লাহর দলের বাইরে আছে, তারা কি করে শিক্ষা নেবে? হেদায়াত কারীরা যদি গোমরা, বেআমলী এবং মাকাল ফল তুল্য হয় তাহলে সর্ব সাধারণ হেদায়াত পাবে কোথায় থেকে?

এই সমস্ত ন্যাক্কার জনক ঘটনা করার পরও জমিয়তে হিযবুল্লার নেতৃবৃন্দ রহস্য জনক ভাবে নির্বিকার থাকায় তাদের প্রতি দেশের সর্ব শ্রেণী মহলের ঘৃণা ও নিন্দা বাণি অব্যহত রয়েছে। এতে সকলের মনে প্রশ্ন জেগেছে-পীর ও তার পুত্রের জন্য এই সমস্ত ঘটনা জায়েজ। পীরের জন্য জায়েজ হলে মুরিদের জন্য ডাবল জায়েজ বলে মনে হয়। পীর সাহেবেরা কি শুধূ টাকার পিছনে ছুটবেন নাকি নীতি আদর্শ কিছু রাখবেন? শুধূ টাকার জন্যই কি মানুষকে নীতি আদর্শের কথা শুনানো হয় ? এই কারবার করে দরবারের উন্নতি হবেনা-সর্ব সাধারণের মন্ত্যেবে জানা গেছে, এই ধরণের অপকর্ম এবং দরবার ও দরবারস্থ প্রতিষ্ঠান গুলোকে বাণিজ্যনীতি করণ করা হলে এক সময় দরবার শরীফ হবে ‘কারবার শরীফ’ নামে তথা দুনিয়া হাসিলের কেন্দ্র বিন্দু। একটি সময় আসবে মাটির সাথে সব বিলীন হয়ে যাবে। ভন্ড পীর সাহেব যাই করবেন, তাই কি মুরীদকে মেনে নিতে হবে? আলেমগন রাসুলে পাক (সঃ) এর ওয়ারিশ। রাসুলে পাকের জীবনীতে জাকজমক পুর্ন কোন কিছুরই প্রমান পাওয়া যায় না। তাহলে বর্তমানে নাম ধারী আলেম, ওয়াজীন ও ভন্ড পীর গণ রাসুলে পাক(সঃ)এর কোন্ আদর্শ বাস্তবায়ন করছেন? এ ভাবে চলতে থাকলে মানুষ আলেম ও পীর সমাজ থেকে মুখ ফিরিয়েনেবে। মানুষকে যে ওয়াজ করবেন সে ওয়াজ নিজেও আমল করতে হবে। মানুষকে ওয়াজ করে নিজেই যদি আমলের ধারে কাছে না থাকেন তাহলে সেই ভন্ড পীর ও আলেম গণ কিয়ামতের মাঠে কি জবাব দেবেন। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে দরবারের নামে আর কতকাল প্রতারনা করবেন । এতে ভন্ড পীরেরা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করবেন। মনে রাখবেন, যার নামের উপরে এতকিছু করছেন, তিনিই সর্বময় ক্ষমতার মালিক তার অগোচরে কোন কিছুই নয়। ভালো করলে ভালো পাবেন, খারাপ করলে তার পরিনাম কত ভয়াবহ তা একটু হিসাব করা দরকার বলে সকলের মন্তব্য।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply