যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে সোচ্চার কুবি’র শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

এম আহসান হাবীব, কুবি প্রতিনিধি :

মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ৪০তম বছরেও বিচার হয়নি যুদ্ধাপরাধীদের। সমাজ-সংস্কৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী বিভিন্ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বিজয়ের এই দিনে কঠিন শপথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে এদের বিরূদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। অতি দ্রুত বাংলার মাটিতে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। শুধু এতেই ক্ষান্ত হলে চলবে না, তাদের চেতনা লালনকারীদের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকলকে সজাগ-সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। গতকাল মহান বিজয় দিবসে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলের কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল এমনই সব দাবি ও চেতনাবোধের প্রকাশ। বিজয়ের দিনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পন, বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা প্রকাশ, আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণী। সামগ্রিক আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র সেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জি এম মনিরুজ্জামান। আলেচনা সভা সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাদেকা সাবরিনা হক। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক আলাউদ্দিন আহমেদ, রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রায়হান আহমেদ, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি কাজী জাহিদুর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর রশিদুল ইসলাম শেখ, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম্স বিভাগের প্রভাষক নজরুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক শামীমুল ইসলাম ও কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মফিজুর রহমান বাপ্পি, সেকশন অফিসার মোহাম্মদ নূরুজ্জামান প্রমুখ। ছাত্রদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন মাহমুদুর রহমান মাসুম, আল আমিন অর্ণব এবং,সৈয়দ শাহরিয়া মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্রছাত্রীবৃন্দ।

উপাচার্য আমির হোসেন খান বলেন, আজ বাঙ্গালীর বিজয়ের দিন, চির গৌরবের দিন। আজকে যারা এখানে বক্তব্য দিয়েছে এবং শুনেছে তাদের অধিকাংশই স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে জন্মগ্রহণ করেনি। তাই এ দিনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে রেখে পালন করলে চলবে না। দিনটির তাৎপর্য বুঝতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন করার জন্য সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আদর্শকে অনুসরণ করতে হবে। পাক হানাদার বাহিনীর এ দেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের সর্বক্ষেত্রে পরিহার করতে হবে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সকলকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। উপাচার্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতি শীঘ্রই বঙ্গবন্ধু রিসার্চ সেন্টার এবং শহীদ মিনার নির্মাণের ঘোষণা দেন। বিশেষ অতিথি গোপাল চন্দ্র সেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে যখন অনাহার, অর্ধাহার, দারিদ্র নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কিভাবে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা যায়। পাশাপাশি তিনি কুসংস্কার, সামাজিক অনাচার যেন না থাকে সেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। উপস্থিত সবাইকে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হওয়ার আহ্বান জানান।

Check Also

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি :– বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী ...

Leave a Reply