৪শ’ শিক্ষার্থীর জন্যে ২ শিক্ষক

মো.হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর :

মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের পালাসুতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও শ্রেনী কক্ষের অভাবে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।..ছবি-হাবিবুর রহমান
মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের ১২৯নং পালাসুতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক, পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও শ্রেনী কক্ষের অভাবে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রাচীনতম বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের প্রচন্ড চাপ থাকলেও যথাযথ ভাবে শিক্ষক ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৪শ’। ২০১০ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ২ শিক্ষক সি-ইনএড প্রশিক্ষনে রয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা তনুজা রায় গত ৮ ডিসেম্বর থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি ভোগ করছেন। জামাল হোসেন ও নিপা সেন নামের ২ সহকারী শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। তন্মেধ্যে জামাল হোসেনকে একাই প্রধান শিক্ষকসহ বাকী ৩ শিক্ষকের কাজ করতে হয়। দাপ্তরিক কাজে তিনি জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেলে বিদ্যালয়ে মাত্র এক শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। কর্মরত শিক্ষকরা জানায়, সাধারণত সব শিক্ষক উপস্থিত থাকলে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর ক্লাশ দু’ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। এতে মোটামুটি শান্ত পরিবেশে পাঠদান করা সম্ভব হয়। কিন্তু শিক্ষক স্বল্পতা থাকলে তখন এক সঙ্গে সব শিক্ষার্থীর ক্লাশ নিতে হয়। তখন দু’জন শিক্ষকের পক্ষে পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শিক্ষকরা আরো জানায়, শিক্ষক সংকটের কারনে শ্রেনী ভাগ (সেকশন) করাও সম্ভব হচ্ছে না। শ্রেনী ভাগ করলে আরো শিক্ষকের প্রয়োজন। যে কারনে অনেক শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে পাঠদান করতে হয়। বিদ্যালয়ের সব ক’টি শ্রেনী কক্ষ মিলিয়ে বর্তমানে ৫৪ জোড়া বেঞ্চ রয়েছে। এতে প্রতিটি বেঞ্চে শিক্ষার্থীদের জড়সড় হয়ে বসতে হয়। বিদ্যালয় ভবনে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক মিলনায়তন কক্ষসহ ৩টি কক্ষ রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপাতে কক্ষ অপর্যাপ্ত। শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি পরিবেশে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৪শ’ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ২টি সৌচাগার, আছে পানির সংকটও। টিউবওয়েল থাকলেও তা’ অকেজো।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামরুল ইসলাম জুয়েল জানান, বিদ্যালয়ের ২জন শিক্ষকের মধ্যে কোন না কোন কারনে কেউ ছুটিতে থাকেন, ফলে যে কোন একটি ক্লাশ বাদ পড়ে, অথবা সব শ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এক সঙ্গে ক্লাশ করতে হয়, যা শিক্ষকদের জন্য একটি কঠিন কাজ, এ জন্য শিক্ষকরা ক্লাশ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়ে বেঞ্চ, কক্ষ, সৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব। এক বেঞ্চে ৬/৭ জন ছাত্র-ছাত্রী গাদাগাদি করে বসতে হয়। এতে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হতে পারে না। সমস্যার বিষয়টি নিয়মিত মৌখিক ও লিখিত ভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আলমগীর আলম সরকার অভিযোগ করে জানান, শিক্ষক স্বল্পতা ও শ্রেনী কক্ষের অভাবে এ বছর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করতে শিক্ষকরা অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। ফলে এ এলাকার কোমলমতি ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে না পারায় তাদের লেখাপড়া মারাত্বক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তনুজা রায় জানান, বর্তমানে স্কুলে কর্মরত দু’সহকারী শিক্ষক রয়েছে। ২০১০ সালে এ বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত দু’সহকারী শিক্ষক চাকুরীতে যোগদানের সাথে সাথেই সি-এনএড প্রশিক্ষনে রয়েছে। এ ছাড়া তিনিও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিশ্চিত করার জন্য ডেপুটেশনে শিক্ষক দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply