পৌর নির্বাচনের গরম হাওয়া বইছে কুমিল্লার পৌরসভাগুলোতে

কুমিল্লা, ১২ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডট কম) :

অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়ে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর, আনন্দ সাগরে ভাসছে পৌর নির্বাচন প্রার্থীরা। খোশ মেজাজে আছে ভোটাররা। মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার পৌরবাসী, নবাগত প্রার্থী এবং মেয়র ও কাউন্সিলরদের মধ্যেও তিক্ততার ছায়া থেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণায়। প্রার্থীদের টেনশন ও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক কথায় কুমিল্লার জনপদ গুলোতে এখন নির্বাচনের গরম হাওয়া বইছে । প্রাথমিক ঘোষনার পর সদর ও সদর দক্ষিন পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করা হয় সিটি কর্পোরেশন হবার কারনে । এতে আনন্দের মাত্রা আরও বেড়ে যায় । তবে থেমে নেই বাকী সাতটি পৌরসভার প্রার্থীরা । উল্লেখ্য আইনগত জটিলতার কারনে নির্বাচন হচ্ছেনা নবগঠিত দেবিদ্বার পৌরসভায় ।

প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রথম সারির নেতা, ক্ষেত্র বিশেষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সহযোগিতা লাভের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি, নির্বাচনের সময় তুলনামূলক কম হওয়ায়, প্রার্থীরা গণসংযোগেও নেমে পড়েছেন। ঝিমিয়ে পড়া রাজনীতির মাঠ হয়েছে চাঙ্গা। দলীয় অফিস, চায়ের ষ্টল, হাট-বাজার, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস সহ সর্বত্রই নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২ ডিসেম্বর কমিশন দেশের সকল পৌরসভার নির্বাচন ঘোঘণা করে।

কুমিল্লাওয়েবের বিশেষ আয়োজন থাকছে নির্বাচন উপলক্ষে । এই পর্বে বিভিন্ন পৌরসভার নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রার্থীদের প্রচারনার চিত্র তোলে ধরা হল —-

বরুড়া পৌরসভা
বরুড়া পৌরসভায় মহাজোটের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা হয়নি এখনো । এতে নেতা কর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে ।

এ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ সমর্থীত-৭ জন নেতা পৌর মেয়র পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন এবং জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন ২ জন।

তারা হলেন বর্তমান মেয়র বাহাদুরুজ্জামান ,আওয়ামীলীগের সাবেক উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী বাচ্চু , আওয়ামীলীগের নেতা সাবেক ভিপি আবদুল মান্নান , বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম জাহাঙ্গির , আওয়ামীলীগের নেতা নাসির উদ্দিন লিংকন ,কামাল হোসেন , ছাত্র লীগ সভাপতি বকতার হোসেন। এ ছাড়া আওয়ামীলীগের হাজী আমির হোসেন ,গণ সংযোগ করে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন । তাছাড়া মহাজোটের প্রার্থীর আশায় জাপা নেতা মাষ্ঠার আবদুল বারিক , তাপস লাল দত্ত , মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন ।

মহাজোট প্রার্থী কে হচ্ছেন দলীয় নেতারা ও এ বিষয়ে কিছু বলছেন না ।উল্লেখ বরুড়া আওয়ামীলীগ ২ ভাগে বিভক্ত ,। আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন আগামী ২/১ দিনের মধ্যে আমাদের প্রার্থী নির্ধারণ হবে ।

অপর দিকে বিএনপিপৌরসভা নির্বাচনে, সোমবার পৌর এলাকার চান্দিনা রোডের এক সভায় তাদের প্রার্থী নির্বাচনে গোপন ভোটের মাধ্যমে উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ায় তাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই কারা হয়। একই নিয়মে বিএনপি পৌরসভার ৯ টি ওয়র্ডেও কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই করেন।

চান্দিনা পৌরসভা

চান্দিনা পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী নিয়ে এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। উভয় দল থেকেই একাধিক নেতাকর্মী ওই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে। দলীয় সমর্থনের জন্য ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় উপজেলা পর্যায়ে দলীয় নীতি-নির্ধারকদের সাথে লবিং অব্যাহত রাখা সহ ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৯৭ সালে চান্দিনা পৌরসভা গঠিত হয়। ওই সময় পৌর প্রশাসক ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী জাহাঙ্গীর আলম। ১৯৯৯ সালে পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আবদুল মান্নান সরকার মেয়র নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনের পর এটি চান্দিনা পৌরসভার দ্বিতীয় নির্বাচন। ২০০৫ সালে পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হলেও পৌরসভার নাগরিক সুবিধা আশানুরূপ বাড়েনি। এ বছর মেয়র নির্বাচনে ভোটাররা পৌরসভার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন।

মেয়র পদে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য সাতজন প্রার্থী মাঠে প্রাচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরা হলেন- বর্ষীয়াণ রাজনীতিক কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী। উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মো. আবু তাহের ভূইয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মো. শওকত হোসেন ভূইয়া, পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুল ইসলাম কমিশনার, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি কাজী গোলাম মোস্তফা, পৌর কাউন্সিলর আবদুল জলিল এবং মোখলেছুর রহমান দুলু মাষ্টার। আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর জন্যই কাজ করবে ক্ষমতাসীন মহাজোট এর নেতাকর্মীরা।

মেয়র পদে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছে পাঁচজন। এরা হলেন- পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. আলমগীর খান, পৌর বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম, পৌর বিএনপি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুল ইসলাম কমিশনারের ভাই। বিএনপি’র অপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ এর পরিচালনা পর্ষদ সদস্য ব্যবসায়ী আবদুল কাদের সরকার এবং হাজী মোসলেম উদ্দীন। চার দলীয় জোট বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করবেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে।

সম্প্রতি উভয় দলের একাধিক সভা হলেও একক প্রার্থী ঘোষণা করতে পারেনি আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি। ফলে এনিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত নেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখাদিয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগ গত শনিবার (১১ ডিসেম্বর) থেকে দলীয় প্রার্থী চুড়ান্ত করতে প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মহিউদ্দিন আহমেদ আলম জানান, গতকাল রবিবার পর্যন্ত সাত জন সম্ভাব্য প্রার্থী আবেদন করেছেন। রবিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী আবেদন জমা দেননি।

মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন একজন। তিনি হচ্ছেন বর্তমান মেয়র আবদুল মান্নান সরকার। শুধু মেয়র পদেই নয়, কাউন্সিলর পদেও প্রতিটি ওয়ার্ডে সক্রিয় রয়েছে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী। ওই পদের জন্যও একই পক্রিয়ায় দলীয় প্রার্থী বাছাই করা হবে।

নাঙ্গলকোট পৌরসভা

নাঙ্গলকোট পৌরসভায় ১ম বারের মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে সারাদেশের ন্যায় আগামী বছরের ১৮ জানুয়ারী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনকে ঘিরে পৌরবাসির মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস পরিলিক্ষিত হচ্ছে। হঠাৎ করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা নড়ে-চড়ে বসেছেন। প্রার্থীরা তাদের অনুসারী নেতাকর্মীদের নিয়ে জন সংযোগের প্রাথমিক আলোচনা ও শুরু করে দিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিকট দৌড়-ঝাঁপ ও শুরু করেছেন। পৌরসভার সর্বত্র আলোচনার টেবিলে পৌর নির্বাচন মূখ্য আলোচনায় পরিণত হয়েছে। ছোট চায়ের স্টল থেকে শুরু করে হোটেল, মুদি দোকান, হার্ডওয়্যার দোকান,্ ঔষধ দোকান সহ কোথায় নেই নির্বাচনের আলোচনা। ভোটাররা সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রার্থীর ভালো-মন্দ চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। তারা অধীর আগ্রহে রাজনৈতিক দলগুলোর চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ও এ ব্যাপারে সর্তক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
পৌরসভার নির্বাচন রাজনৈতিক দল গুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়। আওয়ামীলীগ ইতিমধ্যে মহাজোটের পক্ষ থেকে প্রার্থীর মনোনয়ন দেয়ার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। অন্য দিকে, বি এন পির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়নে এখনো আনুষ্ঠনিক ঘোষণা প্রদান না করলে ও শেষ পর্যন্ত জোটবদ্ধ ভাবে নির্বাচন সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা যায়।
নাঙ্গলকোটে আওয়ামীলীগের মধ্যে দলীয় কোন্দল না থাকলে ও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা প্রদান করেছেন। তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ত্যাগী নেতা ভিপি হুমায়ন কবির, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুদ্দীন কালু, সাবেক সংসদ সদস্য বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এ.কে.এম. কামারুজ্জামানের. যোগ্য উত্তর সূরী জামান’স ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মনিরুজ্জামান খাঁন, আওয়ামীলীগ নেতা, মানবাধিকার কর্মী, রফিকুল হায়দার মজুমদার, নাঙ্গলকোট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক ফজলুল হক মজুমদার ,উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য সচিব অধ্যাপক জাকির হোসেন।
অন্যদিকে বিশিষ্ট সমাজ-সেবক নুরুল আফছার নয়নও পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা প্রদান করেছেন। এদিকে উপজেলা বি.এন.পির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মজুমদার ও পৌর মেয়র পদে নির্বাচন করার ঘোষণা প্রদান করেছেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা বি.এন.পির দু’গ্র“পের মধ্যে প্রকাশ্যে দ্বন্ধ রয়েছে। কুমিল্লা জেলা বি.এন.পির উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল গফুর ভূইয়া গ্র“প থেকে চুড়ান্ত ভাবে পৌর মেয়র পদের কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি। বি.এন.পির অপর গ্র“প উপজেলা বি.এন.পি সভাপতি মোবাশ্বর আলম ভূইয়া গ্র“প থেকে পৌরসভা বি.এন.পি সভাপতি নুরুল আমিন জসিম এবং উপজেলা যুবদল সভাপতি আনোয়ার হোসেন ছোট নয়ন নির্বাচন করার ঘোষণা প্রদান করেছেন। আওয়ামীলীগের শরীক দল জাতীয় পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী জামাল উদ্দীন ও নির্বাচন করার ঘোষণা প্রদান করেছেন।
বি.এন.পির শরীকদল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে ও নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জামায়াতে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা হচ্ছে ,উপজেলা জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর মাষ্টার আবদুল করিম, পৌরসভা জামায়াতে ইসলামী আমীর মাওঃ শাহাবুদ্দীন মজুমদার।
নাঙ্গলকোট পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলরদের মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ১৯ ডিসেম্বর। মনোনয়ন পত্র বাছাই ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর এবং প্রার্থীতার প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২ জানুয়ারী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট পৌরসভা মোট ২১টি গ্রাম নিয়ে ঘটিত। ওয়ার্ড রয়েছে মোট ৯টি। ভোটার সংখ্যায় নতুন হালনাগাদ তালিকায় পুরুষ ৫শ ৩৫ এবং মহিলা ২শ ৭৮জন সহ মোট ভোটার হচ্ছে ১৩ হাজার ৮শ ৯৬ জন।
ওয়ার্ড ভিত্তিক ১নং ওয়ার্ড বেতাগাঁও পুরুষ ৩শ ৭৪জন, মহিলা ৪শ ৪৬ জন। শ্রীহাস্য পুরুষ ২শ ১৬ জন, মহিলা ২শ ৪০ জন। আতাকরা পুরুষ ১শ ২০জন , মহিলা ১শ ৫৯জন। ২নং ওয়ার্ড দৌলতপুর পুরুষ ১শ ৭৮ জন, মহিলা ২শ জন।নাওগোদা পুরুষ ৪শ ১৪জন,মহিলা ৪শ ৯৯জন। ৩নং ওয়ার্ড গোত্রশাল পশ্চিমাংশ পুরুষ ১শ ৮৩ জন , মহিলা ১শ ৯৫ জন। পূর্বদৈয়ারা পুরুষ ২শ ৫৬ জন, মহিলা ৩শ ৮৪জন। হরিপুর পশ্চিমাংশ পুরুষ ৬শ ২০জন, মহিলা ৬শ ৪৫জন। ৪নং ওয়ার্ড হরিপুর পূর্বাংশ পুরুষ ৫শ ৯৮ জন, মহিলা ৬শ ৫২জন। ৫নং ওয়ার্ড চৌঘুরী পুরুষ ৩শ ৩৪জন, মহিলা ৪শ ৫জন। দাউদপুর পুরুষ ৩শ ৯৭জন, মহিলা ৪শ ৯৪জন। ৬নং ওয়ার্ড গোত্রশাল পূর্বাংশ পুরুষ ১শ ৭৩জন, মহিলা ১শ ৯৯জন। নাঙ্গলকোট পুরুষ ৩শ ১১জন,মহিলা ৩শ ৬৮জন। অশ্বদিয়া পুরুষ ১শ ৬০জন, মহিলা ১শ ৯৮জন। ৭নং ওয়ার্ড কেন্দ্রা পুরুষ ১শ ৮০জন,মহিলা ১শ ৯০জন। মান্দ্রা পুরুষ ২শ ৩৮জন, মহিলা ২শ ৭৫জন। জোড়পুকুরিয়া পুরুষ ১শ ৪জন,মহিলা ১শ ৫৪। ৮নং ওয়ার্ড বিষরা পুরুষ ১শ ৯৩জন,মহিলা ২শ ২৯জন। শ্রীকান্তা পুরুষ ১শ ৮১জন,মহিলা ২শ ৪০জন। ৯নং ওয়ার্ড বাতুপাড়া পুরুষ ৪শ ৮৯জন,মহিলা ৫শ ৩৬জন। ধাতিশ্বর পুরুষ ২শ ৬৫জন, মহিলা ২শ ৯১জন।

দাউদকান্দি পৌরসভা

নিবার্চন কমিশন পৌরসভা নির্বাচন তারিখ ঘোষনার পর থেকেই দাউদকান্দি পৌরসভার সর্বস্তরে আলোচিত হচ্ছে কে হবেন মহাজোটের পৌরসভার মেয়র প্রার্থী। মহাজোটের দলীয় মনোয়ন পেতে এ নিয়ে চলছে লবিং । আগামী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে আত্তয়ামীলীগ থেকে যারা মনোয়ন পেতে লবিং করছেন তারা হলো বর্তমান মেয়র শাহ-আলম চৌধুরী, উপজেলা আত্তয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড.আহসান হাবীব লিল মিয়া চৌধুরী, পৌরসভা আত্তয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার মোঃ খোরশেদ আলম, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দীন সিকদার, পৌর আত্তয়ামীলীগের নেতা ও বর্তমান পৌর কাউন্সাল মিলন খন্দকার, শাহজাহান চৌধুরী, নেয়ামুল চৌধুরীসহ আরো অনেকেই আত্তয়ামীলীগের মনোয়ন পেতে বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) সুবিদ আলী ভূইয়া এমপি’র কাছে দৌড়ঝাপ দিচ্ছেন। তবে আত্তয়ামীলীগের পক্ষ থেকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য এখনি কোন মন্তব্য করতে রাজি নয়। এদিকে পৌরবাসি বলছেন সংসদ সদস্য কাকে রেখে কাকে মনোয়ন দিবেন এ নিয়ে তিনি পড়েছেন চরম বিপাকে। অপরদিকে বিত্রনপি থেকে মনোয়ন চাইবেন সাবেক পৌরসভার চেয়ারম্যান ও বিত্রনপি নেতা নাসির উদ্দীন আহম্মেদ, পৌর বিত্রনপি’র সভাপতি ভিপি আব্দুল সাত্তার এবং জাতীয় পার্টি থেকে মনোয়ন চাইবেন আল-মাহমুদ মাখন আখন্দ।

হোমনা পৌরসভা

২০০২ সালে হোমনা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও পৌর চেয়ারম্যান বা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন সময়ে পৌর প্রশাসক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ মামলা মোকদ্দমা, সীমানা নির্ধারন সহ বিভিন্ন জটিলতার কারনে হোমনার পৌরসভা নির্বাচন বিঘ্নীত হয়ে আসছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষীত পৌরসভা নির্বাচনের আনন্দে উৎফুল্ল প্রার্থী ভোটার সকলেই। পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৩৪২ জন ভোটার ভোট প্রয়োগ করে নির্বাচিত করবেন তাদের কাঙ্খিত মেয়র ও কমিশনার বৃন্দকে তবে মেয়র ও কমিশনার প্রার্থীর বেশ কয়েকজন এখানে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে।

পৌরসদরের অন্যতম কমিশনার প্রার্থী মানিক মিয়া ইমন ও আবদুল বাতেন জানান মেধা প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে তারা পৌর এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান । এদিকে মেয়র পদে দুই এ্যাডভোকেট ও সদরের সাবেক দুই প্রধান চেয়ারম্যান নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ন হয়েছেন। জনপ্রিয় সাবেক দুই চেয়ারম্যানের মধ্যে মেয়র প্রার্থী মোঃ হারুন মিয়া জানান, তার দাদা ও পিতার পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ৩০ বছর ধরে শুধু পৌরসভা এলাকা নয় পুরো উপজেলা বাসীর সেবা করে আসছেন। মূলত এ পরিবার ১শ বছর ধরে হোমনাবাসীর সেবা করে আসছে তার জন্য প্লাস পয়েন্ট তার ছোট ভাই জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান।

এদিকে শ্রীমদ্দি গ্রামের প্রধান ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জলিল মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতার জন্য নারায়ণগঞ্জের ব্যবসাস্থল ছেড়ে বর্তমানে গ্রামের বাড়ীতে অবস্থান করছেন। বার্ধক্যকে হার মানিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তিনি ।

অপর দিকে যুক্তি তর্কে লড়াই করছেন দুই এ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা ও নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলাম উপজেলা কেন্দ্রিয় সমবায় এর নবনির্বাচিত চেয়রম্যান হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান আজিজ মোল্লা সদরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে প্রত্যেকেই মেয়র হিসেবে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের ভোট ও দোয়া কামনা করছেন ।

কমিশনার পদে নবীন প্রবীনদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্তিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে সেনা মোতায়েন না হলে ভোট কারচুপি ও সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে এমনটাই অভিজ্ঞ মহলের ধারনা।

চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা
আগামী ১৮ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার প্রথম নির্বাচন। তফসিল ঘোষণার পরই পৌর এলাকায় বইছে নির্বাচনী উত্তাপ। সম্ভ্যাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নেমে পড়েছেন নির্বাচনী মাঠে। শুরু করেছে গণসংযোগ। যাচ্ছেন ভোটাদের বাড়ি বাড়ি। পৌরসভা নির্বাচনে দিন দিন মেয়র প্রার্থীদের তালিকা বাড়ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের ৪ জন, বিএনপির ৩ জন, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ইসলামীর ১ জন করে প্রার্থী রয়েছে। এছাড়াও স্বতন্ত্র ব্যানারে রয়েছেন আরো ২ মেয়র প্রার্থী।

ইতিমধ্যে মেয়র পদের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৬ জন। আওয়ামী লীগের সম্ভ্যাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন, চৌদ্দগ্রাম সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন পাটোয়ারী, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জিএম মীর হোসেন মীরু ও উপজেলা যুব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ নূরে আলম জিকু মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

বিএনপির প্রার্থীরা হচ্ছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব শাহ আলম, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ড. জিএম গোলাম রাব্বানী (নয়ন বাঙ্গালী) ও বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন মিয়াজী মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

জাতীয় পার্টির একমাত্র প্রার্থী উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ও চৌদ্দগ্রাম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম।

জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমীর ও চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মোঃ শাহাব উদ্দিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মছরুর হোসেন আজাদ।

উল্লেখ্য চারদলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৩ সালের ২১ এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির এক আদেশে চৌদ্দগ্রামকে পৌরসভা ঘোষণা দেওয়া হয়। চৌদ্দগ্রাম সদর ইউনিয়নের ১৭টি ও বাতিসা ইউনিয়নের ৬টি গ্রামকে নিয়ে এই পৌরসভা গঠিত হলেও দীর্ঘ ৭ বৎসরে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে পৌরসভার সার্বিক কার্যক্রমে শুরু থেকেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।

বিগত ২০০৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ ধার্য্য ছিল। কিন্তু মামলা জনিত কারণে নির্বাচনের একদিন আগে হাইকোর্টের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

এদিকে, প্রথমবারের মত চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি বেড়েই চলছে নির্বাচনী উত্তাপ।

লাকসাম পৌরসভা
লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য মেয়র পদে ৩জন, ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৮জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। রোববার লাকসাম উপজেলা রিটার্নিং অফিসার জানান, মেয়র পদে আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসাবে অ্যাড.ইউনুছ ভূইয়া, হাজী আবুল কাশেম, বিএনপি’র প্রার্থী হিসাবে সুভাষ বনিক মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এ দিকে কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে জাহিদ হোসেন দুলাল, আবু ছায়েদ (জাপা), সোলাইমান মানিক, সামছুল হক, ৩নং ওয়ার্ডে শহিদুর রহমান, ৪নং ওয়ার্ডে বাহার উদ্দিন বাহার, ৫ নং ওয়ার্ডে আবদুর রশিদ, শাহআলম চৌধুরী, ৬নং ওয়ার্ডে ওমর ফারুক, মনু মিয়া (বিএনপি), আবদুস সাত্তার, আবদুল মান্নান, জসিম উদ্দিন, ৭নং ওয়ার্ডে ফেরদাউস আলম, অহিদুর রহমান, শাহ আলম মজুমদার, রাশিদা বেগম (আঃলীগ), কাউসার আলম, জসিম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন (সংবাদপত্র বিক্রেতা), ৮নং ওয়ার্ড আনোয়ার হোসেন,দুর্জয় সাহা, সুমন ভট্টাচার্য, ফজলুল হক (আঃ লীগ), সফিকুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ডে গোলাম রাব্বানী মজুমদার (আঃলীগ) মননয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন এস জে উজ্জ্বল, মাসুমুর রহমান মাসুদ, জামাল উদ্দিন স্বপন, এক এ হোসেন ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply