কুমিল্লার গ্রাম গ্রামে শীতের বাহারি সবজির সমাহার

সাকলাইন যোবায়ের :

কুমিল্লা সদর উপজেলার গ্রাম গুলো থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা ।

জেলা সদরের পাচথুবি,জগন্নাথপুর,বিবির বাজার,অরণ্যপুর, বাজগড্ডা,কাইপুর,গাজীপুর,গোলাবাড়ি,মাঝিগাছা, আমরাতলী এবং গোমতী নদী তীর সহ বিভিন্ন গ্রামে বাধাকপি, ফুলকপি, মূলা, শিম, টমেটো, ধনিয়া পাতা, পালং শাক, টক পালং,সরিষা সহ শীতকালীন সবজি চাষ করছেন কৃষকরা ।

এ সকল গ্রাম গুলোতে এখন শীতকালীন সবজির চোখ ধাধানো রঙ্গিন সমারোহে মন ভরে যায়। শীতকালীন মৌসুমি শাক-সবজিতে ভরে উঠেছে কৃষকের ক্ষেত খামার। গ্রামের বিস্তীর্ণ দিগন্তের ক্ষেত গুলোর দিকে তাকালে মনে হয় যেন সবুজের চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে।

বাধাকপি, ফুলকপি, মূলা, পালংশাক শীতকালীন এ সকল সবজি চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের সচ্ছলতা এসেছে। কুমিল্লার সবচেয়ে বড় সবজির বাজার নিমসার বাজারে এ সকল গ্রামের উৎপাদিত সবজি বিক্রি হয়। এছাড়া শহরের চক বাজার , রাজগঞ্জ,নিউ মাকের্ট, বাদশা মিয়ার বাজার, রানীর বাজার, হাউজিং এষ্টেট গোল মাকেট, বালুতুপা বাজার ,বিবির বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে ওই সব গ্রামের সবজি বেচা-কেনা হয়।

গোমতির তীরবর্তী অরণ্যপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম জানান, এবছর ১ বিঘা জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছে আশা করি ফলন ভাল হলে বাজারে বিক্রি করে দিগুন লাভ করতে পারব ।

পাচথুবি গ্রামের কৃষক মনু মিয়া বলেন , এবছর শীতের সবজি হিসেবে ২ বিঘা জমিতে মূলা চাষ করেছি,আশা করি তা বিক্রি করে অধিক মূল্য পাওয়া যাবে।

কুমিল্লার গোমতী তীরবর্তী পাচথুবি গ্রামের উৎপাদিত মূলা চট্রগ্রামের বিভিন্ন বাজারে ও রাজধানী ঢাকায় বিক্রি হয় । নদী পাড়ের এসকল গ্রাম গুলোতে শীতকালের মৌসুমি সবজি চাষ করে অনেক কৃষক তাদের সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। কুমিল্লার সীমান্তবর্তী গোমতী পাড়ের গ্রাম গুলোতে মৌসুমি ও শীতকালীন সবজি সহ বিভিন্ন প্রকার ফসল চাষ করে ওই সকল গ্রামের নিম্ন আয়ের লোকজনের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে।

জেলার চান্দিনা, দাউদকান্দি,মেঘনা, তিতাস, মুরাদনগর, বুড়িচং, বাক্ষনপাড়ার গ্রাম গুলোতে বিপুল পরিমান টমেটো উৎপাদিত হয়। যার দরুন গত বছর শীতে কুমিল্লার বৃহত্তম সবজি বাজার নিমসার বাজারে ১ টাকা কেজিতে টমেটো বিক্রি হয়েছে।টমেটোর উপযুক্ত দাম না পাওয়ার কারনে কৃষকরা টমেটো রাস্তায় এবং ড্রেনে ফেলে দিয়েছে ।

কৃষকরা মনে করেন, এখানে পর্যাপ্ত হিমাগার স্থাপন করলে কৃষকরা তাদের বহু কষ্টের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম পাবে। সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারী পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন করা হলে এ অঞ্চলের কৃষকদের দুঃখ লাঘব হবে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লার গোমতী নদীর তীরে বসে লিখেছিলেন , আজ মধুর বাঁশরী বাজে, বাজে মধুর বাঁশরী বাজে, আজও মনেহয় সহসা কখনো আমি ভুলে আছি ভুলেনি সে যেনো, গোমতীর তীরে পাতার কুটিরে আজও সে পথ চেয়ে সাজে, বাজে মধুর বাঁশরী বাজে। গোমতীর তীরে এখন কাজী নজরুল ইসলামের পাতার কুটির না থাকলেও গোমতী তীরের গ্রাম গুলোর জমি, মাঠ, ঘাট ও ক্ষেতে চোখ ধাধানো সবুজের সমারোহে মন ভরে উঠে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply