ঘাতকের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি:দেবিদ্বারে স্কুল ছাত্র খুন হওয়ার ৩৩ দিন পর ঘাতক গ্রেফতার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্কুল ছাত্র পারভেজের খুনি ঘাতক আল আমিন।----ছবি-কুমিল্লওয়েব
এম.এ হোসেন ::::
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জয়পুর (কামারচর) গ্রামের চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্র পারভেজ খুন হওয়ার ৩৩ দিন পর থানা পুলিশ ওই ঘাতক আল আমিন (২১)কে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে।
কেন ছোট্ট শিশু পারভেজ খুন হলো:::
ঘাতক আল আমিন ছিল পারভেজের বাড়ির আ: ছাত্তারের ছেলে সর্ম্পকে চাচা। চট্টগ্রামে একটি বেকারীতে চাকুরী করতো সে, গত অক্টোবর মাসে তার চাকুরী চলে যায়। চাকুরী চলে যাওয়ার পরে সে আর্থিক সমস্যায় সম্মুক্ষীন হয়। তাই ওই সমস্যা থেকে বাচতে ঘাতক আল আমিন বেছে নেয় খুনের মত এত জঘন্নতম অপরাধ। সিদ্ধান্ত নেয় পারভেজকে খুন করে মুক্তিপন হিসেবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার।
কিভাবে পারভেজকে অপহরন করা হয়::
সে দিন ছিল শুক্রবার (জুম্মাবার) নামাজ শেষে পারভেজ জয়পুর গেলে একশত টাকা দেবে বলে প্রলোভন দেখায় ঘাতক আল আমিন। ঘাতকের প্রলোভন বুঝতে না পেরে মৃতুর দরজার দিকে হাটতে শুরু করে পারভেজ।
কিভাবে পারভেজকে খুন করা হলো::
তারিখ ৫ নভেম্বর,সময় আনুমানিক ৩টা, একই গ্রামের আড়াইওরা বাড়ির দিঘীরপাড়ে পারভেজকে নিয়ে যায় ঘাতক আল আমিন এবং এক হাতে পারভেজের গলায় ও অন্য হাতে মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোদ্ধ করে হত্যা কারে। হত্যার পর ঘটনাস্থলেই লাশ ফেলে চলে আসে এবং পরে রাত যখন ১০টা, তখন পারভেজের লাশ কাধে বহন করে ধানের ক্ষেতে ফেলে দিয়ে আসে আল আমিন।
যেভাবে মুক্তিপন চাওয়া হয়:::
৬ও ১০ নভেম্বর গভীর রাতে আল আমিন ৩ লক্ষ টাকার মুত্তিপন দাবী করে দুটি চিঠি পারভেজের ঘরের দরজায় দিয়ে আসেন। ওই চিঠি পাওয়ার পর পুলিশ প্রশাসন ও তার পারিবারের সদস্যরা অপহরনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
পুলিশ কি ভাবে লাশ উদ্ধার করেন:
গত ১৫ নভেস্বর বিকেলে এলাকার নজরুল ইসলাম জমি দেখতে গিয়ে ওই স্কুল ছাত্র পারভেজের ৫ খন্ডের গলিত লাশ দেখতে পায়। এ খবর মূহুর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এক নজর লাশ দেখতে শতশত উৎসুক জনতা ভীড় জমায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধার করে।
লাশ কিভাবে ৫ খন্ড হলো::
ঘাতকের স্বীকারোক্তিতে পাওয়া যায় পারভেজের লাশ জমিতে ফেলে আসার পরে শিয়াল কুকুর টেনে হেছড়ে খন্ড বিখন্ড করে ফেলে।
খুনের পর ঘাতক যে ভাবে গা ডাকা দেয়::
পারভেজকে খুন করে ঘাতক আল আমিন ঠান্ডা মাথায় এলাকায় ঘোরাফেরা করে ২১ নভেম্বর চট্টগ্রামে চলে যায়।
পুলিশ যেভাবে গ্রেফতার অভিযান চালায়::
ওসি জাহেদুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার উল্লাহ ও এসআই শাহ কামাল আখন্দ বিভিন্ন ভাবে তদন্ত করেন। গত সোমবার এলাকার যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওসি জাহিদুল ইসলাম। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায় আল আমিন মিথ্যা কথার আশ্রয় নিলে পুলিশের সন্ধেহের চোখ তার দিকে চলে যায়।
ঘাতক যেভাবে গ্রেফতার হয়::
সন্ধেহের সূত্র ধরে পুলিশ আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করেন আল আমিনকে এবং হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (৭ডিসেম্বর) ওই ঘাতক আল আমিনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
ঘাতকের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি:
রাতে পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে আল আমিন ওই স্কুল ছাত্র পারভেজকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে এবং বুধবার দুপুরে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেটের আদালতে তাকে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় হত্যার কথা স্বীকার করেন। এব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম জানান, অকান্ত পরিশ্রমের পর খুনিকে সনাক্র ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য আমি ওই এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানাই, কারন তারা আমাদেরকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...