আওয়ামী লীগ ২৪, বিএনপি ১৫, বিদ্রোহী ও অন্যান্য ১০ :ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক, ১৪ জানুয়ারি (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

পৌর নির্বাচনের প্রথম দিনে বুধবার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ৭২টি পৌরসভায় বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের ব্যাপক বিজয় ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ভরাডুবির পর গতকাল দ্বিতীয় দিনে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ৪৯টি পৌর নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে মরিয়া ছিল সরকারি দল।

নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়া, প্রতিপক্ষের নির্বাচনী এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেয়া, প্রিজাইডিং অফিসারকে আটকে রেখে ব্যালট ছিনতাই ও প্রশাসনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভোলায় ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বোরহানউদ্দিনে সরকারি দলের প্রার্থীর ক্যাডাররা কেন্দ্রের দখল নিয়ে ব্যালট ছিনতাই করে তাতে সিল মারতে শুরু করলে একপর্যায়ে দুটি কেন্দ্রে নির্বাচন বন্ধ করে দেন প্রিজাইডিং অফিসার। গোলযোগের কারণে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার একটি করে কেন্দ্র বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন। সরকারি দলের কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও গৌরনদী এবং পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পৌরসভার নির্বাচন বয়কট করে পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা।

প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রতীকে সিলমারা ব্যালটসহ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনরত তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

খুলনায় ব্যালট পেপার চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে আটক করা হয়।

এসব বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্বাচনে কোথাও কোথাও সীমিত আকারে বিশৃঙ্খলা হলেও সামগ্রিক নির্বাচনের পরিবেশ ছিল সন্তোষজনক।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৪৯টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা ২৪টি, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৪টি, মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি ১টি, বিএনপি ১৫টি ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ২টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৩টি পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে খুলনার পাইকগাছায় নির্বাচিত জাতীয় পার্টি প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পরপরই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

বরিশাল ও খুলনা বিভাগে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আওয়ামিলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে বরিশালের গৌরনদী ও মেহেন্দীগঞ্জ এবং পিরোজপুরের সরূপকাঠি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির পৌর নির্বাচনের মনিটরিং সেল আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ দাবি জানান।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ৪৯টি পৌরসভায় আজ অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্যে ১৩টি পৌরসভার নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ আনেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ নেতা।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply