চৌদ্দগ্রামে গণপিটুনীতে ২ ডাকাত নিহত

মো: আবদুল জলিল রিপন, চৌদ্দগ্রাম :

চৌদ্দগ্রামের কাশিনগর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া (দাতামা) গ্রামে বুধবার গভীর রাতে আন্তজেলা ডাকাত দলের দু সদস্য গনপিটুনীতে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দু’ ডাকাত গণপিটুনীতে নিহত হওয়া এবং ডাকাতির ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকার লোকজন জানান, সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল বুধবার দিবাগত গভীর রাতে দাতামা গ্রামের আলী হোসেন, করিম ও মহব্বত আলীর বাড়ি ঘেরাও করে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। এ সময় পাহাড়ারত জনগণ ডাকাতদের ধাওয়া করে শাকিল ও রবি নামের দু’জনকে আটক করে গণপিটুনী দেয়। অন্যান্য ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এদিকে, গণপিটুনীতে মারাত্মক আহত শাকিল ও রবিকে গতকাল ভোর রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার এস আই অলক বড়–য়া উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই ডাকাতের মৃত্যু হয়। নিহত ডাকাত রবি জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে এবং অপর ডাকাত শাকিল কুমিল্লা শহরের ধর্মপুর দীঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে ওই এলাকার বাসিন্দা সহিদুল হক শাহীন, শাহ আলম মেম্বার, জাহাঙ্গীর আলম, মিজানুর রহমান, হুমায়ুন কবির, নোয়াব মিয়াসহ গ্রামবাসীরা জানান, সাতবাড়িয়া (দাতামা) গ্রামসহ আশে পাশের গ্রামগুলোতে প্রতিবছর ধান কাটা শেষে শুষ্ক মৌসুমে চুরি ডাকাতির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। তাই আতংঙ্কিত দাতামা গ্রামবাসী পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করে। বুধবার গভীর রাতে আন্তজেলা ডাকাত দলের ১৫/২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল দাতামা গ্রামের আলী হোসেন, আবদুল করিম ও রেশমত আলীর বাড়িতে হানা দেয়। এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে দাতামা গ্রামসহ আশ-পাশের গ্রামের কয়েকহাজার লোক একত্রিত হয়ে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ডাকাতদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে ডাকাতরা এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করে পালিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির পার্শবর্তী ধান ক্ষেতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় দুই ডাকাতকে আটক করে গণপিটুনী দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দাতামা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ডাকাত প্রতিরোধে একটি জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বক্তব্য রাখেন চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি কামরুল হাসান , ওসি (তদন্ত) মাহবুুব আলম, এসআই অলোক বড়–য়া, সহিদুল হক শাহীন, মজিবুর রহমান বাবলু, শাহ আলম মেম্বার, মিজানুর রহমান, ডা. জাহাঙ্গীর আলম, মোয়াজ্জেম হোসেন, আফসার উদ্দিন। এ ব্যাপারে দাতামা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আলী হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫/২০জন ডাকাতের বিরুদ্ধে এবং চৌদ্দগ্রাম থানার এস আই অলক বড়–য়া বাদী হয়ে দুই ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানা পৃথক মামলা দায়ের করেন।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply