মুরাদনগরে স্কুল শিক্ষকের লঙ্কাকান্ড

স্টাফ রিপোর্টার, মুরাদনগর :
মুরাদনগরে এক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও নিরাপত্তা চেয়ে থানায় অভিযোগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার সকালে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক এক লঙ্কাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২জন অভিভাবক আহতও হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার শ্রীকাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগের তদন্ত করতে মুরাদনগর থানা পুলিশ রোববার সকালে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরই প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন দলবল নিয়ে স্কুলে গিয়ে উপস্থিত লোকজনের উপর চড়াও হয় এবং হামলা চালায়। এতে ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবক গোলাম মোস্তফা (৫২) ও হারুনুর রশীদ (৪০) আহত হয়। উল্লেখ্য, নানা অনিয়মের অভিযোগে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে স্কুল কমিটি তাকে বদলির আবেদন করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর দায়েরকৃত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষা কর্মকতা শামীম আহমেদ স্কুলের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনকে বারবার সংশোধনের নির্দেশ দেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও উক্ত শিক্ষকের আচরণ ঠিক করেননি। এ কারণে স্থানীয় এলাকাবাসী দিন দিন তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিষয়টি জটিল আকার ধারনের আশংকায় ওই শিক্ষকের কাছ থেকে পাওয়া আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তাকে পার্শ্ববর্তী চন্দনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন। অথচ ওই বদলির আদেশ উপেক্ষা করে শনিবার তিনি যথারীতি শ্রীকাইল স্কুলেই যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে স্কুলে যেতে বাঁধা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মুরাদনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, কয়েকদিন যাবত বদলির বিষয়টি স্থগিত রয়েছে, তবে উপজেলা চেয়ারম্যান এর পরামর্শে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশংকায়, তারই পছন্দের স্কুলে তাকে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি ওই বদলির আদেশ অমান্য করে পূনরায় শ্রীকাইল স্কুলে গিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছেন। তবে স্থানীয়রা যদি তার উপর হাত তুলে থাকেন তা’ও ঠিক করেনি।

এ ব্যাপারে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ সরকার জানান, প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে নানাহ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তাকে বদলি করা করেছি। তারপরও তিনি শনিবার শ্রীকাইল স্কুলে গেলে স্থানীয়রা বাঁধা দেন। কিন্তু তাকে আহত করার ঘটনা সত্য নয়। স্কুলের স্বার্থে কমিটি তার বদলি চাইতেই পারে। তা ছাড়া তিনি ১৩ বছর যাবৎ এ স্কুলেই আছেন।

এ ব্যাপারে মুরাদনগর থানার এসআই সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, আমি তদন্ত শেষে ওই শিক্ষককে সাথে নিয়ে থানায় ফিরে আসার পথে আত্মীয়ের বাড়ী যাবার কথা বলে তিনি বিষ্ণুপুর নেমে যান, এর পর কি হয়েছে আমার জানা নেই।

তবে স্কুলে দলবল নিয়ে গিয়ে লোকজনকে আহত করার ঘটনাটি মিথ্যা দাবি করে প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার বদলির ক্ষমতা রাখেন না। উদ্দেশ্যমূলক বদলির কারনে আমি উপরে অভিযোগ করেছি।

Check Also

দেবিদ্বারের সাবেক চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু: কঠোর নিরাপত্তায় গ্রামের বাড়িতে লাশ দাফন

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ভাণী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান (৫৫) করোনায় আক্রান্ত ...

Leave a Reply