চাঁদপুরে কালীবাড়ি মন্দিরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ নিয়ে বিরোধ

এ.একে.এম শাহেদ,চাঁদপুর, ২৯ ডিসেম্বর‘১০ (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :
শতাধিক বছরের পুরনো চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘কালীবাড়ি মন্দির’ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। একটি পক্ষ মন্দিরের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। যদিও এই কাজের উপর কালীবাড়ি মন্দির রক্ষা কমিটি দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। এরপরও কোনো ধরনের আইনের তোয়াক্কা না করেই অপর পক্ষ ভবনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে ঐতিহ্যবাহি মন্দিরের সৌন্দর্য রক্ষার দাবিতে সোমবার দুপুরে কালীবাড়ি মন্দির রক্ষা কমিটি অপর একটি পক্ষ সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত ওই সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কালীবাড়ি মন্দির রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সন্তোষ কুমার দাস। এই সময় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রনজিত কুমার বনিক, মুক্তিযোদ্ধা চন্দন পোদ্দার, দৈনিক ইলশেপাড়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বি এম হান্নান, শ্যামাপদ ঘোষ ভুলু, রাধা গোবিন্দ ঘোষ প্রমুখ। অবিলম্বে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ না হলে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও প্রতিক অনশনের মতো কর্মসূচি দেয়া হবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৮৭৭ সালে চাঁদপুর শহরে ঐতিহ্যবাহি ‘কালীবাড়ি মন্দির’ ১৬.২৫ শতাংশ জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে কালীবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র রায় তার কিছু অনুসারীসহ বেসিক ব্যাংকের সাথে চুক্তিপত্র সম্পাদন করে কালীবাড়ি মন্দিরে ভূ-সম্পত্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ওই চুক্তিপত্রের মাধ্যমে কোন নির্মাণ কাজ না হতে পারে সেজন্য জেলা জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করেন মন্দির কমিটির সদস্য শ্যামাপদ ঘোষ ভুলু। আদালত প্রার্থনা নামঞ্জুর করলে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করলে বিচারপতি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র রায় ও সভাপতি স্বদেশ রঞ্জন সাহাকে কালীবাড়ি মন্দিরের ভূমির দখল ও আকৃতি-প্রকৃতির অবস্থা পূর্বানুরূপ রেখে ওই ভূমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু ওই পক্ষটি স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান। এতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর লোকজন মন্দিরের সৌন্দর্য রক্ষার দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়ে সন্তোষ কুমার দাসকে আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট মন্দির রক্ষা কমিটি গঠন করে। কালীবাড়ি মন্দিরের ভূমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারপতির গোচরিভূত হলে মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ গত ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে এক হলফনামার মাধ্যমে শপথ করে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ তার জ্ঞাতসারে আসার সাথে সাথে তিনি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। অবশ্য এসব অভিযোগকে মনগড়া বলে মন্তব্য করেছেন কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ অপপ্রচার ছাড়া আর কিছুই নয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ভুল তথ্য দিয়ে চাঁদাবাজি করার উদ্দেশ্যে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সুভাষ চন্দ্র রায় জানান, চাঁদপুর জেলার মধ্যে ‘কালীবাড়ি মন্দির’ হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি অন্যতম তীর্থস্থান। এই মন্দিরের খালি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতিষ্ঠানের কারখানা ছিল। সেই কারখানাটি উচ্ছেদ করে সেখানে মন্দিরের তত্ত্বাবধানে একটি ৪ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর এজন্য বেসিক ব্যাংকের সাথে একটি চুক্তি হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের জন্য ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। মন্দিরের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছ থেকে এই অর্থের সংস্থান করা হবে। পরবর্তীতে বেসিকে ব্যাংকের কাছ থেকে দ্বিতীয় তলা থেকে প্রতিমাসে ৫১ হাজার টাকা ভাড়া বাবদ যে টাকা আসবে তা দিয়ে ভবনের বাকি কাজ ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা হবে। এই ভবনের তৃতীয় তলায় ছাত্রনিবাস ও চতুর্থ তলায় যাত্রী নিবাস করা হবে।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply