পিতা ও পুত্রের পরকীয়া প্রেমের প্রতিযোগিতা :নাঙ্গলকোটে পীরের ভন্ডামি

জামাল উদ্দিন স্বপন :
কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার মৌকারা দরবারের বর্তমান পীর গত রমজান মাসে কুমিল্লা চান্দিনা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাও : আবদুল কাদেরের স্ত্রীর সাথে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। যা মাও : কাদের নিজেই সর্বত্র প্রকাশও করে এবং বিভিন্ন মহলের নিকট ভন্ড পীর নেছারের শাস্তি দাবি করেন, সেই রেশ কাটতে না কাটতেই পীর নেছারের পুত্র, কুমিল্লা জেলার ছাত্র হেযবুল্লাহর সভাপতি মাসউদ (গত ৭ই নভেম্বর) প্রেমিকা সাদিয়া কে নিয়ে চৌদ্দগ্রাম হোটেল টাইম স্কয়ারে যায় । সেখানে দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর ও দুজই কক্সবাজার যাওয়ার পথে রওয়ানা হয় কিন্তু বিধিবাম, মাতালের কারণে বেপোরোয়া গতিতে গাড়ী চালাতে গিয়ে দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। দূর্ঘটনা কবলিত হওয়ার পর সাদিয়া আহত হয় এবং তাকে মিয়া বাজার কালিকা পুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার পর হাসাপাতালের গাড়ির ড্রাইভার জনৈক মিলন পীর নেছারের পুত্র মাসুদের প্রেমিকা (সাদিয়া) কে তার পিতা লাকসামের জনৈক জাহিদ মাওলা হেলালের কুমিল্লা টমছম ব্রীজের বাসায় পৌঁছিয়ে দেয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ।

উল্লেখ্য লাকসামের জনৈক জাহীদ মাওলা হেলালের মেয়ে সাদিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেমে চৌদ্দগ্রাম ফাঁড়ি থানায় আটক হয় এবং তাদের থেকে দুটি মোবাইল জব্দ করেন ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ ‘শ্যামল বাবু’। পরে অবশ্যই তাদের কে পীর নেছার বাহিনীর প্রধান সমন্বয় কারী মৌকারা দরবারের ডাইরেক্টর শিক্ষক আনোয়ার হোসেন সহ কয়েক জন মিলে মোটা অংকের বিনিময়ে মোচলেকা দিয়ে ফাঁড়ি থানা থেকে ছাড়িয়ে আনে। ঐ মেয়েটি ও সদ্য তালাক প্রাপ্ত বলে জানা যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, পীর নেছারের পুত্র মাসউদ আজ দীর্ঘদিন তার প্রেমিকা সাদিয়ার সংগে গভীর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। মাসউদের প্রেমিকা সাদিয়া বিভিন্ন সময়ে প্রেমিকের বাড়ীতেও আসে। ছেলের বাবা মা,মেয়ের বাবা মা, আগ থেকেই এই সম্পর্কের কথা জানত। জেনেও এ ব্যাপারে কোন সময় তারা তাদের ছেলে মেয়েকে শাসন করেননি।

পীরের সব কিছুই কি সমালোচনার উর্ধ্বে থাকবে। মাহফিলে মাও : সাহেবেরা ওয়াজ করে থাকেন পীরের কোন কাজ নিয়ে সমালোচনা করা যাবেনা। এ চিন্তা ধারা কতটুকু সঠিক। পীর সাহেব নামায না পড়লেও কি চলবে ? পর্দা না করলেও চলবে? সব আমল কি শুধু মুরিদের জন্য । পীর তার মুরিদের বউ এর সাথে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত,পীরের ছেলে মুরিদের মেয়ে নিয়ে থানায় আটক হয় এ কোন দেশে আমরা বাস করছি। এ ধরনের ভন্ড পীরদের কারনে হক্কানী পীরগনও সমালোচিত হচেছ। যা কখনো কাম্য নয়।

সরেজমিনে ঘুরে ছারছীনা সিলসিলার অনেক মুরিদের সঙ্গে আলাপ করলে ,অনেকেই তাদের ক্ষোভের কথা প্রতিবেদককে জানান।

তারা বলেন মৌকরার পীর ওয়ালী উল্লাহ (রহ:) থাকতে মৌকরা দরবারে এ ধরনের কোন অসামাজিক কাজ ও অনিয়ম চোখে পড়েনি কিন্তু পীর সাহেবের মৃত্যুর পর ৪টি বছর যেতে না যেতেই ওনার ছেলে বর্তমান পীর নেছার ও তার ছেলে মাসউদ কি শুরু করল। অনেক মুরিদ আরো জানান তাদের এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য আমরা আজ সমাজে সমালোচণার পাত্র এবং রাস্তায় বেরুলেই মানুষ প্রশ্ন করে আপনাদের পীরের এ গুলো কি শুনি । তখন আমরা খুব লজ্জায় পড়ে যাই।

মৌকরা দরবারের ঐতিহ্য পীর নেছার ও তার ছেলে মাসউদের কারনে কি শেষ হয়ে যাবে। পিতা পুত্রের প্রেম প্রতিযোগীতার অবসান কবে হবে। মৌকরা দরবার কি এই পিতা পুত্রের দ্বারা উজ্জল হবে, নাকি শেষ হয়ে যাবে দেশবাসী সে দিকেই তাকিয়ে আছে।

এদিকে পীর নেছারের পুত্র মাসউদ যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান পরিচয় বহন করায় নানা জনে নানা মন্তব্য করছে। শিক্ষিত ও ছটকে পড়া মুরিদদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন ‘লাইক ফাদার, লাইক সান’( যেমন পিতা তেমন পুত্র)। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন ‘বাপ কা ব্যাটা সিপাহী কা ঘোড়া’।

তবে পীর নেছারের দরবারের সুবিধা ভোগী কতিপয় স্বার্থলোভী ব্যক্তি ঐ ঘটনা কে বানোয়াট বলে বিভিন্ন স্থানে প্রচার করছে। তাদের এ প্রচার কে হাতে গোনা কিছু মানুষ ছাড়া (অন্ধভক্ত) মুরিদ সকলে প্রত্যাক্ষান করেছে। কুমিল্লা, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট সেনবাগ সাধারণ মানুষের মন্তব্যে জানা গেছে, পীর নেছার তার ছেলে মাসুদের প্রেম কাহিনী ভিন্ন হলে ও একই সুতায় গাঁথা।
মৌকারা পীরের এই সেই গাড়ি

মৌকারা পীর নেছার উদ্দিন যে গাড়িতে চড়ে সর্বত্র ভ্রমণ করতেন এমন কি কয়েক বছর ধরে কুমিল্লা টমছম ব্রীজের কাদের মঞ্জিলে প্রেমিকা কামরুন্নাহারের সাথে আনন্দ উৎসব করতেন সেই গাড়িতে চড়েই তার অবর্তমানে তারই সুযোগ্য(!) পুত্র কুমিল্লা জেলার ছাত্র হেযবুল্লাহর সভাপতি মিষ্টার মাসুদ তার পিতার মুরিদ লাকসামের জনৈক জাহিদ মাওলা হেলালের মেয়ে সাদিয়ার সাথে পরকীয়া প্রেমে হাবুডুবু খেতে গিয়ে গত ৭ই নভেম্বর চৌদ্দগ্রাম মিয়াবাজার নামক স্থানে দুর্ঘটনা কবলিত হয়। ছবিতে দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি কে ক্ষতিগ্রস্ত দেখা যাচ্ছে। সাদিয়া ও মাসুদ প্রেমিক যুগোল ও গাড়িটির করুন অবস্থা সেই দিন মিয়া বাজার শত শত মানুষ প্রতক্ষ করেছে।

উল্লেখ্য গাড়িাট ও প্রেমিক যুগোল কে ফাঁড়ি থানা পুলিশ আটক করে থানা নিয়ে গেলে মিয়া বাজার এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিত্ব জনৈক ইন্ডিয়ার দরবেশের পুত্র মোহাম্মদ নেছারের সহযোগিতায় গাড়িটি ও প্রেমিক যুগোল মুক্তি পায় বলে স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply