বরিশালে প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আশরাফুল :তিতাসের মঙ্গলকান্দিতে শোকের ছায়া

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

সোমবার বরিশালের রহমপুরে বিমান বন্দর সংলগ্ন বিমান প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত স্কোয়াড্রন লিডার আশরাফুল ইবনে আহমেদ সুমন এর দেশের বাড়ী তিতাস উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের মঙ্গলকান্দি গ্রামে বিরাজ করছে শোকের ছায়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলকান্দি গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার নাজিম উদ্দিনের এক কন্যা শিউলী আক্তার ও তিন পুত্রের মধ্যে আশরাফুল ইবনে আহমেদ সুমন সকলের বড়। তার ছোট ভাই সোহেল আহমেদ ও মবিন আহমেদ। তিতাসের মঙ্গলকান্দি গ্রামে ইঞ্জিনিয়ার নাজিম উদ্দিন এর পরিবার ঢাকা ক্যান্টেনমেন্টস্থ সরকারী বাস ভবনে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও গ্রামের প্রতি ছিল অকৃত্রিম ভালবাসা। গত ঈদে আশরাফুল ইবনে আহমেদ সুমন তার বাবা-মা, ভাই-বোনকে নিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সর্বশেষ ঈদ উদযাপন করেন দেশের বাড়ীতে। নিহতের পরিবারের কেউ দেশের বাড়ীতে না থাকলেও আশরাফুল ইবনে আহমেদ সুমন এর চাচা-চাচী, কাকা-কাকী ও দাদা-দাদীসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের মাঝে বিরাজ করছে শোকের ছায়া। মঙ্গলকান্দি গ্রামের মোঃ জাকির মুক্তার জানান, নাজিম উদ্দিন আহমেদ এর বড় ছেলে আশরাফুল ইবনে আহমেদকে আমরা সুমন নামে চিনি ও জানি। ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করার মতো যোগ্যতা তার ছিল বলেই আজ অজপাড়াগায়ের একটি ছেলে পাইলট হতে পেরেছে। কিন্তু এই প্রদীপটি এত তাড়াতাড়ি নিবে যাবে তা আমরা আজ ভাবতে পারছি না। এটা শুধু তিতাসবাসীর জন্য গোটা কুমিল্লাবাসীর জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন। এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার বেলা ২টায় বিমানবাহিনীর হেড কোর্য়াটারে নিহত আশরাফুল ইবনে আহমেদ সুমন এর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য সোমবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীরের বাইরে ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিকাল ৫টায় নিহত দুই পাইলটের লাশ একটি কার্গো বিমানে করে ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, যশোর মতিউর রহমান বিমানঘাঁটি থেকে দুইটি পিটি-৬-৩৫১০ প্রশিক্ষণ বিমান দুপুর ১টার দিকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর দেড়টা নাগাদ বিমান দুইটি বরিশালের রহমতপুর বিমানবন্দরের আকাশে পৌঁছে প্রশিক্ষণ মহড়া দেয়। প্রায় ৩০ মিনিট মহড়া দেয়ার পর একটি বিমান ওপরের দিকে উঠে যায়। এর পরই হঠাৎ প্রচণ্ড গতিতে নিচের দিকে পড়ে যায়।

এদিকে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কোনো কারণ জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা। তবে বড় ধরনের কোনো সমস্যার কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ মো. জিয়াউর রহমানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply