“র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘন তথ্য প্রকাশে অনাগ্রহ সরকারের” -উইকিলিকস

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২২ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অতীত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য প্রকাশে সরকারের একটি অংশ অনিচ্ছুক বলে এক তারবার্তায় জানিয়েছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি। উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন তারবার্তার উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত বছরের ১৪ জানুয়ারি এক তারবার্তায় এ কথা বলেন মরিয়ার্টি।

এর আগে ২০০৮ সালের ১১ অগাস্ট এক তারবার্তায় মরিয়ার্টি জানান, “র‌্যাব সম্পর্কে ধারণা নিতে এবং বাহিনীটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিভাবে কাজ করতে পারে তার উপায় বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বিচার মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল ১২-১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে। “সফরের শেষ দিন প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে। প্রতিনিধি দলের এসব বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের ইন্টার-এজেন্সি কাউন্টার টেরোরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।”

তারবার্তায় বলা হয়, “র‌্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সুত্র ধরেই আমাদের বর্তমানের প্রশিক্ষণ বা সহায়তার পরিকল্পনা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের ফলে র‌্যাবকে মানবাধিকার প্রশিক্ষণ ছাড়া অন্য কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।”

র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দিনের বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা র‌্যাবের আগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড এবং আইনের অপব্যবহার ঠেকাতে ও তদন্ত করতে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি ও ইউনিট পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে মানবাধিকার বিষয়টি রাখতে র‌্যাবের আগ্রহের বিষয়টি প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়।

মরিয়ার্টির ২০০৮ সালের ওই বার্তায় বলা হয়, “প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে আসে যে, অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য দিতে সরকারের আমলারা অনিচ্ছুক।

র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে উন্নতি বিষয়ে ২০০৭ সালে দূতাবাসের ইন্টার-এজেন্সি কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।”

বৈঠকে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়- উল্লেখ করে মরিয়ার্টি লেখেন, “কিন্তু প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ নেওয়া হলেও অগ্রগতি খুব সামান্যই। সফরকারী ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিবের সাক্ষাতে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিতে যৌথ কর্মসূচির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তিনি (উপসচিব) সামান্যই আগ্রহ দেখান।”

“লেহি লেজিসলেশন অনুসারে র‌্যাবের মানবাধিকার লঙ্ঘন বিষয়ে যথাযথ তথ্য বের করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করে প্রতিনিধি দল। সৌভাগ্যবশত স্বরাষ্ট্র সচিব আব্দুল করিমের ওয়াশিংটন সফরে উর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা অতীত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য প্রকাশের বিষয়ে চাপ দেন।”

র‌্যাবের ভূমিকা মূল্যায়নে প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বিচার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানানো হয় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টির তারবার্তায়।

সূত্র – দ্য গার্ডিয়ান, বিডিনিউজ

Check Also

রিয়াদে জ্যাবের ‘অমর একুশে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রির্পোটার :– “অমর একুশের চেতনায় গন মানুষের মনে জেগে উঠুক উজ্জলতা উৎকৃষ্টতা” শীর্ষক আলোচনা ...

Leave a Reply