ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি চান মুক্তিযোদ্ধা রোশন আলী

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর :
ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা

মুরাদনগরে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনান মুক্তিযোদ্ধা রোশন আলী

বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রোশন আলী কর্য করা অর্থ দিয়ে কয়েকমাস পূর্বে দুই মেয়ে ছালেহা ও ছালমাকে বিয়ে দেন। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ভবঘুুরের মত ঘুরছেন, তবে তিনি ঋণের গ্লানি নিয়ে এ ঘুড়ায় ক্লান্ত নন, কারন হেটে হেটে তিনি মুরাদনগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাড়ী বাড়ী পাড়ায় পাড়ায় লোকজনদেরকে মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজরিত গল্প শুনিয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করেন। আর্থিক অভাব অনটন থাকলেও কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে রাজি নন তিনি। যতই ঋণগ্রস্থ হোক না কেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যতিত কোন ব্যক্তি বিশেষের সাহায্য নিতে তিনি অপারগ। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে তিনি ঋণ মুক্ত হতে চান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের অন্তর্গত কাজিয়াতল গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের বড় ছেলে রোশন আলী ছোট বেলা থেকে ডানপিটে ও শুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। বাবা মায়ের অভাবী সংসারের হাল ধরতে ১৯৬৪ সালে তৎকালীন ঢাকা আদমজী জুটমিলে উইভিং (তাত) ডিপার্টমেন্টে মেশিনম্যান হিসেবে সপ্তাহে ১৪ টাকা মাহিনায় চাকুরী নেন। ১৯৬৯ সালের গন অভ্যুত্থানে তৎকালীন শ্রমিক নেতা সাজেদুল হক ছাদুর সাথে একাত্বতা ঘোষনা করে তার নেতৃত্বে আদমজী জোট মিলের শ্রমিক ইউনিয়ন, লেভার ইউনিয়ন ও এপলাইস উনিউনের ২৮ হাজার কর্মচারী সপ্তাহে ফেক্টুরি ৩ দিন বন্ধ রেখে হরতাল-ধর্মঘটসহ অন্যান্য কর্মসূচী পালন করেন। মহান স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনে অনুপ্রানীত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে সতস্ফুর্তভাবে অংশ নেয়। ৩৩ বছর বয়সে সাহসী রোশন আলী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যুদ্ধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আবদুল মতিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করে তার দুই সহকর্মী আবুল বাশার ও ফজলুকে সঙ্গে করে ভারতের বক্সনগর, সোনামোড়া, পালাটোনা, কাকরাবন, লাকসামের নির্ভয়পুর, বাঘের টিলা, মেলাঘর, মোহনতলি প্রশিক্ষন ক্যাম্পে দীর্ঘ ৩ মাস ১০ দিন প্রশিক্ষণ নিয়ে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে ২ নং সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুরাদনগরের পাচকিত্তা, কামাল্ল¬া, রামচন্দ্রপুর, পান্তি, বাশকাঁইটসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। কমান্ডার রোশন আলীর নেতৃত্বে ৩২ জন সহযোদ্ধা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পান্তিবাজারে মরণপণ লড়াইয়ে পাক হানাদার বাহিনীর মুখোঁমুখি হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ওই লড়াইয়ে পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। স্বাধীনতার সংগ্রামে জয়ী এ বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রোশন আলী জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে পারেননি। দেশমাতৃকার জন্য ব্যকুল এ মুক্তিযোদ্ধা দেশ ও জাতিকে নিজের চেয়ে বেশি ভালবাসেন বলে জীবনবাজী রেখে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার স্বপ্ন ছিল দেশকে স্বাধীন করবেন, তবে সে স্বপ্ন পূরণ হলেও নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন আজও স্বপ্নই রয়ে গেল। কমান্ডার রোশন আলী (৭২) বয়সের ভারে নুয়ে ১২ বছর যাবৎ উপজেলার কাজিয়াতল রহিম-রহমান মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে দু’চালা ছোট্ট একটি টিনের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রোশন আলী এ প্রতিবেদককে জানান, কয়েকমাস পূর্বে নিজ বাড়ীর বসত ভিটা বিক্রি করে ও কর্জের উপর টাকা এনে দুই মেয়েকে বিয়ে দেন। এখন ঋণের টাকার জন্য পাওনাদারের বিভিন্ন বৎসনা মাথা পেতে শুনতে হচ্ছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হিসেবে যে টাকা পান তা দিয়ে স্ত্রী ও তার বরন পোশন চলে না। তার পরও তিনি মরতে রাজী, কিন্তু কোন ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবেন না। তিনি শেষ বয়েসে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, এখনো প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গল্প শুনতে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রোশন আলীর বাড়ীতে ভীর জমায়।

Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply