চান্দিনায় ৩৯ বছর পরও কাশিমপুর গণ-কবর সংরক্ষণ হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার, চান্দিনা::
মুক্তিযুদ্ধের ৩৯ বছর অতিবাহিত হলেও কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের পেইরারপাড় নামকস্থানে যুদ্ধস্মৃতি বিজড়িত দুটি গণ-কবর সংরণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ওই দুটি কবরে ৮ ব্যক্তির মরদেহ রয়েছে। এরা হলো কাশিমপুর পশ্চিমপাড়া’র মৃত গুরু চরণ সরকার এর ছেলে চিত্ত রঞ্জন সরকার, মৃত কৃষ্ণ দাসের ছেলে অমূল্য দাস, মাধাইয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক জগবন্ধু সরকার এবং তার ছেলে সুধীর চন্দ্র সরকার, মৃত শসি চন্দ্র সরকার এর ছেলে চেতন চন্দ্র সরকার, রামকৃষ্ণ সরকার এর ছেলে যোগেশ চন্দ্র সরকার, মৃত দ্বীনবন্ধু সরকার এর ছেলে শিশু চন্দ্র সরকার এবং রোহিনী শীল এর ছেলে কালু চন্দ্র শীল। এলাকার অনেকেই জানেনা এখানে দুটি গণ-কবর আছে। সরকারি খাস ভূমিতে ওই দুটি কবর থাকলেও খাস ভূমিগুলো দীর্ঘ বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্দোবস্ত নিয়ে দখল করে রেখেছে স্থানীয়রা। গণ-কবর গুলো এখন নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। অপরদিকে স্বজন হারাদের খোঁজ-খবর নেয়নি কেউ। এলাকাবাসী ওই দুটি গণ-কবরের স্থানে স্মৃতি স্তম্ভ করে তাদের নাম লেখার দাবি জানিয়েছেন।
জানাযায়, এরশাদ সরকার মতায় আসার পর কাশিমপুর গ্রামের গনি মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া, জিন্নত আলীর ছেলে দুধ মিয়া এবং লাল মিয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে গণ-কবর দুটির স্থানসহ ২১ শতাংশ ভূমি ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ওই গণ-কবর দুটি এখন গো-চরণের জায়গায় পরিণত হয়েছে।
কাশিমপুর গ্রামের বায়ান্ন বছর বয়সী প্রত্যদর্শী স্বপন দাস জানান, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এক রাতে পাশ্ববর্তী জোড়পুকুরিয়া গ্রামের রাজাকার আঃ রহিম এর নেতৃত্বে দেড়শতাধিক পাকিস্তানি সৈন্যের একটি বাহিনী কাশিমপুর পশ্চিম পাড়ায় হামলা চালায়। ওই গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বেশি। গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র পাকহানাদাররা গ্রামের মাতব্বর মাধাইয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক জগবন্ধু সরকার এবং তার ছেলে সুধীর চন্দ্র সরকারসহ প্রায় ২৫-৩০ ব্যক্তিকে আটক করে পাশ্ববর্তী একটি খালের কাছে নিয়ে আসে । ভোর ৬টার দিকে ৮ হিন্দু ব্যক্তিকে বর্বরোচিত নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করা হয়। এসময় আটককৃত মুসলিম ব্যক্তিদেরকে ছেড়েদেয় পাকবাহিনী। স্বাপন দাস আরও জানায় এসময় তার বয়স ১৪ বছর ছিল। শিশু বলে তার আরও কয়েকজন বন্ধুসহ তাদেরকে হানাদার বাহিনী একটি ঘরে বন্দি করে রাখে। ওই রাতে গ্রামের যুবতী হিন্দু মেয়ে ও নতুন বৌ দের অনেকেই সম্ভ্রম হারায়। ওই রাতে গ্রামের ৮০টিরও বেশি ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দেয় পাকবাহিনী। হানাদার বাহিনী চলে যাওয়ার পর আগুন নিভাতে ব্যস্ত হয়েপড়ে এলাকাবাসী। আবার অনেকেই পালিয়ে যায়। ওই বিভীষিকাময় অবস্থায় এলাকাবাসী নিহতদের ২টি কবর খুড়ে পুঁতে ফেলে।
নিহত জগবন্ধু মাষ্টারের ভাই রাখাল চন্দ্র সরকার (৬৫) জানান, বাংলা ১৯ আষাঢ়, শনিবার ভোরে ওই ঘটনা ঘটে। কবর গুলো সংরণ করেননি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই সময় নিজের জীবনের চিন্তা করে আমরা বিভিন্নস্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম। দেশ স্বাধীন হলে ওই ঘটনার প্রায় ১১ মাস পরে আমরা লাশগুলো তুলে ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী পোড়ানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ততদিনে লাশগুলো গলে গিয়েছিল। ফলে কবরগুলো গণ-কবরই রয়েগেছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...